ঢাকা, শনিবার, ৮ আগস্ট ২০২৬

জিএসপি ইনভেস্টমেন্টের হিসাব-লেনদেন খতিয়ে দেখবে বিএসইসি

২০২৬ আগস্ট ০৮ ২১:৪১:৩৭
জিএসপি ইনভেস্টমেন্টের হিসাব-লেনদেন খতিয়ে দেখবে বিএসইসি

নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারের মার্চেন্ট ব্যাংক জিএসপি ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের সার্বিক কার্যক্রম ও নিবন্ধনের যোগ্যতা যাচাই করতে তদন্তের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক অবস্থা, গ্রাহক হিসাব, মার্জিন ঋণ ও নিট সম্পদের পরিস্থিতিও খতিয়ে দেখতে দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।

শেয়ারবাজার ও বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষার লক্ষ্যে জিএসপি ফাইন্যান্স কোম্পানি (বাংলাদেশ) পিএলসির সহযোগী প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন কার্যক্রম যাচাই করবে বিএসইসির তদন্ত দল। কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী, তদন্ত শুরু হওয়ার পর ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে অনুসন্ধান শেষ করে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি বিএসইসির মার্কেট ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন বিভাগ থেকে এ বিষয়ে একটি আদেশ জারি করা হয়েছে। তদন্ত কমিটিতে রয়েছেন কমিশনের উপপরিচালক মো. শাহনওয়াজ এবং সহকারী পরিচালক নুজহাত খাদিজা মিম।

এ বিষয়ে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম বলেন, জিএসপি ইনভেস্টমেন্টের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ পাওয়ার পর কমিশন তদন্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তদন্তের অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম, আর্থিক হিসাব, গ্রাহক হিসাব, মার্জিন ঋণসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় যাচাই করা হচ্ছে। তদন্তে অনিয়ম, অসঙ্গতি বা বিধিবহির্ভূত কর্মকাণ্ডের প্রমাণ মিললে প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কমিশনের আদেশ অনুযায়ী, জিএসপি ইনভেস্টমেন্ট প্রতিষ্ঠার পর থেকে মার্চেন্ট ব্যাংক হিসেবে পরিচালিত সব কার্যক্রম আইন, বিধিমালা ও নিবন্ধন সনদের শর্ত মেনে হয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করবে তদন্ত কমিটি। বিশেষভাবে ইস্যু ব্যবস্থাপনা, পোর্টফোলিও ব্যবস্থাপনা, আন্ডাররাইটিং ও নিজস্ব বিনিয়োগসহ বিভিন্ন কার্যক্রম পর্যালোচনা করা হবে।

এ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটির নিবন্ধন সনদের শর্ত, ফরম ‘খ’ এবং সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (মার্চেন্ট ব্যাংকার ও পোর্টফোলিও ম্যানেজার) বিধিমালা, ১৯৯৬-এর সংশ্লিষ্ট বিধান বিবেচনায় নেওয়া হবে। পাশাপাশি গত পাঁচ বছরে প্রতিষ্ঠানটি মার্চেন্ট ব্যাংক হিসেবে নিবন্ধনের অযোগ্য কোনো অবস্থায় পড়েছিল কি না, সেটিও যাচাই করা হবে। এজন্য সংশ্লিষ্ট বিধিমালায় নির্ধারিত নিবন্ধনের যোগ্যতা ও অযোগ্যতার শর্তগুলো পর্যালোচনা করবে তদন্ত দল।

তদন্তের আওতায় থাকবে জিএসপি ইনভেস্টমেন্টের গ্রাহক-সংক্রান্ত নথিপত্রও। নির্ধারিত সময়ে গ্রাহকদের হিসাব, চুক্তিপত্র ও হিসাব বিবরণী যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী গ্রাহকদের সরবরাহ করা হয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করা হবে। একই সঙ্গে গ্রাহকদের দেওয়া মার্জিন ঋণ সংশ্লিষ্ট বিধিমালা ও নির্দেশনা অনুযায়ী দেওয়া হয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হবে।

প্রতিষ্ঠানটির গত পাঁচ বছরের আর্থিক অবস্থাও বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করা হবে। এ সময়ের নিরীক্ষিত ও অনিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী, হিসাবের বই, সহায়ক নথি এবং অন্যান্য আর্থিক তথ্য পরীক্ষা করবে তদন্ত কমিটি। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের হিসাবরক্ষণ পদ্ধতি ও আর্থিক বিবরণী সংশ্লিষ্ট আইন, বিধিমালা এবং ঝুঁকিভিত্তিক মূলধন পর্যাপ্ততা-সংক্রান্ত বিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা যাচাই করা হবে।

তদন্তে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে প্রতিষ্ঠানটির প্রকৃত নিট সম্পদের অবস্থার ওপর। গত পাঁচ বছরে জিএসপি ইনভেস্টমেন্টের নিট সম্পদ কত ছিল এবং এ সময়ে কোনো অবনতি বা ঘাটতি তৈরি হয়েছে কি না, তা নির্ধারণ করা হবে। ঘাটতি পাওয়া গেলে এর কারণও অনুসন্ধান করা হবে।

নিট সম্পদের ঘাটতির পেছনে অবাস্তবায়িত লোকসানের বিপরীতে সংরক্ষণ, বিনিয়োগের মূল্যহ্রাস, ঋণাত্মক মালিকানা স্বত্ব কিংবা অন্য কোনো আর্থিক সমন্বয়ের প্রভাব রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হবে। এসব কারণে প্রতিষ্ঠানটির সামগ্রিক আর্থিক অবস্থায় কী ধরনের প্রভাব পড়েছে, তদন্ত প্রতিবেদনে তা উল্লেখ করা হবে।

এ ছাড়া মার্চেন্ট ব্যাংকারদের জন্য নির্ধারিত আচরণবিধি জিএসপি ইনভেস্টমেন্ট যথাযথভাবে অনুসরণ করেছে কি না, সেটিও যাচাই করবে বিএসইসি। তদন্তে কোনো লঙ্ঘন বা অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট বিধানের আলোকে প্রতিষ্ঠানটির মার্চেন্ট ব্যাংক হিসেবে নিবন্ধন সনদ বহাল রাখা বা নবায়নের বিষয়ে কমিশনের কাছে সুপারিশ করা হবে।

তদন্ত চলাকালে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম, লেনদেন, নথিপত্র বা অন্য কোনো বিষয়ে অতিরিক্ত যাচাইয়ের প্রয়োজন হলে সেসব বিষয়ও অনুসন্ধানের আওতায় নেওয়া যাবে বলে বিএসইসির আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে পুঁজিবাজার-সংক্রান্ত আইন ও বিধিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না এবং বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষিত রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে চায় কমিশন।

সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অর্ডিন্যান্স, ১৯৬৯-এর ধারা ২১ এবং বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন আইন, ১৯৯৩-এর ধারা ১৭ক অনুযায়ী প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এসব বিষয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে বিএসইসি। এ জন্য দুই কর্মকর্তার সমন্বয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আদেশ জারির তারিখ থেকে ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত শেষ করে কমিশনে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মামুন/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে