ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬

চট্টগ্রামে ব্যাংকের ভল্ট থেকে ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা উধাও

২০২৬ আগস্ট ১৩ ১৫:৩৫:৪৪
চট্টগ্রামে ব্যাংকের ভল্ট থেকে ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা উধাও

নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রামের অগ্রণী ব্যাংক পিএলসির লালদীঘি পূর্ব করপোরেট শাখার ক্যাশ ভল্ট থেকে ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা ঘাটতির অভিযোগে ব্যাংকের এক কর্মকর্তা ও এক বহিরাগতকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় ব্যাংকের গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

গ্রেপ্তার দুজন হলেন—শাখাটির সিনিয়র অফিসার ও ক্যাশ ইনচার্জ মো. কামরুল হোসেন (৪১) এবং মো. জাফরুল্লাহ তানভীর। পরে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

নগরীর জেলা পরিষদ ভবনের নিচতলায় অবস্থিত অগ্রণী ব্যাংকের ওই শাখায় ঘটনাটি ঘটে। কোতোয়ালি থানা সূত্রে জানা গেছে, এ ঘটনায় করা মামলায় দণ্ডবিধির ৪০৮, ৪২০ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলার বাদী শাখার জেনারেল ম্যানেজার মোস্তাক আহমেদ (৫৮)।

মামলায় কামরুল হোসেন ও জাফরুল্লাহ তানভীরের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। মামলাটি তদন্ত করছেন কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. ইকবাল হোসেন।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ৯ আগস্ট নিয়মিত ব্যাংকিং কার্যক্রম শেষে নগদ অর্থ ও ভল্টে সংরক্ষিত টাকার হিসাব মিলানোর সময় গরমিল ধরা পড়ে। পরে ভল্টের হিসাব, রেকর্ডপত্র ও সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই করে ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা ঘাটতি পাওয়া যায়।

ক্যাশ ইনচার্জ কামরুল হোসেনের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। ব্যাংকের অভিযোগ, জাফরুল্লাহ তানভীরসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনের সহায়তায় কামরুল ভল্টের টাকা সরিয়ে ব্যবসায় বিনিয়োগ করেছেন।

তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জাফরুল্লাহ তানভীরের বাবা আজিম উল্লাহ। তার দাবি, তার ছেলে অগ্রণী ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারী নন এবং ব্যাংকটির ওই শাখার গ্রাহকও নন। তিনি বলেন, জাফরুল্লাহ আগে থেকেই গরুর খামারের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত এবং তার কাছে ব্যাংকের এত টাকা থাকার কোনো রেকর্ড বা প্রমাণ দেখানো হয়নি।

আজিম উল্লাহর দাবি, ৯ আগস্ট রাতে ব্যাংক থেকে ফোন করে তার ছেলেকে নিয়ে যেতে বলা হয়। পরে পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে ব্যাংকে গিয়ে তারা জাফরুল্লাহ ও কামরুল হোসেনকে থানায় নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি জানতে পারেন। তার ভাষ্য, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত প্রয়োজন।

তদন্ত কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন জানান, দুই আসামিকে গ্রেপ্তারের পর তাদের কাছ থেকে দুটি মোবাইল ফোন, হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ ও তথ্যের রেকর্ড এবং ৬৪ জিবির একটি পেনড্রাইভ জব্দ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, মামলাটি তদন্তাধীন। তদন্তে অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।

ঘটনাটি নিয়ে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে—এক বছরে ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকার মতো বড় অঙ্কের ঘাটতি কীভাবে শনাক্ত হওয়ার বাইরে থাকল। ব্যাংকের নিয়মিত ক্যাশ ও ভল্ট হিসাব যাচাইয়ের মধ্যেও এত বড় গরমিল কেন আগে ধরা পড়েনি, তা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তদন্তে এসব বিষয়ও স্পষ্ট হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

অর্থনীতি এর সর্বশেষ খবর

অর্থনীতি - এর সব খবর



রে