ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬

মোদীকে সরাসরি জবাব দিতে বললেন সাবেক মন্ত্রী

২০২৬ আগস্ট ১৩ ২০:১২:০১
মোদীকে সরাসরি জবাব দিতে বললেন সাবেক মন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক: অরুণাচল প্রদেশের সীমান্ত এলাকায় চীনা বাহিনীর উপস্থিতি এবং ভারতীয় সেনাদের টহল পয়েন্ট নিয়ে সরকারের কাছে স্পষ্ট ব্যাখ্যা চেয়েছেন ভারতের সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী আর কে সিং। তিনি জানতে চেয়েছেন, তাকসিং এলাকার শেরা পয়েন্ট ৫ ছাড়াও আরও কোনো টহল পয়েন্টে ভারতীয় সেনাদের প্রবেশ চীনা বাহিনী বন্ধ করেছে কি না।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক ভিডিওবার্তায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের কাছে এসব প্রশ্ন তোলেন তিনি।

আর কে সিংয়ের দাবি, ভারতের কোনো গুরুত্বপূর্ণ টহল পয়েন্ট থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন ছাড়া নেওয়া সম্ভব নয়। তাই ২০১৪ সালের পর সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় বাহিনীর টহল নিয়ে কী পরিবর্তন হয়েছে, সে বিষয়ে সরকারকে স্পষ্ট তথ্য দিতে হবে।

আর কে সিং বলেন, অরুণাচল প্রদেশের আপার সুবানসিরি জেলার তাকসিং এলাকার শেরা পয়েন্ট ৫-ই কি একমাত্র টহল পয়েন্ট, যেখানে ভারতীয় সেনাদের টহল বন্ধ হয়েছে? নাকি ২০১৪ সালের আগে ভারতীয় সেনারা নিয়মিত যেসব পয়েন্টে টহল দিত, সেগুলোর আরও কয়েকটি থেকে ভারত সরে এসেছে?

সম্প্রতি তাকসিং এলাকায় ভারত ও চীনা বাহিনীর মধ্যে অচলাবস্থার খবর প্রকাশিত হয়েছে। সংবাদমাধ্যমের তথ্যের বরাত দিয়ে আর কে সিং দাবি করেন, শেরা পয়েন্ট ৫-এ ভারতীয় বাহিনীর টহল বন্ধ রয়েছে এবং সেখানে চীনা বাহিনী স্থায়ী উপস্থিতি তৈরি করেছে বলে তিনি জানতে পেরেছেন।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে এই বক্তব্যের সময় পর্যন্ত কোনো স্পষ্ট প্রতিক্রিয়ার কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় নিজের দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে আর কে সিং বলেন, প্রতিরক্ষা ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। তার মতে, ভারত-চীন সীমান্তে দুই দেশের ভিন্ন ভিন্ন দাবির কারণে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বা এলএসি বরাবর নিয়মিত টহল গুরুত্বপূর্ণ।

তার বক্তব্য অনুযায়ী, কোনো টহল পয়েন্ট থেকে এক পক্ষ সরে গেলে এবং সেখানে অন্য পক্ষ স্থায়ী উপস্থিতি তৈরি করলে ওই এলাকার ওপর সংশ্লিষ্ট দেশের অবস্থান ও দাবির বিষয়ে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে।

এ কারণেই ২০১৪ সালের পর ভারত কতগুলো টহল পয়েন্ট থেকে সরে এসেছে, সরকারকে তার হিসাব প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

আর কে সিং স্পষ্ট করে বলেন, তার প্রশ্ন ভারতীয় সেনাবাহিনীর সক্ষমতা বা সাহস নিয়ে নয়। বরং তিনি মোদী সরকারের সীমান্তনীতি, সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।

চীনের সঙ্গে ভারতের অর্থনৈতিক সম্পর্কের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন সাবেক এই মন্ত্রী। তার প্রশ্ন, একদিকে চীনা বিনিয়োগ আকর্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, অন্যদিকে সীমান্ত এলাকায় চীনের উপস্থিতি নিয়ে অভিযোগ উঠলে সরকার কেন নীরব থাকছে?

তিনি সরকারের কাছে চীন ও সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে তাদের প্রকৃত নীতি স্পষ্ট করার দাবি জানান।

আর কে সিংয়ের বক্তব্যের পর ভারতের বিরোধী দলগুলোর কয়েকজন নেতাও বিষয়টি নিয়ে সরকারের কাছে জবাব চেয়েছেন। কংগ্রেসের নেতারা দাবি করেছেন, মোদী সরকারের সাবেক মন্ত্রী ও দীর্ঘদিন স্বরাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা-সংশ্লিষ্ট দায়িত্ব পালন করা একজন নেতা যখন এমন গুরুতর প্রশ্ন তুলছেন, তখন সরকারকে বিষয়টি পরিষ্কার করা উচিত।

তবে অরুণাচল প্রদেশে চীনের কথিত ভূখণ্ড দখল বা টহল পয়েন্ট নিয়ে আর কে সিংয়ের উত্থাপিত দাবিগুলো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

আন্তর্জাতিক এর সর্বশেষ খবর

আন্তর্জাতিক - এর সব খবর



রে