ঢাকা, রবিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৬

শাখা-এটিএম ছাড়াই ব্যাংকিং! অনুমোদনের পথে ৮ ডিজিটাল ব্যাংক

২০২৬ আগস্ট ৩০ ০৮:৪০:১৩
শাখা-এটিএম ছাড়াই ব্যাংকিং! অনুমোদনের পথে ৮ ডিজিটাল ব্যাংক

নিজস্ব প্রতিবেদক: তিন বছরের বেশি সময়ের অপেক্ষার পর দেশে ডিজিটাল ব্যাংক চালুর পথ খুলছে। দ্বিতীয় দফায় আবেদন করা ১২টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৮টিকে চূড়ান্তভাবে বাছাই করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আগামী পর্ষদ সভায় এসব প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

প্রচলিত ব্যাংকের মতো ডিজিটাল ব্যাংকের কোনো শাখা, উপশাখা বা নিজস্ব এটিএম থাকবে না। অ্যাপ ও মোবাইল ফোনের মাধ্যমে হিসাব খোলা, টাকা জমা, লেনদেন এবং ঋণের আবেদন করা যাবে। পাশাপাশি ভার্চুয়াল কার্ড, কিউআর কোডসহ বিভিন্ন প্রযুক্তিনির্ভর সেবা দেওয়ার সুযোগ থাকবে।

কম খরচে দ্রুত ব্যাংকিং সেবা দেওয়ার পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলের মানুষ, তরুণ উদ্যোক্তা, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং ব্যাংকিং সুবিধার বাইরে থাকা জনগোষ্ঠীকে আর্থিক সেবার আওতায় আনাই ডিজিটাল ব্যাংক চালুর অন্যতম লক্ষ্য।

২০২৩ সালে দেশে ডিজিটাল ব্যাংক চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়। দীর্ঘ যাচাই-বাছাই, নীতিমালায় পরিবর্তন এবং লাইসেন্সসংক্রান্ত নানা জটিলতার পর এবার দ্বিতীয় দফার আবেদন থেকে ৮টি প্রতিষ্ঠানকে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে।

আবেদনকারীদের পরিশোধিত মূলধন, উদ্যোক্তাদের অভিজ্ঞতা, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, সাইবার নিরাপত্তা এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার বিভিন্ন শর্ত পূরণের বিষয়গুলো যাচাই করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, দ্বিতীয় দফায় জমা পড়া আবেদনগুলোর মধ্যে ৮টি প্রতিষ্ঠানের মূল্যায়ন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। আগামী পর্ষদ সভায় বিষয়টি উপস্থাপন করা হবে এবং সেখানে চূড়ান্ত লাইসেন্সের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

২০২৩ সালের ১৪ জুন ডিজিটাল ব্যাংক স্থাপনের নীতিমালা জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। সে সময় একটি ডিজিটাল ব্যাংকের ন্যূনতম পরিশোধিত মূলধন নির্ধারণ করা হয়েছিল ১২৫ কোটি টাকা।

প্রথম দফায় ৫২টি আবেদন জমা পড়ে। যাচাই-বাছাই শেষে ৯টি প্রস্তাব বাংলাদেশ ব্যাংকের পর্ষদে উপস্থাপন করা হয় এবং কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে আগ্রহপত্র দেওয়া হয়।

এর মধ্যে নগদ ডিজিটাল ব্যাংক পিএলসিকে ২০২৪ সালের জুনে চূড়ান্ত লাইসেন্স দেওয়া হয়েছিল। তবে পরবর্তী সময়ে নগদকে ঘিরে আর্থিক অনিয়ম ও বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ ওঠে। পরে ওই লাইসেন্স স্থগিত করা হয়। এর ফলে প্রথম দফার উদ্যোগ কার্যত থেমে যায়।

পরবর্তী সময়ে ২০২৫ সালের ২১ আগস্ট ডিজিটাল ব্যাংকসংক্রান্ত নীতিমালায় বড় পরিবর্তন আনে বাংলাদেশ ব্যাংক। ন্যূনতম পরিশোধিত মূলধন ১২৫ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০০ কোটি টাকা করা হয়।

এরপর ২৬ আগস্ট দ্বিতীয় দফায় নতুন করে আবেদন আহ্বান করা হলে ১২টি প্রতিষ্ঠান আবেদন করে।

ডিজিটাল ব্যাংক প্রতিষ্ঠার আগ্রহ দেখিয়েছে দেশের বিভিন্ন খাতের ব্যবসায়ী ও প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিষ্ঠান। দ্বিতীয় দফার আবেদনকারীদের মধ্যে রয়েছে রবি আজিয়াটার ‘বুস্ট’, বাংলালিংক ও স্কয়ারের যৌথ উদ্যোগ ‘নোভা ডিজিটাল ব্যাংক’, আকিজ রিসোর্সের ‘মুনাফা ইসলামী ডিজিটাল ব্যাংক’, আশার ‘মৈত্রী ডিজিটাল ব্যাংক’, ‘আমার ডিজিটাল ব্যাংক-২২’, ‘৩৬ ডিজিটাল ব্যাংক’, ব্রিটিশ-বাংলা ডিজিটাল ব্যাংক, ভুটানের ডিকে ব্যাংকের ডিজিটাল ব্যাংকিং অব ভুটান, অ্যাপ ব্যাংক, জাপান বাংলা ডিজিটাল ব্যাংক, উপকারী ডিজিটাল ব্যাংক এবং বিকাশ ডিজিটাল ব্যাংক।

তবে এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ঠিক কোন ৮টিকে চূড়ান্ত লাইসেন্সের জন্য আগামী পর্ষদ সভায় উপস্থাপন করা হচ্ছে, তা জানাতে রাজি হননি সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল কোনো সূত্র।

অভিজ্ঞ ব্যাংকার ও ব্যাংক এশিয়ার সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আরফান আলীর মতে, ডিজিটাল ব্যাংক চালু হলে কম খরচে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ব্যাংকিং সেবা দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

তিনি বলেন, এর মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মকে আর্থিক ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করার পাশাপাশি আর্থিক অন্তর্ভুক্তিও বাড়তে পারে। একই সঙ্গে নতুন প্রতিযোগিতার কারণে প্রচলিত ব্যাংকগুলো প্রযুক্তি গ্রহণ এবং ব্যবসায়িক মডেল আধুনিক করতে উৎসাহিত হবে।

তবে ডিজিটাল ব্যাংকের সামনে কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে বলে মনে করেন তিনি। প্রযুক্তি ও সাইবার নিরাপত্তায় বড় ধরনের বিনিয়োগের প্রয়োজন হবে। তরুণ গ্রাহকদের বড় আমানত না থাকায় শুরুতে তহবিল সংগ্রহ কঠিন হতে পারে। এ ছাড়া তথ্য নিরাপত্তা, গ্রাহকদের সচেতনতার ঘাটতি এবং দেশের অপরিণত ডিজিটাল অবকাঠামোও ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

অর্থনীতি এর সর্বশেষ খবর

অর্থনীতি - এর সব খবর



রে