ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট ২০২৬

নয় মাসের স্থবিরতা কাটিয়ে আবার গ্যাস পরিবহনে ইন্ট্রাকো

২০২৬ আগস্ট ০৬ ১৮:০০:৫৭
নয় মাসের স্থবিরতা কাটিয়ে আবার গ্যাস পরিবহনে ইন্ট্রাকো

নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রায় নয় মাসের দীর্ঘ বিরতির পর আবারও শিল্প খাতে সংকুচিত প্রাকৃতিক গ্যাস (সিএনজি) সরবরাহ শুরু করেছে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি ইন্ট্রাকো রিফুয়েলিং স্টেশন পিএলসি.। বিস্ফোরক অধিদপ্তরের অনুমোদন পাওয়ার পর কোম্পানিটির সব গ্যাসবাহী টিউব ও ক্যাসকেড সিলিন্ডার ট্রেইলার পুনরায় চালু হওয়ায় ঢাকা, গাজীপুর ও আশপাশের শিল্পাঞ্চলে গ্যাস পরিবহন স্বাভাবিক হয়েছে।

বিস্ফোরক অধিদপ্তর সম্প্রতি ইন্ট্রাকোর সব গ্যাস পরিবহনকারী যানবাহনের কারিগরি সক্ষমতা যাচাই শেষে সেগুলোকে গ্যাস পরিবহনের অনুমতি দেয়। এর ফলে গত বছরের নভেম্বর থেকে প্রায় বন্ধ থাকা কোম্পানিটির কার্যক্রম পুরোপুরি পুনরায় চালু করা সম্ভব হয়েছে। দেশে চলমান গ্যাস সংকটের মধ্যে এই সিদ্ধান্ত শিল্প খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

বিস্ফোরক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ মহসিন উদ্দিন জানান, চীনের প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষাগারে যানবাহনগুলোর সক্ষমতা যাচাই করে সেগুলোকে গ্যাস পরিবহনের উপযোগী হিসেবে পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিনের গ্যাস সংকটের কারণে অনেক শিল্পকারখানার উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার বিষয়টিও অনুমোদনের ক্ষেত্রে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

এর আগে রাষ্ট্রায়ত্ত সুন্দরবন গ্যাস কোম্পানি থেকে ভোলার গ্যাস সংগ্রহ করে ইন্ট্রাকো ঢাকা, গাজীপুর ও টাঙ্গাইলের বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানে সরবরাহ করত। তবে গত বছরের নভেম্বর মাসে বিস্ফোরক অধিদপ্তরের নির্দেশে লাইসেন্সবিহীন ৩৫টি যানবাহন প্রত্যাহার করতে বাধ্য হওয়ায় কোম্পানিটির গ্যাস পরিবহন কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে।

পরবর্তীতে চলতি বছরের জুলাই মাসে সংকুচিত গ্যাস বহনকারী ১৮টি টিউব-ট্রেইলার ট্রাকের লাইসেন্স দেওয়া হয়। এরপর গত সপ্তাহে বাকি ২০টি ক্যাসকেড সিলিন্ডার ট্রেইলারকে ছয় মাসের জন্য গ্যাস পরিবহনের অনুমতি দেওয়া হলে ইন্ট্রাকো পূর্ণ সক্ষমতায় কার্যক্রম পুনরায় শুরু করতে সক্ষম হয়।

কোম্পানির ব্যবহৃত টিউব ও ক্যাসকেড সিলিন্ডার ট্রেইলারগুলো চীনের Enrich CNG প্রতিষ্ঠান তৈরি করেছে এবং Hartfast Stream Boiler সেগুলোর মান যাচাই ও সনদ প্রদান করেছে। বাংলাদেশে এ ধরনের বিশেষায়িত যানবাহনের পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুবিধা না থাকায় বিস্ফোরক অধিদপ্তর, ইন্ট্রাকো এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)-এর প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি প্রতিনিধি দল চীন সফর করে প্রস্তুতকারক ও সনদ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানে সরেজমিন পরিদর্শন করে।

মহাপরিচালক মহসিন উদ্দিন বলেন, প্রতিনিধি দল পরিদর্শনের পর নিশ্চিত হয়েছে যে, ইন্ট্রাকোর ব্যবহৃত যানবাহনগুলো নিরাপদভাবে গ্যাস পরিবহনের উপযোগী। তবে বাকি ২০টি ক্যাসকেড সিলিন্ডার ট্রেইলারের স্থায়ী লাইসেন্স দিতে বিদ্যমান বিধিমালায় সংশোধন প্রয়োজন হবে।

ইন্ট্রাকোর কোম্পানি সচিব জি.এম. সালাহউদ্দিন বলেন, বর্তমানে বাজারের চাহিদার তুলনায় কম পরিমাণ গ্যাস সরবরাহ করা হলেও জাতীয় গ্যাস পাইপলাইন নেটওয়ার্কের বাইরে থাকা শিল্পকারখানার জন্য কোম্পানিটি এখনো একটি গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহকারী।

সুন্দরবন গ্যাস কোম্পানির সঙ্গে ১০ বছরের চুক্তির আওতায় ইন্ট্রাকো ঢাকা, গাজীপুর ও টাঙ্গাইলের শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সংকুচিত গ্যাস সরবরাহ করছে। চুক্তি অনুযায়ী শুরুতে দৈনিক ৫০ লাখ ঘনফুট (৫ এমএমসিএফডি) গ্যাস পরিবহনের কথা থাকলেও পর্যায়ক্রমে তা ২ কোটি ৫০ লাখ ঘনফুট (২৫ এমএমসিএফডি) পর্যন্ত বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। তবে কার্যক্রম স্থগিত হওয়ার আগে কোম্পানিটি প্রতিদিন প্রায় ৩৫ লাখ ঘনফুট (৩.৫ এমএমসিএফডি) গ্যাস পরিবহন করছিল।

ইন্ট্রাকো সুন্দরবন গ্যাস কোম্পানির কাছ থেকে প্রতি ইউনিট গ্যাস ১৭ টাকা ১০ পয়সা দরে কিনে সংকুচিত প্রাকৃতিক গ্যাস (সিএনজি) প্রতি ইউনিট ৪৭ টাকা ৬০ পয়সা দরে বিক্রি করে।

গ্যাস সরবরাহ প্রক্রিয়ায় প্রথমে ভোলার গ্যাসক্ষেত্র থেকে উদ্বৃত্ত গ্যাস উত্তোলন করে সুন্দরবন গ্যাস কোম্পানি। এরপর ইন্ট্রাকো সেই গ্যাস সংকুচিত করে উচ্চচাপের ক্যাসকেড সিলিন্ডার ট্রেইলারে লোড করে শিল্পাঞ্চলে পরিবহন করে। গন্তব্যে পৌঁছানোর পর রেগুলেটিং কন্ট্রোল ইউনিট (আরসিইউ) ১ হাজার পিএসআই চাপ থেকে গ্যাসকে ১৫ পিএসআই-এ নামিয়ে শিল্পকারখানার বয়লার ও বিদ্যুৎ উৎপাদন যন্ত্রে ব্যবহারের উপযোগী করে। আর্থিক অবস্থার অবনতির কারণে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে দেশের দুই স্টক এক্সচেঞ্জে ইন্ট্রাকোর শেয়ার 'জেড' ক্যাটাগরিতে অবনমিত করা হয়।

মামুন/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে