ঢাকা, শনিবার, ৮ আগস্ট ২০২৬

চাঁদের ছায়ায় ঢেকে যাবে সূর্য, কবে ও কোথায় দেখা যাবে বিরল দৃশ্য

২০২৬ আগস্ট ০৮ ১১:২৩:৪৫
চাঁদের ছায়ায় ঢেকে যাবে সূর্য, কবে ও কোথায় দেখা যাবে বিরল দৃশ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক: আকাশে দেখা যাবে বিরল এক মহাজাগতিক দৃশ্য। আগামী ১২ আগস্ট ২০২৬, বুধবার ঘটবে বছরের অন্যতম আলোচিত পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ। এ সময় চাঁদ সূর্যকে পুরোপুরি ঢেকে দেবে এবং পৃথিবীর নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চল থেকে কিছু সময়ের জন্য দিনের আকাশে রাতের মতো অন্ধকার নেমে আসবে।

মহাজাগতিক এই ঘটনা নিয়ে ইতোমধ্যে জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তবে বাংলাদেশের আকাশ থেকে এবার এই সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে না।

১২ আগস্ট চাঁদ পৃথিবী ও সূর্যের মাঝখানে অবস্থান করবে। ফলে চাঁদের ছায়া পৃথিবীর নির্দিষ্ট অংশের ওপর পড়বে এবং সেসব অঞ্চল থেকে সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে।

NASA-এর তথ্য অনুযায়ী, এদিন পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণের পথ গ্রিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড, উত্তর রাশিয়া, আটলান্টিক মহাসাগর, স্পেন এবং পর্তুগালের একটি ছোট অংশের ওপর দিয়ে যাবে। উত্তর গোলার্ধের আরও বিস্তীর্ণ এলাকায় আংশিক সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে।

বাংলাদেশ থেকে কি দেখা যাবে?না। ১২ আগস্টের এই সূর্যগ্রহণ বাংলাদেশ থেকে দৃশ্যমান হবে না। ফলে বাংলাদেশে বসে খালি চোখে কিংবা নিরাপদ সৌর ফিল্টার ব্যবহার করেও এই গ্রহণ সরাসরি দেখা সম্ভব হবে না।

তবে বিশ্বের যেসব অঞ্চলে গ্রহণ দৃশ্যমান হবে, সেখানকার বিভিন্ন সংস্থা ও মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান সরাসরি সম্প্রচার করতে পারে। NASA-ও গ্রহণ উপলক্ষে বিশেষ সম্প্রচারের আয়োজন করেছে।

পূর্ণগ্রাস গ্রহণের মূল পথ তুলনামূলক সরু। NASA জানিয়েছে, উত্তর রাশিয়া, গ্রিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড এবং স্পেনের কিছু অংশ থেকে পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে। পর্তুগালের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের একটি ছোট অংশও পূর্ণগ্রাসের পথে রয়েছে।

সেখানে গ্রহণটি সূর্যাস্তের সময়ের কাছাকাছি একটি বিশেষ দৃশ্য তৈরি করতে পারে।

পূর্ণগ্রাস পর্যায় খুব বেশি সময় স্থায়ী হবে না। NASA-এর তথ্য অনুযায়ী, গ্রহণের মূল পথের অধিকাংশ জায়গায় পূর্ণগ্রাস দুই মিনিটের কম সময় স্থায়ী হবে। কেন্দ্রীয় পথের কিছু অঞ্চলে এটি দুই মিনিটের কিছু বেশি হতে পারে।

উদাহরণ হিসেবে, NASA-এর স্থানীয় সময়ের হিসাব অনুযায়ী আইসল্যান্ডের রেইকিয়াভিকে পূর্ণগ্রাস শুরু হবে বিকেল ৫টা ৪৮ মিনিটে এবং শেষ হবে ৫টা ৪৯ মিনিটে। স্পেনের লিওনে পূর্ণগ্রাস থাকবে প্রায় দুই মিনিট।

সূর্যগ্রহণের সময় চাঁদ সূর্যের সামনে এসে পড়লে পৃথিবীর নির্দিষ্ট অঞ্চল থেকে সূর্যের আলো আংশিক বা পুরোপুরি ঢেকে যেতে দেখা যায়।

যে অঞ্চলে চাঁদ সূর্যের পুরো চাকতি ঢেকে ফেলে, সেখানে ঘটে পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ। তখন সূর্যের উজ্জ্বল পৃষ্ঠ আড়াল হয়ে তার বাইরের বায়ুমণ্ডল বা করোনা দৃশ্যমান হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।

এই কারণেই পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ গবেষণার সুযোগ তৈরি করে।

সূর্যগ্রহণ দেখার সময় সরাসরি সূর্যের দিকে তাকানো নিরাপদ নয়। সাধারণ সানগ্লাস ব্যবহার করে সূর্য দেখা চোখের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

পূর্ণগ্রাসের একেবারে সংক্ষিপ্ত পর্যায়ে যখন চাঁদ সূর্যের উজ্জ্বল মুখ সম্পূর্ণ ঢেকে দেয়, তখন সরাসরি দেখার বিশেষ পরিস্থিতি তৈরি হয়। তবে গ্রহণের অন্যান্য পর্যায়ে অবশ্যই অনুমোদিত সৌর পর্যবেক্ষণ চশমা বা নিরাপদ সৌর ফিল্টার ব্যবহার করতে হবে।

১২ আগস্টের পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ শুধু সাধারণ মানুষের জন্য নয়, বিজ্ঞানীদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। NASA জানিয়েছে, গ্রহণের সময় সূর্যের করোনা নিয়ে গবেষণার জন্য বিশেষ বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষার পরিকল্পনা রয়েছে।

অর্থাৎ বাংলাদেশ থেকে সরাসরি দেখা না গেলেও ১২ আগস্টের সূর্যগ্রহণ বিশ্বজুড়ে জ্যোতির্বিজ্ঞানপ্রেমীদের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য মহাজাগতিক ঘটনা হতে যাচ্ছে।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এর সর্বশেষ খবর

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি - এর সব খবর



রে