ঢাকা, সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬

রংপুরে ৪ খুন নিয়ে নতুন তথ্য দিলো ফরেনসিক বিভাগ

২০২৬ আগস্ট ২৪ ১৬:১৭:৪৭
রংপুরে ৪ খুন নিয়ে নতুন তথ্য দিলো ফরেনসিক বিভাগ

নিজস্ব প্রতিবেদক: রংপুর নগরের কামালকাছনা-মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী এবং তাদের দুই সন্তানকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে ফরেনসিক বিভাগ। তবে নিহতদের মুখমণ্ডলে রাসায়নিক পদার্থ বা অ্যাসিড ব্যবহারের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। চিকিৎসকদের মতে, মরদেহে পচন ধরার কারণেই মুখমণ্ডলে এমন পরিবর্তন দেখা গেছে।

রোববার (২৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় ময়নাতদন্ত শেষে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. বাবলু কিশোর বিশ্বাস এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, চারটি মরদেহেরই ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে তাদের শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহ করে রাখা হয়েছে, যা সিআইডির ল্যাবে পাঠানো হবে। সেখানকার প্রতিবেদন পাওয়ার পর হত্যার বিষয়ে চূড়ান্ত মতামত দেওয়া হবে।

নিহতদের মুখে অ্যাসিড বা অন্য কোনো রাসায়নিক ব্যবহারের বিষয়ে জানতে চাইলে চিকিৎসক জানান, পচনের কারণেই মুখমণ্ডল বিকৃত হয়েছে। ময়নাতদন্তে কোনো রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহারের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে নিহত প্রার্থী চক্রবর্তীর চোয়াল ভাঙারও কোনো আলামত পাওয়া যায়নি।

শনিবার (২২ আগস্ট) রাত ১১টার দিকে নগরের কামালকাছনা-মাছুয়াপাড়ার নিজ বাড়ি থেকে গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল, তার স্ত্রী প্রীতিলতা, মেয়ে প্রার্থী এবং ১২ বছর বয়সী ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী প্রিয়মের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় রোববার ভোরে মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ নামে দুজনকে আটক করা হয়। পরে নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে থানায় হত্যা মামলা করেন।

রোববার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ হত্যাকাণ্ডের সম্ভাব্য কারণ ও ঘটনার বিবরণ তুলে ধরেন। পুলিশের দাবি, পাশের একটি ভবনের ছাদ দিয়ে গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে প্রবেশ করে মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ। সেখানে তারা ইয়াবা সেবন করছিল। গণপতি চক্রবর্তী বিষয়টি দেখতে পেয়ে তাদের বকাঝকা করেন এবং অন্যদের জানিয়ে দিতে পারেন—এমন আশঙ্কায় তারা তাকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেয়।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথমে গামছা দিয়ে গণপতির গলায় পেঁচিয়ে ধরলে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। তার চিৎকার ও বাঁচার চেষ্টা দেখে স্ত্রী প্রীতিলতা এগিয়ে এলে তাকেও সিঁড়িতে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। পরে মেয়ে প্রার্থী এগিয়ে এলে তাকেও গামছা ও রশি দিয়ে গলা-মুখ পেঁচিয়ে হত্যা করা হয়। পুলিশের দাবি, তাকে হত্যা করতে কয়েক মিনিট সময় লাগে। এরপর ১২ বছর বয়সী আয়ুশকেও হত্যা করা হয়। পুলিশ বলছে, আয়ুশ আসামিদের চিনত এবং হত্যার ঘটনা প্রকাশ করে দিতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই তাকেও হত্যা করা হয়।

হত্যাকাণ্ডের পর দুই যুবক ওই বাড়ির ওয়াশরুমে গোসল করে এবং সেখানে বসেই আবার ইয়াবা সেবন করে বলে পুলিশ জানিয়েছে। পরে তারা ঘরের আসবাবপত্র তল্লাশি করে স্বর্ণালংকার নিয়ে যায়। পুলিশের দাবি, সিদ্ধার্থ একটি স্বর্ণের দোকানে কাজ করায় আগুন দিয়ে পরীক্ষা করে স্বর্ণালংকারের কোনটি আসল তা শনাক্ত করে নেয়।

পুলিশ আরও জানায়, শুক্রবার জুমার নামাজের সময় আশপাশের লোকজন মসজিদে গেলে মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ পাশের বাড়ির ছাদ দিয়ে ওই বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়। যাওয়ার আগে তারা ডাইনিং টেবিলে রাখা বয়ামের খেজুর খায়। পাশাপাশি মাদকের প্রভাব কমাতে ফ্রিজ থেকে শসা বের করে খেয়েছিল বলেও পুলিশ জানিয়েছে।

তবে ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন এবং সিআইডির পরীক্ষার ফল পাওয়ার পরই হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ ও চূড়ান্ত মতামত দেওয়া সম্ভব হবে।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে