ঢাকা, শনিবার, ৮ আগস্ট ২০২৬

র‌্যাব বিলুপ্ত করে আসছে এসআরবি, খসড়া আইনে যা থাকছে

২০২৬ আগস্ট ০৮ ১১:৩২:৪৩
র‌্যাব বিলুপ্ত করে আসছে এসআরবি, খসড়া আইনে যা থাকছে

নিজস্ব প্রতিবেদক: র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন বা র‌্যাবের পরিবর্তে নতুন নামে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ জন্য ‘এসআরবি আইন, ২০২৬’-এর একটি খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রস্তাবিত আইনে নতুন বাহিনীর কাঠামো, দায়িত্ব, ক্ষমতা এবং সদস্যদের জবাবদিহির বিষয়ে বেশ কিছু বিধান রাখা হয়েছে।

তবে এখনই র‌্যাব বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে—বিষয়টি এমন নয়। এটি বর্তমানে আইন প্রণয়নের প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। খসড়ার ওপর মতামত নেওয়া, প্রয়োজনীয় সংশোধন এবং পরবর্তী সরকারি ও সংসদীয় প্রক্রিয়া শেষে আইন কার্যকর হলে র‌্যাবের পরিবর্তে নতুন কাঠামোয় এসআরবি কার্যক্রম শুরু করতে পারবে।

প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, এসআরবি বাংলাদেশ পুলিশের অধীনে একটি বিশেষায়িত ইউনিট হিসেবে কাজ করবে। বাহিনীর প্রধান হিসেবে অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক পদমর্যাদার একজন মহাপরিচালক থাকার প্রস্তাব করা হয়েছে।

এসআরবির সদর দপ্তর ঢাকায় রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও প্রয়োজন বিবেচনায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় এর ইউনিট বা শাখা স্থাপন করা যাবে। ফলে নতুন বাহিনীটি শুধু রাজধানীকেন্দ্রিক না হয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে।

নাম ও আইনি কাঠামোয় পরিবর্তন এলেও এসআরবির দায়িত্বের বড় অংশ র‌্যাবের কার্যক্রমের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষা, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, সন্ত্রাস দমন, মাদকবিরোধী অভিযান এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের মতো কাজে নতুন বাহিনীকে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

এর পাশাপাশি মানবপাচার, সংঘবদ্ধ অপরাধ, সাইবার অপরাধ এবং রাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করতে পারে—এমন বিভিন্ন অপরাধ মোকাবিলায়ও এসআরবি কাজ করবে। প্রয়োজনে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অভিযান ও নিরাপত্তা কার্যক্রমে সহায়তা করার দায়িত্বও থাকবে।

প্রস্তাবিত আইনের অন্যতম উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো নাগরিকদের অভিযোগ জানানোর জন্য আলাদা ব্যবস্থা রাখা। এসআরবির কোনো সদস্য ক্ষমতার অপব্যবহার, হয়রানি, অন্যায় আচরণ বা দায়িত্ব পালনে অনিয়ম করলে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করার সুযোগ থাকবে সাধারণ নাগরিকদের।

অভিযোগ গ্রহণ, তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য একটি পৃথক অভিযোগ প্রতিকার কমিটি গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কমিটি অভিযোগ যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করতে পারবে।

নতুন এই ব্যবস্থার মাধ্যমে বাহিনীর সদস্যদের কর্মকাণ্ডে জবাবদিহি বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে নাগরিকদের অভিযোগকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে বিবেচনার সুযোগ তৈরি হবে।

এসআরবির সদস্যদের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে কঠোর শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার বিধানও প্রস্তাবিত আইনে রাখা হয়েছে। দায়িত্বে অবহেলা, বেআইনি অর্থ আদায়, মাদকাসক্তি, সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার কিংবা কোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত হলে সংশ্লিষ্ট সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ থাকবে।

অভিযোগের ধরন ও গুরুত্ব অনুযায়ী বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজন হলে প্রচলিত আইনে মামলাও হতে পারে। এর ফলে নতুন বাহিনীর সদস্যদের কর্মকাণ্ডের ওপর নিয়ন্ত্রণ ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্য রয়েছে।

প্রস্তাবিত কাঠামোয় প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী থেকে কর্মকর্তা ও সদস্যকে এসআরবিতে দায়িত্ব দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। বিশেষায়িত অভিযান পরিচালনার জন্য অভিজ্ঞ ও দক্ষ সদস্যদের কাজে লাগানোই এর অন্যতম উদ্দেশ্য।

এতে পুলিশের পাশাপাশি অন্যান্য বাহিনীতে কর্মরত দক্ষ জনবলও নির্দিষ্ট সময়ের জন্য এসআরবির সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পেতে পারেন।

আইন কার্যকর হলে র‌্যাবের বিদ্যমান সম্পদ, অবকাঠামো ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার একটি অংশ নতুন বাহিনীর কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে প্রয়োজন অনুযায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারী ও অন্যান্য প্রশাসনিক বিষয়ও নতুন ব্যবস্থার আওতায় আনার সুযোগ থাকবে।

এর ফলে নতুন বাহিনী গঠনের সময় একেবারে নতুন করে সবকিছু তৈরি করার পরিবর্তে বিদ্যমান কাঠামোর কিছু অংশ ব্যবহার করা সম্ভব হবে।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে