ঢাকা, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

লোকসান কাটিয়ে মুনাফায় ফিরছে বহুজাতিক কোম্পানি

২০২৬ জুলাই ২৫ ২১:০৭:০১
লোকসান কাটিয়ে মুনাফায় ফিরছে বহুজাতিক কোম্পানি

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভোক্তা ইলেকট্রনিকস ও হোম অ্যাপ্লায়েন্স প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান সিঙ্গার বাংলাদেশ লিমিটেড ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) লোকসান কাটিয়ে আবারও মুনাফায় ফিরেছে। পরিচালন কার্যক্রমে উন্নতি এবং অর্থায়ন ব্যয় (ফাইন্যান্স কস্ট) কমে আসায় প্রতিষ্ঠানটির এই ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব হয়েছে।

তবে বছরের প্রথম ছয় মাসে (জানুয়ারি-জুন) দুর্বল ভোক্তা চাহিদা, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং প্রতিকূল বাজার পরিস্থিতির কারণে কোম্পানিটি এখনো সামগ্রিকভাবে লোকসানে রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) প্রকাশিত মূল্য-সংবেদনশীল তথ্য (পিএসআই) অনুযায়ী, ৩০ জুন ২০২৬ সমাপ্ত দ্বিতীয় প্রান্তিকের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুমোদন করেছে কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ১ টাকা ৩৬ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে শেয়ারপ্রতি ৩ টাকা ১১ পয়সা লোকসান হয়েছিল। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটি লোকসান থেকে মুনাফায় ফিরেছে।

অন্যদিকে, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে শেয়ারপ্রতি লোকসান (এলপিএস) দাঁড়িয়েছে ৪ টাকা ২৪ পয়সা। যদিও ২০২৫ সালের একই সময়ে এই লোকসান ছিল ৬ টাকা ৬১ পয়সা। ফলে অর্ধবার্ষিক ভিত্তিতে লোকসানের পরিমাণ কিছুটা কমেছে।

বৃহস্পতিবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) কোম্পানিটির শেয়ারের সর্বশেষ দাম ছিল ৭৬ টাকা ৯০ পয়সা।

আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত কোম্পানির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভি) ঋণাত্মক ২ টাকা ৫৫ পয়সায় নেমে এসেছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে যা ছিল ইতিবাচক ১ টাকা ৬৯ পয়সা। এছাড়া চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে শেয়ারপ্রতি পরিচালন নগদ প্রবাহ (এনওসিএফপিএস) কমে ৫ টাকা ৪৯ পয়সা হয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১২ টাকা ৫২ পয়সা।

কোম্পানিটি জানিয়েছে, দ্বিতীয় প্রান্তিকে তাদের বিক্রয় আয় (রাজস্ব) আগের বছরের তুলনায় ৩.৪০ শতাংশ বেড়ে ৮৪০ কোটি টাকা হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ৮১০ কোটি টাকা। তবে প্রত্যাশার তুলনায় বিক্রি কম হয়েছে, কারণ ভোক্তা ইলেকট্রনিকস বাজারে চাহিদা এখনও দুর্বল।

সিঙ্গারের মতে, দীর্ঘস্থায়ী মূল্যস্ফীতি, বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে ভোক্তাদের ব্যয় করার প্রবণতা কমে গেছে। ফলে বিক্রিতে প্রত্যাশিত গতি আসেনি।

যদিও কোম্পানির মোট মুনাফার মার্জিন কিছুটা বেড়েছে, তবুও বাজারে তীব্র মূল্য প্রতিযোগিতার কারণে বাড়তি উৎপাদন ব্যয়ের পুরোটা ভোক্তাদের ওপর চাপানো সম্ভব হয়নি।

এদিকে পরিচালন মুনাফা (অপারেটিং প্রফিট) আগের বছরের তুলনায় ১০.৭০ শতাংশ বেড়েছে। এর ফলে দ্বিতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটির কর-পূর্ব মুনাফা দাঁড়িয়েছে ১৪ কোটি ৮ লাখ টাকা, যেখানে গত বছরের একই সময়ে ২৭ কোটি ৯১ লাখ টাকা কর-পূর্ব লোকসান হয়েছিল।

এছাড়া বিনিময় হার স্থিতিশীল থাকায় কোম্পানির অর্থায়ন ব্যয় ৩৫.৮০ শতাংশ কমেছে, যা মুনাফায় ফেরার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

তবে কার্যকরী মূলধন (ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল) ব্যবস্থাপনায় এখনো চাপ রয়েছে বলে জানিয়েছে কোম্পানিটি। প্রত্যাশার তুলনায় বিক্রি কম হওয়ায় মজুত পণ্যের পরিমাণ (ইনভেন্টরি) ৯.২০ শতাংশ বেড়েছে। একই সঙ্গে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের তুলনায় স্বল্পমেয়াদি ঋণ ১৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

অন্যদিকে ডিলারদের কাছে বেশি ঋণ সুবিধায় পণ্য বিক্রি এবং অর্থ আদায়ে ধীরগতির কারণে কোম্পানির বাণিজ্যিক পাওনা (ট্রেড রিসিভেবল) ৭৭.১০ শতাংশ বেড়েছে।

সিঙ্গার জানিয়েছে, ডিলার ফাইন্যান্সিং, মৌসুমি ব্যবসায়িক ধারা এবং বর্ধিত ঋণ সুবিধার কারণে পরিচালন নগদ প্রবাহে চাপ তৈরি হয়েছে। তবে চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিক থেকে ব্যবসায়িক পরিবেশের উন্নতির সঙ্গে নগদ প্রবাহও ইতিবাচক হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে কোম্পানিটি।

এসউদ্দিন/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে