ঢাকা, সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬

‘সার্ভার নষ্ট’ বলে যা করতেন ব্যাংককর্মীরা, তদন্তে বেরিয়ে এলো ভয়ংকর তথ্য

২০২৬ আগস্ট ২৪ ১৬:০২:৪৩
‘সার্ভার নষ্ট’ বলে যা করতেন ব্যাংককর্মীরা, তদন্তে বেরিয়ে এলো ভয়ংকর তথ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক: নোয়াখালীর মিরিকপুরে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের একটি এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেটে ‘সার্ভারে ত্রুটি’র কথা বলে ভুয়া স্লিপ দেওয়ার মাধ্যমে ৪৮ গ্রাহকের কাছ থেকে ১ কোটি ৫ লাখ ৫৭ হাজার ৫০০ টাকা আত্মসাতের অভিযোগের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

এ ঘটনায় আউটলেটের মালিক মো. নাছির উদ্দিন প্রকাশ খোকনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পিবিআই জানিয়েছে, তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন।

পিবিআইয়ের তদন্তে জানা গেছে, নাছির উদ্দিন ২০১৯ সাল থেকে মিরিকপুরের ওই এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেটের দায়িত্বে ছিলেন। পরে তিনি মো. শহিদুল্লাহ প্রকাশ জিয়াকে টেলার হিসেবে নিয়োগ দেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, এরপর দুজন যোগসাজশ করে গ্রাহকদের জমা দেওয়া টাকা ব্যাংকে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করতে থাকেন।

গ্রাহকরা টাকা জমা দিতে এলে অভিযুক্তরা ভুয়া সার্ভারে বায়োমেট্রিক গ্রহণ করতেন। এরপর ‘সার্ভারে ত্রুটি’ দেখিয়ে গ্রাহকদের একটি ভুয়া স্লিপ দেওয়া হতো এবং বলা হতো, টাকা ব্যাংক হিসাবে জমা হয়ে যাবে।

কিন্তু পরে ওই টাকা গ্রাহকদের হিসাবে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করা হতো। এভাবে ৪৮ গ্রাহকের কাছ থেকে মোট ১ কোটি ৫ লাখ ৫৭ হাজার ৫০০ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

গ্রাহকরা পরবর্তী সময়ে নিজেদের হিসাব থেকে টাকা উত্তোলন কিংবা হিসাব হালনাগাদ করতে গিয়ে বিষয়টি বুঝতে পারেন। ব্যাংক হিসাবে টাকা না থাকায় তারা আউটলেটে অভিযোগ করেন।এরপর অভিযুক্তরা আত্মগোপনে চলে যান।

এ ঘটনায় ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের লক্ষ্মীপুরের এরিয়া ম্যানেজার বাদী হয়ে নাছির উদ্দিন ও শহিদুল্লাহর বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ করেন। পরে আদালতের নির্দেশে ২০২৫ সালের ১ জুলাই লক্ষ্মীপুর সদর থানায় মামলা হয়।

মামলায় দণ্ডবিধির ৪০৬, ৪০৮, ৪০৯ ও ৪২০ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

লক্ষ্মীপুর সদর থানা পুলিশ ২০২৫ সালের ৩ আগস্ট নাছির উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে। তবে দীর্ঘ সময়েও মামলার মূল রহস্য উদঘাটিত না হওয়ায় লক্ষ্মীপুরের জেলা ও দায়রা জজ আদালত স্বপ্রণোদিত হয়ে তদন্তভার পিবিআই নোয়াখালী জেলার ওপর ন্যস্ত করেন।

বর্তমানে মামলাটি তদন্ত করছেন পিবিআইয়ের এসআই মো. কামাল আব্বাস।

তদন্তের অংশ হিসেবে আত্মসাৎ করা টাকা উদ্ধারের পাশাপাশি ঘটনার বিস্তারিত জানতে নাছির উদ্দিনকে আদালতের মাধ্যমে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন এবং অর্থ আত্মসাতের বিষয়ে তথ্য দেন।

পরে ২২ আগস্ট ২০২৬ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন তিনি।

পিবিআই জানিয়েছে, ঘটনায় আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

অর্থনীতি এর সর্বশেষ খবর

অর্থনীতি - এর সব খবর



রে