ঢাকা, বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬

রাষ্ট্রপতির পদে মির্জা ফখরুল, বিএনপিতে নতুন সমীকরণের আভাস

২০২৬ আগস্ট ১২ ১৫:৪৬:৫২
রাষ্ট্রপতির পদে মির্জা ফখরুল, বিএনপিতে নতুন সমীকরণের আভাস

নিজস্ব প্রতিবেদক: সবকিছু চূড়ান্ত হলে বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হতে পারেন—এমন আলোচনা জোরালো হয়েছে। তিনি রাষ্ট্রপতি হলে বিএনপির সাংগঠনিক কাঠামোতেও বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। বিশেষ করে দলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ পদ মহাসচিবের দায়িত্ব কে পাচ্ছেন, তা নিয়ে দলের অভ্যন্তরে শুরু হয়েছে আলোচনা।

বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রমে মহাসচিবের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দলের বিভিন্ন গ্রুপ-উপগ্রুপ, কট্টরপন্থী ও মধ্যপন্থীসহ নানা মত ও বিভাজন সামলে সংগঠনকে ঐক্যবদ্ধ রাখার দায়িত্ব মূলত মহাসচিবকেই পালন করতে হয়। সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন, দলের কাউন্সিলসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচি থাকায় পদটিকে ঘিরে আলোচনা আরও গুরুত্ব পেয়েছে।

মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রিত্বেও পরিবর্তন আসবে। একই সঙ্গে তার নির্বাচনি আসনে উপনির্বাচনের বিষয়টিও সামনে চলে আসবে। তবে বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, একই সময়ে একাধিক পরিবর্তন হলেও এগুলো দলের স্বাভাবিক সাংগঠনিক প্রক্রিয়ার অংশ।

এদিকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সামনে রেখে রোববার থেকে মনোনয়নপত্র বিক্রি শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন। বিএনপির পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতি পদের জন্য দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য রাষ্ট্রপতি পদে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে প্রার্থী করেছে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগও শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান পরিচালনার জন্য ছয় সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে। দীর্ঘ ৩৫ বছর পর এবার আবারও ভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। একাধিক প্রার্থী থাকায় জাতীয় সংসদে ভোটাভুটির মাধ্যমে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন।

১৯৯১ সালের পর দেশে একাধিকবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও কোনোবারই ভোটের প্রয়োজন হয়নি। প্রতিবার একজন করে প্রার্থী থাকায় তারা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। এবার একাধিক প্রার্থী থাকায় সংসদ সদস্যদের ভোটেই রাষ্ট্রপতির চূড়ান্ত নির্বাচন হবে।

বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্য জানিয়েছেন, আজ অথবা আগামীকালের মধ্যে দলীয়ভাবে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থীর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হতে পারে। দলীয় আলোচনায় মির্জা ফখরুলের নাম বিবেচনার ক্ষেত্রে তার দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, দলের প্রতি আনুগত্য এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে গ্রহণযোগ্যতা গুরুত্ব পেয়েছে বলে জানা গেছে।

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সংসদ সদস্য, প্রতিমন্ত্রী এবং পরে পূর্ণমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। এক দশকের বেশি সময় ধরে তিনি বিএনপির মহাসচিবের দায়িত্বে রয়েছেন। বর্তমানে তিনি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী। রাজনৈতিক জীবনে তার বিরুদ্ধে ১১১টি মামলা হয়েছে এবং ১১ বার তাকে কারাগারে যেতে হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় সাড়ে তিন বছর কারাবন্দি ছিলেন তিনি। এসব বিষয়ও রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে তার নাম বিবেচনার ক্ষেত্রে গুরুত্ব পেয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

এর আগে গত ১ আগস্ট গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। দীর্ঘ আলোচনার পর রাষ্ট্রপতি পদে দলের প্রার্থী মনোনয়নের দায়িত্ব বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর অর্পণ করেন স্থায়ী কমিটির সদস্যরা।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ১৩ আগস্ট মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন। এরই মধ্যে রোববার বিএনপির পক্ষে দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি এবং বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী নির্বাচন কমিশন থেকে ফরম দুটি সংগ্রহ করেন। তবে ওই সময় প্রার্থীর নাম প্রকাশ করা হয়নি।

মির্জা ফখরুলের রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন চূড়ান্ত হলে বিএনপির সামনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে দাঁড়াবে—দলের পরবর্তী মহাসচিব কে? এ ক্ষেত্রে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর নাম সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড, রাজনৈতিক কর্মসূচি এবং গণমাধ্যমে দলের বক্তব্য তুলে ধরার ক্ষেত্রে রিজভীর সক্রিয় ভূমিকা রয়েছে। ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে তাকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়েও দলের ভেতরে আলোচনা চলছে।

তবে মহাসচিব পদে স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের নামও আলোচনায় রয়েছে। একই সঙ্গে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নামও বিবেচনায় রয়েছে বলে জানা গেছে। অবশ্য দুজনই সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকায় সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সরকারের বাইরে থাকা কোনো সিনিয়র দলীয় নেতাকে মহাসচিবের দায়িত্ব দেওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, তিনি দলের প্রতি শতভাগ আনুগত্য প্রকাশ করেই দায়িত্ব পালন করছেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী তিনি দলের নেতাকর্মীদের পাশে রয়েছেন।

ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়েছে কি না জানতে চাইলে রিজভী বলেন, এ বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। দল দায়িত্ব দিলে তখন বিষয়টি নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে বলেও জানান তিনি।

সিরাজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে