ঢাকা, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

আপিল বিভাগের রায়ের পর সংবিধানে বড় পরিবর্তন

২০২৬ জুলাই ১১ ১০:৩১:৫১
আপিল বিভাগের রায়ের পর সংবিধানে বড় পরিবর্তন

নিজস্ব প্রতিবেদক: সংবিধানের বহুল আলোচিত পঞ্চদশ সংশোধনীর কয়েকটি অংশ অসাংবিধানিক ও বাতিল ঘোষণা করে আপিল বিভাগের দেওয়া রায়ের পর দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন এবং আইন বিশেষজ্ঞদের মধ্যে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই রায়ের ফলে বাংলাদেশের সাংবিধানিক কাঠামোয় গুরুত্বপূর্ণ কিছু পরিবর্তনের পথ উন্মুক্ত হয়েছে।

বিশেষ করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা, গণভোটের বিধান এবং সংবিধানের কয়েকটি অনুচ্ছেদ নিয়ে নতুন করে আইনগত ও রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি হয়েছে।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আপিল বিভাগের রায়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহালের পথ উন্মুক্ত হওয়ায় দলটি সন্তুষ্ট। তাঁর ভাষ্য, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ জাতীয় নির্বাচন নিশ্চিত করতে এ ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

সংবিধান বিশেষজ্ঞদের মতে, আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর আদালতের নির্দেশনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সংবিধানের সংশ্লিষ্ট অনুচ্ছেদগুলোতে প্রয়োজনীয় সংশোধন আনতে হবে। এ লক্ষ্যে সরকার সংসদে একটি সমন্বিত সংবিধান সংশোধন বিল উত্থাপন করতে পারে।

সম্ভাব্য সংশোধনের আওতায় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা, গণভোট, ৭ক, ৭খ এবং ৪৪(২) অনুচ্ছেদসহ আদালতের পর্যবেক্ষণে উল্লেখিত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।

সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক বলেন, আদালতের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর সংসদের দায়িত্ব হবে আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী সংবিধানের ভাষা ও বিধান পুনর্গঠন করা। তাঁর মতে, শুধু তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহাল করলেই হবে না; সংশ্লিষ্ট সব অনুচ্ছেদে প্রয়োজনীয় সমন্বয় আনতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে সাংবিধানিক জটিলতা তৈরি না হয়।

জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ড. শরীফ ভূঁইয়া বলেন, হাই কোর্টের রায় বহাল থাকায় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলসংক্রান্ত বিধানগুলো কার্যত বাতিল হয়েছে। তবে সংবিধানে কিছু আইনি ও কারিগরি অসামঞ্জস্য তৈরি হয়েছে, যা সংসদের মাধ্যমে সমাধান করতে হবে।

আইনজ্ঞদের মতে, আদালতের রায়ের আলোকে সংবিধানের তত্ত্বাবধায়ক সরকারসংক্রান্ত ৫৮খ, ৫৮গ, ৫৮ঘ ও ৫৮ঙ অনুচ্ছেদ, গণভোটসংক্রান্ত ১৪২ অনুচ্ছেদ, ৭ক, ৭খ এবং ৪৪(২) অনুচ্ছেদসহ আরও কয়েকটি ধারায় সংশোধনের প্রয়োজন হতে পারে।এ ছাড়া নির্বাচনকালীন সরকার, উপদেষ্টা নিয়োগের পদ্ধতি এবং গণভোটের কাঠামো সম্পর্কেও নতুন বিধান প্রণয়নের প্রয়োজন দেখা দিতে পারে।

সরকারি সূত্রে জানা গেছে, আদালতের রায়ের আলোকে প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক পরিবর্তন পর্যালোচনার জন্য একটি সংসদীয় সংবিধান সংশোধন কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। কমিটি বিভিন্ন অনুচ্ছেদ পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংশোধনের সুপারিশ করবে।

সরকারদলীয় চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেন, সংবিধান সংশোধন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাই সব দিক বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হবে।

অন্যদিকে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, আপিল বিভাগের রায়ের আলোকে সংবিধান সংশোধনের বিষয়টি সংসদে আনা হবে এবং প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

২০১১ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল হওয়ার পর থেকে বিষয়টি দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ইস্যু হিসেবে আলোচনায় রয়েছে। আপিল বিভাগের সাম্প্রতিক রায়ের পর এখন বিষয়টি বাস্তবায়নের দায়িত্ব জাতীয় সংসদের ওপর নির্ভর করছে।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে