ঢাকা, রবিবার, ৯ আগস্ট ২০২৬

প্রধানমন্ত্রীকে একনজর দেখতে বাঁশখালীতে জনস্রোত

২০২৬ আগস্ট ০৯ ১৭:২২:১৫
প্রধানমন্ত্রীকে একনজর দেখতে বাঁশখালীতে জনস্রোত

নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চট্টগ্রাম সফর ঘিরে বাঁশখালীর বাহারছড়া সমুদ্রপাড়ে মানুষের ঢল নেমেছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসন কর্মসূচিতে অংশ নিতে রোববার (৯ আগস্ট) দুপুরে বাঁশখালী পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী।

এর আগে কক্সবাজারের মহেশখালীতে মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দর, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প এবং মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (মিডা) কার্যক্রম পরিদর্শন করেন তিনি। সেখান থেকে হেলিকপ্টারে করে বেলা সোয়া ১টার দিকে বাঁশখালীর বাহারছড়ায় পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী।

তার আগমনকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই বাহারছড়া এলাকায় মানুষের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। বিভিন্ন বয়সী মানুষ প্রধানমন্ত্রীকে একনজর দেখতে এবং তার বক্তব্য শুনতে সমুদ্রপাড়ের কর্মসূচিস্থলে জড়ো হন। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পুরো এলাকা জনসমাগমে মুখর হয়ে ওঠে।

বাঁশখালীর সাম্প্রতিক বন্যায় অনেক পরিবার ঘরবাড়ি হারিয়ে দুর্ভোগে পড়ে। এসব ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পুনর্বাসনের অংশ হিসেবে ১০০টি গৃহহারা পরিবারের জন্য নতুন ঘর নির্মাণ করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর সফরের অন্যতম প্রধান কর্মসূচি ছিল এসব পরিবারের হাতে নতুন ঘরের চাবি তুলে দেওয়া। ঘর হারানোর পর নতুন আশ্রয় পাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে স্বস্তি ও আনন্দের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

পুনর্বাসন কর্মসূচির পাশাপাশি বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মধ্যে ত্রাণ ও সহায়তা দেওয়ারও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে কর্মসূচি বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়।

বাঁশখালীর সমুদ্র উপকূলকে ঘিরে শিল্প ও কর্মসংস্থানের সম্ভাবনার বিষয়টিও প্রধানমন্ত্রীর সফরে গুরুত্ব পেয়েছে। উপকূলীয় এই অঞ্চলে পরিকল্পিতভাবে কলকারখানা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার মাধ্যমে স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির বিষয়টি সামনে এসেছে।

বাঁশখালীতে শিল্পায়ন হলে স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থানের পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থারও প্রসার ঘটতে পারে। তবে এ ধরনের উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে পরিবেশ ও স্থানীয় মানুষের স্বার্থ বিবেচনায় রাখার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।

বাঁশখালীর কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রী দেশের শান্তিশৃঙ্খলা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, দেশে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে হলে একটি স্থিতিশীল ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ প্রয়োজন।

তার মতে, শিল্পকারখানা স্থাপন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য বিনিয়োগকারীদের আস্থা নিশ্চিত করা জরুরি। কারখানায় উৎপাদিত পণ্য সহজে বন্দরে নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় কাঁচামাল দেশে আনার জন্য ভালো যোগাযোগব্যবস্থার পাশাপাশি নিরাপদ পরিবেশও প্রয়োজন।

সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির অংশ হিসেবে ফ্যামিলি কার্ডের বিষয়েও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। পরিবারের নারীদের অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী করার পাশাপাশি তাদের হাতে সরাসরি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন তিনি।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বিপুলসংখ্যক পরিবারের মায়েদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পরিবারের নারীদের আর্থিকভাবে সক্ষম করা এবং সন্তানদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় পরিবারের সক্ষমতা বাড়ানো এই কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য।

কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড চালুর বিষয়টিও প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে আসে। এর মাধ্যমে কৃষকদের সরকারি সহায়তা ও বিভিন্ন সুবিধা আরও কার্যকরভাবে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানানো হয়।

বাঁশখালীর কর্মসূচি শেষে ফটিকছড়ির বাবুনগর মাদ্রাসায় যাওয়ার কর্মসূচি রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। সেখানে হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করার কথা রয়েছে তার।

এ সময় হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গেও মতবিনিময়ের কথা রয়েছে। রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভিন্ন বিষয়ে সেখানে আলোচনা হতে পারে।

ফটিকছড়ির কর্মসূচি শেষে হাটহাজারীর আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম মাদ্রাসায় যাওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।

সেখানে হেফাজতে ইসলামের প্রতিষ্ঠাতা আমির প্রয়াত আল্লামা শাহ আহমদ শফীর কবর জিয়ারত করবেন তিনি। এ কর্মসূচিকে ঘিরেও হাটহাজারী এলাকায় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

হাটহাজারী সরকারি কলেজ মাঠে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন উপলক্ষে আরেকটি অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।

সেখানে ৩০টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ঘর নির্মাণে সহায়তা হিসেবে এক লাখ টাকা করে দেওয়ার কর্মসূচি রয়েছে। একই অনুষ্ঠানে ১৫ জন প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে ১০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।

এর মাধ্যমে চট্টগ্রামের বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসন কার্যক্রমকে আরও জোরদার করার বার্তা দেওয়া হচ্ছে।

দিনের শেষ কর্মসূচি হিসেবে চট্টগ্রাম নগরের রেডিসন ব্লু চট্টগ্রাম বে ভিউতে বিএনপির সাংগঠনিক সভায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।

দলীয় সূত্র অনুযায়ী, সভায় চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির নেতাদের পাশাপাশি ১১টি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের তৃণমূল পর্যায়ের নেতারা অংশ নিতে পারেন।

সভায় দলের সাংগঠনিক পরিস্থিতি, মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হতে পারে। নেতাদের কাছ থেকে সাংগঠনিক পরিস্থিতির তথ্য নেওয়ার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিতে পারেন।

চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে দিনভর একাধিক কর্মসূচি শেষে রোববার রাতে ঢাকার উদ্দেশে চট্টগ্রাম ছাড়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের।

এক দিনের এই সফরে উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন, স্থানীয় মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ, ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং দলীয় সাংগঠনিক বৈঠক—সব মিলিয়ে ব্যস্ত কর্মসূচি পালন করছেন প্রধানমন্ত্রী।

চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসনের পাশাপাশি উপকূলীয় অঞ্চলে শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয়টি এই সফরে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে