ঢাকা, শনিবার, ২২ আগস্ট ২০২৬

‘এক নেতা, এক পদ’ নীতি, বিএনপিতে এবার কার ভাগ্যে কী আছে?

২০২৬ আগস্ট ২২ ১৫:১৮:১৩
‘এক নেতা, এক পদ’ নীতি, বিএনপিতে এবার কার ভাগ্যে কী আছে?

নিজস্ব প্রতিবেদক: স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে দলীয় কোন্দল নিরসন, সাংগঠনিক কাঠামো শক্তিশালী করা এবং তৃণমূল পর্যায়ে নেতৃত্ব সক্রিয় করতে পুনর্গঠন কার্যক্রমে জোর দিয়েছে ক্ষমতাসীন বিএনপি। আগামী জাতীয় কাউন্সিলকে সামনে রেখে কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত নেতৃত্বে পরিবর্তন ও দায়িত্ব পুনর্বণ্টনের প্রস্তুতি চলছে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি সপ্তাহেই বিএনপির কেন্দ্রীয় দপ্তরে নতুন মুখ যুক্ত হতে পারে। পাশাপাশি দলের প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন পর্যায়ে পদায়ন, দায়িত্ব পুনর্বণ্টন ও সাংগঠনিক পদে পরিবর্তন আনা হবে। এসব প্রক্রিয়া শেষ করার পর আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি বা মার্চে দলের সপ্তম জাতীয় কাউন্সিল আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।

দল পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদ পূরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মৃত্যু, পদত্যাগ ও বহিষ্কারের কারণে দলের ভাইস চেয়ারম্যানের একাধিক পদ বর্তমানে শূন্য রয়েছে। এসব পদে প্রবীণ ও মধ্যম সারির নেতাদের মধ্য থেকে নতুন মুখ আনার বিষয়ে আলোচনা চলছে।

দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটিতেও সম্প্রতি কয়েকজন নতুন সদস্য যুক্ত হয়েছেন। রুহুল কবির রিজভী, আমান উল্লাহ আমান, অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার ও মো. ইসমাইল জবিউল্লাহকে স্থায়ী কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

১৯ সদস্যের স্থায়ী কমিটিতে বর্তমানে কয়েকটি পদ শূন্য রয়েছে। এসব পদও পর্যায়ক্রমে পূরণ করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

বিএনপির কেন্দ্রীয় দপ্তরের দায়িত্বেও পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে। দলের যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, হাবিব-উন-নবী খান সোহেল ও সৈয়দ এমরান সালেহ—এই তিনজনের মধ্যে কাউকে কেন্দ্রীয় দপ্তরের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

দপ্তরের কার্যক্রম আরও গতিশীল করা এবং সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এ পরিবর্তন আনার কথা ভাবা হচ্ছে।

দল পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে ‘এক নেতা, এক পদ’ নীতিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের সাংগঠনিক দায়িত্ব সীমিত করে দলের সাংগঠনিক কাজে নেতৃত্বের বিকেন্দ্রীকরণ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

দলীয় সূত্রের ভাষ্য, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানও এ নীতির পক্ষে। তার মতে, মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যরা সরকার পরিচালনায় বেশি মনোযোগ দিলে প্রশাসনিক কাজে দক্ষতা বাড়বে। একই সঙ্গে দলের সাংগঠনিক দায়িত্ব অন্য নেতাদের হাতে দেওয়া হলে দলীয় কাঠামো আরও সক্রিয় ও কার্যকর হবে।

এ ক্ষেত্রে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের সময়কার দল ও সরকারের দায়িত্ব আলাদা রাখার নীতির বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে।

নতুন নেতৃত্ব বাছাইয়ের ক্ষেত্রে তরুণ, মেধাবী ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির নেতাদের সামনে আনার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে নেতাদের ভূমিকা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং তৃণমূলে গ্রহণযোগ্যতার বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।

