ঢাকা, রবিবার, ৯ আগস্ট ২০২৬

অলি আহমদকে বেছে নেওয়ার নেপথ্যে যা

২০২৬ আগস্ট ০৯ ১৬:৩৫:০২
অলি আহমদকে বেছে নেওয়ার নেপথ্যে যা

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া জুলাই সনদ অনুযায়ী সংস্কারের মাধ্যমে সর্বসম্মতিক্রমে নির্ধারণ করা উচিত ছিল বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, বিএনপি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করায় সেই সুযোগ তৈরি হয়নি।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বাংলাদেশের সাংবিধানিক ও রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাই সনদ প্রণয়নের সময় রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কীভাবে হবে, তা নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছিল। সেখানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ঐকমত্যের ভিত্তিতে একজন সর্বজনগ্রহণযোগ্য রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য নতুন পদ্ধতির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল।

তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পদ্ধতি সংশোধনের পাশাপাশি রাষ্ট্রের ক্ষমতার ভারসাম্য নিশ্চিত করার বিষয়টিও জুলাই সনদে আলোচনায় এসেছিল। রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা কীভাবে আরও কার্যকর করা যায়, সে বিষয়েও বিভিন্ন প্রস্তাব ছিল।

নাহিদ ইসলাম জানান, ১১ দলের প্রত্যাশা ছিল—জাতীয় নির্বাচনের পর গণভোটের মাধ্যমে পাওয়া ম্যান্ডেট অনুযায়ী জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করা হবে। এরপর সংস্কার পরিষদ গঠন করে সংস্কারকৃত সংবিধানের অধীনে নতুনভাবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করা হবে। তবে সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বলেন, সরকার গণভোটের রায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। সংস্কার পরিষদের শপথ হয়নি, অধিবেশনও ডাকা হয়নি। একই সঙ্গে বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে দলীয়করণ করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।

নাহিদ ইসলামের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনকেও দলীয়করণের আওতায় আনা হয়েছে।

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের প্রসঙ্গ তুলে নাহিদ ইসলাম বলেন, ১১ দল প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিন থেকেই তাকে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে সরিয়ে জুলাই সনদ অনুযায়ী নতুন রাষ্ট্রপতি নিয়োগের দাবি জানিয়েছিল। কিন্তু তাকে আরও ছয় মাস পদে রাখা হয়েছে।

তিনি বলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতিকে কোনো ধরনের বিচারের আওতায় না এনে ‘ফ্রি এক্সিট’ দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। কেন তার মেয়াদ আরও ছয় মাস বাড়ানো হলো এবং এর পেছনে কোনো রাজনৈতিক পরিকল্পনা রয়েছে কি না—তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

ভবিষ্যতে রাষ্ট্রপতির ভূমিকা কী হবে, বিশেষ করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে রাষ্ট্রপতির ভূমিকা কীভাবে নির্ধারিত হবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন নাহিদ ইসলাম। তার মতে, বর্তমান সিদ্ধান্তের কারণে এ বিষয়ে রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

বিএনপির অতীত রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, ক্ষমতার পালাবদলের সময় নিজেদের হাতে ক্ষমতা ধরে রাখার চেষ্টা বিএনপি বিভিন্ন সময়ে করেছে। এর ফলে দেশে রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সংকট তৈরি হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এ অবস্থায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ১১ দলের পক্ষ থেকে প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানান নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, ১১ দল ঐক্যবদ্ধভাবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ নেবে এবং তাদের একজন অভিন্ন প্রার্থী থাকবেন।

সেই অভিন্ন প্রার্থী হিসেবে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে।

অলি আহমদকে প্রার্থী করার কারণ ব্যাখ্যা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, কর্নেল অলি একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ ও রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধা। বর্তমান রাজনৈতিক সংকটের সময়ে রাষ্ট্রের অভিভাবক হিসেবে তাকে উপযুক্ত মনে করছে ১১ দল।

তার নেতৃত্বে দেশের চলমান রাজনৈতিক সংকট নিরসনের সুযোগ রয়েছে বলেও আশা প্রকাশ করেন নাহিদ ইসলাম।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে