ঢাকা, রবিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৬

শুধু কাগজে-কলমে মুনাফা দেখে বিনিয়োগ নয়, দেখতে হবে ব্যবসার প্রকৃত বাস্তবতা

২০২৬ আগস্ট ৩০ ১৭:৪৩:১৭
শুধু কাগজে-কলমে মুনাফা দেখে বিনিয়োগ নয়, দেখতে হবে ব্যবসার প্রকৃত বাস্তবতা

নিজস্ব প্রতিবেদক: কোনো কোম্পানির আর্থিক স্বাস্থ্য যাচাই করতে শুধু আর্থিক বিবরণীতে দেখানো মুনাফার ওপর নির্ভর না করে ব্যবসার প্রকৃত অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিশ্লেষণের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান মাসুদ খান।

শনিবার (২৯ আগস্ট) ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশের (আইসিএবি) আয়োজিত ‘প্র্যাকটিক্যাল অ্যাপ্রোচ টু ফাইন্যান্সিয়াল স্টেটমেন্টস অ্যানালাইসিস’ শীর্ষক ওয়েবিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনের সময় তিনি এ কথা বলেন। আর্থিক বিবরণী ফরেনসিক পদ্ধতিতে পর্যালোচনার একটি বিস্তৃত কাঠামো তুলে ধরে তিনি সতর্ক করেন, কৃত্রিমভাবে তৈরি মুনাফার প্রভাব কোনো না কোনোভাবে কোম্পানির ব্যালান্স শিটে প্রতিফলিত হয়।

মাসুদ খান বলেন, ‘সংখ্যাগুলোকে ব্যবসার বাস্তব চিত্রের সঙ্গে একই গল্প বলতে হবে।’ তার মতে, কোনো প্রতিষ্ঠানের আয় নিয়ে প্রশ্ন থাকলে সেই আয় সাধারণত ব্যালান্স শিটের কোনো না কোনো জায়গায় জমা হয়। এর প্রকাশ ঘটতে পারে অতিরিক্ত দেখানো পাওনা, অতিমূল্যায়িত মজুত, মূলধনি কাজ চলমান (সিডব্লিউআইপি) হিসাবে ব্যয় পুঁজিভূত করা কিংবা দায় গোপন রাখার মাধ্যমে।

কোম্পানির আর্থিক ফলাফল কৃত্রিমভাবে বাড়িয়ে দেখানোর বিভিন্ন কৌশলের কথাও তুলে ধরেন বিএসইসি চেয়ারম্যান। এর মধ্যে আগেভাগে রাজস্ব দেখানো, বিক্রীত পণ্যের ব্যয় (সিওজিএস) বাদ দেওয়া, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে চক্রাকার লেনদেন এবং বিধানের অনুপযুক্ত রিভার্সালের মতো বিষয় উল্লেখ করেন তিনি।

মাসুদ খানের মতে, এসব কারসাজি শনাক্ত করতে শুধু প্রচলিত আর্থিক অনুপাত বিশ্লেষণ করলেই হবে না। ব্যবসাটি বাস্তবে কীভাবে পরিচালিত হচ্ছে, তার সঙ্গে আর্থিক বিবরণীতে দেওয়া তথ্যের সামঞ্জস্যও যাচাই করতে হবে।

তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, কোনো কোম্পানির বিক্রি যদি ৪০ শতাংশ বাড়ে, কিন্তু একই সময়ে কাঁচামালের ব্যবহার, যন্ত্রপাতির কার্যঘণ্টা, কর্মীদের বেতন এবং পরিবহন ব্যয় অপরিবর্তিত থাকে, তাহলে এই অসামঞ্জস্যের ব্যাখ্যা ব্যবস্থাপনাকে দিতে হবে। একই সঙ্গে ব্যাংক, কর কর্তৃপক্ষ ও নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণীতে দেওয়া তথ্যের মধ্যে কোনো পার্থক্য রয়েছে কি না, তাও সতর্কতার সঙ্গে যাচাই করার পরামর্শ দেন তিনি।

মূল প্রবন্ধের শেষ পর্যায়ে বিএসইসি চেয়ারম্যান বিশ্লেষক ও নিরীক্ষকদের জন্য একটি মৌলিক প্রশ্ন সামনে আনেন—‘প্রতিবেদিত মুনাফা যদি সত্যিই হয়ে থাকে, তাহলে নগদ অর্থ গেল কোথায়?’

তিনি বলেন, পরিচালন কার্যক্রম থেকে আসা নগদ প্রবাহের সঙ্গে সামঞ্জস্য ছাড়াই যদি কোনো প্রতিষ্ঠানের মুনাফা ধারাবাহিকভাবে বাড়তে থাকে, তাহলে সেটিকে সবচেয়ে বড় সতর্কসংকেত হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। এমন পরিস্থিতিতে আরও গভীর তদন্ত প্রয়োজন।

ওয়েবিনারের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন আইসিএবির সভাপতি সাব্বির আহমেদ। অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্য দেন আইসিএবির সহসভাপতি এবং হোসাইন ফারহাদ অ্যান্ড কোম্পানির অংশীদার আসিফুর রহমান।

মামুন/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে