ঢাকা, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬

গ্রাহকদের জন্য নতুন চাপ! ব্যাংকের ১৪ সেবায় ফি বসানোর প্রস্তাব

২০২৬ জুলাই ১২ ১২:২৪:৫১
গ্রাহকদের জন্য নতুন চাপ! ব্যাংকের ১৪ সেবায় ফি বসানোর প্রস্তাব

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের ব্যাংকিং খাতে নতুন করে বিভিন্ন সেবায় ফি আরোপের প্রস্তাব দিয়েছে ব্যাংকগুলোর সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশ (এবিবি)। বর্তমানে যেসব সেবা গ্রাহকদের জন্য বিনামূল্যে রয়েছে, সেসব সেবার কয়েকটিতেও নতুন করে চার্জ বসানোর সুপারিশ করা হয়েছে।

সম্প্রতি এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দিয়েছে এবিবি। প্রস্তাবটি অনুমোদন হলে আমানতকারী, ব্যবসায়ী, আমদানিকারক, রপ্তানিকারক ও ঋণগ্রহীতাদের ব্যাংকিং খরচ বাড়তে পারে।

এবিবির প্রস্তাবে ১৪টি নতুন খাতে ফি আরোপের পাশাপাশি বেশ কিছু বিদ্যমান চার্জ বাড়ানোর কথাও বলা হয়েছে। ব্যাংকগুলোর দাবি, পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধি, প্রযুক্তিনির্ভর সেবার সম্প্রসারণ এবং গ্রাহকসেবা বজায় রাখতে বর্তমান চার্জ কাঠামো পুনর্বিবেচনা প্রয়োজন।

প্রস্তাবে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন নিষ্ক্রিয় থাকা (ডরম্যান্ট) ব্যাংক হিসাব পুনরায় চালু করতে ৫০০ টাকা ফি নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হোক।

এ ছাড়া চলমান ঋণের ক্ষেত্রে প্রতিবছর বকেয়া ঋণের সর্বোচ্চ ১ শতাংশ বা সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ ব্যবস্থাপনা ও মনিটরিং ফি নেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।

আমদানিকারকদের জন্য বায়ার্স ক্রেডিট ব্যবস্থাপনার বিপরীতে ১ শতাংশ ফি, বড় করপোরেট ঋণ ও ট্রেড ফাইন্যান্সে ডিল স্ট্রাকচারিং ফি হিসেবে ১ শতাংশ এবং ঋণের সুদের বাইরে অতিরিক্ত ঝুঁকি প্রিমিয়াম বাবদ আরও ১ শতাংশ ফি নেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।

এ ছাড়া নগদ বৈদেশিক মুদ্রা বিক্রির ক্ষেত্রে ২ শতাংশ কমিশন আরোপের সুপারিশ করা হয়েছে।

বর্তমানে ব্যাংক কাউন্টার থেকে নগদ টাকা উত্তোলনের ক্ষেত্রে সাধারণত কোনো সীমা বা আলাদা চার্জ নেই। তবে নতুন প্রস্তাবে মাসে তিনবার পর্যন্ত উত্তোলন বিনামূল্যে রাখার কথা বলা হয়েছে।

এর পর চতুর্থ থেকে দশমবার পর্যন্ত প্রতিবার ১০০ টাকা এবং দশমবারের বেশি উত্তোলনে প্রতিবার ৩০০ টাকা ফি নেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।

ব্যবসায়িক হিসাবের ক্ষেত্রেও একই ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। মাসে ২০ বার পর্যন্ত বিনামূল্যে উত্তোলনের সুযোগ রেখে ২১ থেকে ৫০ বার পর্যন্ত প্রতিবার ১০০ টাকা এবং ৫০ বারের বেশি হলে প্রতিবার ১৫০ টাকা ফি নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

ঋণপত্র (এলসি) খোলার আবেদন গ্রহণে ১০০ টাকা, বিদেশি এলসির নথি প্রক্রিয়াকরণে সর্বোচ্চ ২০ মার্কিন ডলার এবং স্থানীয় এলসির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১ হাজার টাকা চার্জের প্রস্তাব করা হয়েছে।

এ ছাড়া এলসির নথি অনুমোদন বা সত্যায়নের জন্য সর্বোচ্চ ১ হাজার টাকা এবং সক্রিয় এলসি বাতিলের জন্য ৫০০ টাকা ফি নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

বর্তমানে বছরে একটি ও ছয় মাসে একটি ব্যালেন্স কনফারমেশন সার্টিফিকেট বিনামূল্যে দেওয়া হয়। নতুন প্রস্তাবে এ সেবার জন্য ৩০০ টাকা ফি নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে।

বিদ্যমান ঋণ প্রক্রিয়াকরণ ফি সর্বোচ্চ ০.৫০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২ শতাংশ করার প্রস্তাব দিয়েছে এবিবি।

ঋণ পুনঃতফসিল বা পুনর্গঠনের ফি ০.২৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ১ শতাংশ করার সুপারিশ করা হয়েছে। তবে কৃষি ও সিএমএসএমই ঋণের ক্ষেত্রে আলাদা সুবিধা রাখার কথা বলা হয়েছে।

এ ছাড়া মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে ঋণ পরিশোধ করলে আগাম নিষ্পত্তি ফি বর্তমান ০.৫০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২ শতাংশ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

সঞ্চয়ী হিসাবে গড় স্থিতি ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত বর্তমানে কোনো হিসাব রক্ষণাবেক্ষণ ফি দিতে হয় না। এবিবি এ সীমা কমিয়ে ৫ হাজার টাকা করার প্রস্তাব করেছে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, ৫ হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত গড় স্থিতির ক্ষেত্রে মাসে ১৫০ টাকা এবং ২৫ হাজার টাকার বেশি হলে মাসে ৩০০ টাকা ফি নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠানো চিঠিতে এবিবি জানিয়েছে, ব্যাংকিং সেবার পরিধি বৃদ্ধি, পরিচালন ব্যয়ের চাপ, প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ এবং গ্রাহকসেবা বজায় রাখার ব্যয় বিবেচনায় বর্তমান চার্জ কাঠামো পরিবর্তন প্রয়োজন।

সংগঠনটি প্রস্তাবিত চার্জ কাঠামোকে দেশের সব ব্যাংকের জন্য সর্বোচ্চ সীমা হিসেবে অনুমোদনের অনুরোধ করেছে। একই সঙ্গে পরিচালন ব্যয়, প্রযুক্তি ব্যয় ও মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রতিবছর সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ পর্যন্ত চার্জ সমন্বয়ের সুযোগ রাখার প্রস্তাব দিয়েছে।

তবে বাংলাদেশ ব্যাংক এখনো এ প্রস্তাব অনুমোদনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। প্রস্তাবটি অনুমোদন হলে সাধারণ গ্রাহক থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী—সব শ্রেণির ব্যাংক ব্যবহারকারীর ওপর বাড়তি খরচের চাপ তৈরি হতে পারে।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

অর্থনীতি এর সর্বশেষ খবর

অর্থনীতি - এর সব খবর



রে