দলীয় নেতাদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে একই পদে থাকা নেতাদের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মকে সাংগঠনিক দায়িত্বে নিয়ে আসতে পারলে দলের কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।

কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের পাশাপাশি গত দুই মাস ধরে দেশের বিভিন্ন জেলা, উপজেলা ও মহানগর ইউনিটে কমিটি পুনর্গঠনের কাজ চলছে।

কোথাও আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে, কোথাও পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়েছে। আবার সাংগঠনিক নিষ্ক্রিয়তা, অভ্যন্তরীণ বিরোধ বা দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের কারণে যেসব নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছিল, তাদের মধ্যে যোগ্যদের আবেদনের ভিত্তিতে দলে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়াও চলছে।

দলীয় নীতিনির্ধারকদের ধারণা, আগামী চার থেকে পাঁচ মাস ধরে এই পুনর্গঠন কার্যক্রম চলতে পারে। এরপর সারাদেশের সাংগঠনিক কাঠামো আরও গোছানো হলে জাতীয় কাউন্সিল আয়োজনের দিকে এগোবে দলটি।

বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতৃত্বেও পরিবর্তনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, কৃষক দল ও শ্রমিক দলসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃত্ব পুনর্গঠনের বিষয়ে আলোচনা চলছে।

আগস্টের শেষ দিকে অথবা সেপ্টেম্বরের শুরুতে ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলে নতুন নেতৃত্ব আসতে পারে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

অঙ্গসংগঠনগুলোর নেতৃত্বে তরুণ ও সক্রিয় নেতাদের অগ্রাধিকার দেওয়ার পাশাপাশি সাংগঠনিক দক্ষতা ও তৃণমূলে গ্রহণযোগ্যতাকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বিএনপির সপ্তম জাতীয় কাউন্সিল আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি বা মার্চে আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে কাউন্সিলের তারিখ এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

কাউন্সিলের আগে সারাদেশের জেলা, উপজেলা, পৌরসভা ও মহানগর ইউনিটের কমিটি পুনর্গঠন করার পরিকল্পনা রয়েছে। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে পরিবর্তন ও দায়িত্ব পুনর্বণ্টনের কাজও একই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু জানিয়েছেন, দল পুনর্গঠনের কাজ চলমান রয়েছে এবং জাতীয় কাউন্সিলের মাধ্যমে এই প্রক্রিয়া শেষ হবে। যেসব জেলা, উপজেলা ও থানায় দ্রুত কমিটি প্রয়োজন, সেসব ইউনিট পুনর্গঠন করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, বর্তমানে সাংগঠনিক কার্যক্রম সীমিত পরিসরে চলছে। তবে পরিস্থিতি ও প্রয়োজন অনুযায়ী ভবিষ্যতে এসব কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হতে পারে। কাউন্সিলকে কেন্দ্র করে সারাদেশের সাংগঠনিক কাঠামোয় ব্যাপকভাবে নতুন নেতৃত্ব আনা হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনও জানিয়েছেন, জাতীয় কাউন্সিল সামনে রেখে দল পুনর্গঠনের কাজ এগিয়ে চলছে। বিভিন্ন ইউনিটে নতুন কমিটি গঠনের প্রক্রিয়াও ধীরে ধীরে এগোচ্ছে।

সারাদেশের ইউনিট কমিটিগুলো পুনর্গঠনের পরই জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান তিনি।

সব মিলিয়ে আগামী কয়েক মাসে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব থেকে শুরু করে তৃণমূল ও অঙ্গসংগঠন পর্যন্ত বড় ধরনের সাংগঠনিক পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ভাইস চেয়ারম্যানের শূন্য পদ পূরণ, কেন্দ্রীয় দপ্তরে নতুন মুখ, ‘এক নেতা, এক পদ’ নীতি এবং তরুণ নেতৃত্ব সামনে আনার উদ্যোগ—সব মিলিয়ে জাতীয় কাউন্সিলের আগে দলকে নতুনভাবে সাজানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে