×
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিরোধী দলকে সভাপতি না দেওয়ায় সংসদে তীব্র বিতর্ক, যা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৩ ১১:১৩:৪৮
বিরোধী দলকে সভাপতি না দেওয়ায় সংসদে তীব্র বিতর্ক, যা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে আরও ১০টি সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে এসব কমিটির কোনোটিতেই বিরোধী দল থেকে সভাপতি না রাখায় সংসদে উত্তেজনা তৈরি হয়। এর প্রতিবাদে বিরোধী দলের অধিকাংশ সদস্যকে সংসদ কক্ষ থেকে বেরিয়ে যেতে দেখা যায়। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে ওয়াকআউটের ঘোষণা দেওয়া হয়নি।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাতে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে এ ঘটনা ঘটে।

জাতীয় সংসদে মোট ৫০টি সংসদীয় কমিটি রয়েছে। এর মধ্যে ৩৯টি মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত এবং ১১টি সংসদ-সম্পর্কিত কমিটি। বুধবারের ১০টি কমিটি গঠনের পর এখন পর্যন্ত মোট ২৫টি কমিটি গঠিত হয়েছে। এর মধ্যে ১৯টি মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত।

জুলাই জাতীয় সনদের প্রস্তাব অনুযায়ী, ৫০টি সংসদীয় কমিটির মধ্যে আসনসংখ্যার অনুপাতে বিরোধী দলের ১৪টি কমিটির সভাপতি হওয়ার কথা। এর মধ্যে ১০টি মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত কমিটি।

তবে এখন পর্যন্ত বিরোধী দল শুধু সরকারি হিসাব-সম্পর্কিত কমিটির সভাপতির পদ পেয়েছে। বুধবার নতুন করে ১০টি কমিটি গঠন হলেও কোনো কমিটির সভাপতির পদ বিরোধী দলকে দেওয়া হয়নি।

এ নিয়েই সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে সংসদে বিতর্ক শুরু হয়।বুধবার দিনের শেষ কার্যসূচিতে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম ১০টি স্থায়ী কমিটি গঠনের প্রস্তাব সংসদে তুললে তা পাস হয়।এরপর পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের সরকারি দলের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন।

তিনি বলেন, আসনসংখ্যার অনুপাতে বিরোধী দলের ২৬ শতাংশ অংশ পাওয়ার কথা। সদস্য মনোনয়নের ক্ষেত্রে সরকারি দল সেটি মেনে নিলেও সভাপতি পদ বণ্টনের ক্ষেত্রে তা মানা হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তাহেরের দাবি, সরকারি দলের পক্ষ থেকে একপর্যায়ে বিরোধী দলকে ১০টি কমিটির সভাপতির পদ দেওয়ার কথা জানানো হয়েছিল এবং এ জন্য তালিকাও নেওয়া হয়েছিল।

তিনি বলেন, দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে সরকারি দল কিছুটা বেপরোয়া হয়ে উঠছে এবং তারা যেভাবে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, সেটিই সংসদে প্রয়োগ করছে।

বিরোধীদলীয় উপনেতা আরও বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠ দল নিজেদের ইচ্ছাকে সংসদের সিদ্ধান্তে পরিণত করলে সেটি স্বৈরাচারী আচরণের দিকে যেতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে ভবিষ্যতে কমিটি গঠনের সময় বিরোধী দল সংসদে নাও থাকতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

তাহেরের বক্তব্যের পর বিরোধী দলের অধিকাংশ সদস্যকে তাঁদের আসন ছেড়ে সংসদ কক্ষ থেকে বেরিয়ে যেতে দেখা যায়।তবে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) হাসনাত আবদুল্লাহসহ কয়েকজন বিরোধী দলের সদস্য কক্ষ ত্যাগ করেননি।

বিরোধী দলের সদস্যরা বেরিয়ে যাওয়ার সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, বিরোধীদলীয় উপনেতা বক্তব্য দেওয়ার পর জবাব শোনার আগেই চলে গেছেন। এটি ওয়াকআউট কি না, তা নিয়েও তিনি মন্তব্য করেন।

বিরোধীদলীয় উপনেতার বক্তব্যের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আসনের অনুপাত অনুযায়ী বিরোধী দলকে সংসদীয় কমিটির সভাপতি করতেই হবে—এমন কোনো বিধান নেই।

তিনি বলেন, অতীতেও এমন বাধ্যতামূলক নজির নেই। বিরোধী দলকে ১০টি কমিটির সভাপতি করার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো আলোচনা হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।জুলাই জাতীয় সনদের প্রসঙ্গও উঠে আসে সংসদের এ বিতর্কে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল হিসেবে স্বাক্ষরিত হয়েছে। সেখানে মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতির পদ আসনসংখ্যার অনুপাতে বিরোধী দলকে দেওয়ার বিষয়ে বিএনপি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তবে তিনি বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পর সংবিধান সংশোধন হলে সংসদীয় কমিটিগুলো পুনর্গঠন করা হবে। তখন আসনসংখ্যার অনুপাতে বিরোধী দল সভাপতির পদ পাবে।

অন্যদিকে, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের জন্য বিরোধী দল সহযোগিতা করছে না বলে অভিযোগ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সংবিধান সংশোধন-সংক্রান্ত কমিটিতে বিরোধী দলের নাম না দেওয়ার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, বিরোধী দলের এই অবস্থান জুলাই সনদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

এদিকে বুধবারের ঘটনা নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ওয়াকআউটের ঘোষণা না এলেও বিরোধী দলের অধিকাংশ সদস্যের সংসদ কক্ষ ত্যাগকে কেন্দ্র করে সংসদে কমিটি গঠন ও সভাপতি পদ বণ্টন নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে