ঢাকা, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে মামলা নিয়ে আইনমন্ত্রীর ব্যাখ্যা

২০২৬ জুলাই ২৫ ১৮:২৫:১৩
রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে মামলা নিয়ে আইনমন্ত্রীর ব্যাখ্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক: সদ্য পদত্যাগ করা রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে মামলা হলে তা যাচাই-বাছাই করে দেখা হবে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। একই সঙ্গে রাষ্ট্রপতি থাকাকালে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর উদ্দেশ্যও খতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

শনিবার (২৫ জুলাই) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে একটি অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘সদ্য বিদায়ী রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে মামলা হলে তা যাচাই-বাছাই করা হবে। এর আগে তার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ উঠেছিল, সেগুলোর উদ্দেশ্যও খতিয়ে দেখা হবে।’

রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনের আগে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী বলেন, এসব বিষয়ও যাচাই-বাছাই করে দেখা হবে। তবে কখন এবং কীভাবে বিষয়গুলো পর্যালোচনা করা হবে, সে বিষয়ে এখনই বিস্তারিত কিছু বলতে চাননি তিনি।

তিনি বলেন, অভিযোগগুলো যারা করেছেন, তাদের উদ্দেশ্য কী ছিল—সেটিও বিবেচনায় নেওয়া হবে। অভিযোগের পেছনে সৎ উদ্দেশ্য ছিল, নাকি অন্য কোনও উদ্দেশ্য ছিল, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে মামলা ও দায়মুক্তি প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, আইনে রাষ্ট্রপতিকে নির্দিষ্ট সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে।

সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক দায়মুক্তির বিষয়টি তুলে ধরে জানতে চাওয়া হয়, দায়িত্ব পালনকালে সংঘটিত কর্মকাণ্ডের জন্য সাবেক রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে মামলা করা যাবে কি না।

জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘যখন ব্যাখ্যার প্রয়োজন আসবে, তখন ব্যাখ্যা দেওয়া যাবে।’ একই সঙ্গে তিনি জানান, আইন অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির জন্য যে সুরক্ষা রয়েছে, সেটিও বিবেচনায় রাখতে হবে।

নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সময়সীমা

এদিকে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়েও কথা বলেছেন আইনমন্ত্রী। তিনি জানান, আগামী সেপ্টেম্বরের নিয়মিত সংসদ অধিবেশনেই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ জন্য আলাদা করে বিশেষ সংসদ অধিবেশন আহ্বানের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আইনমন্ত্রী বলেন, সংবিধানের ১২৩(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে। সেই হিসাবে আগামী ২৪ অক্টোবরের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করার সুযোগ রয়েছে। তাই এই মুহূর্তে বিশেষ অধিবেশন ডাকার প্রয়োজন দেখছেন না তিনি।

মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগের পর সংবিধান অনুযায়ী নতুন রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব নেওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন, সে বিষয়ে জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘সময়ই বলে দেবে।’

এদিকে সাবেক রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে মামলা হলে সেটি কীভাবে আইনি প্রক্রিয়ায় এগোবে এবং সাংবিধানিক সুরক্ষার বিষয়টি কীভাবে প্রযোজ্য হবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক ও আইনজীবী মহলে আলোচনা চলছে। আইনমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, এ ধরনের কোনও মামলা হলে তা সরাসরি গ্রহণ বা বাতিল না করে অভিযোগের প্রকৃতি, আইনি ভিত্তি এবং সংশ্লিষ্ট সাংবিধানিক বিধান যাচাই করেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে