ঢাকা, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬

হাসিনার সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের নির্দেশ বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন

২০২৬ জুলাই ১২ ০৯:৫৮:৪১
হাসিনার সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের নির্দেশ বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক: আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) এবং বিভিন্ন আদালতের দেওয়া শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যদের সম্পত্তি ক্রোক (বাজেয়াপ্ত) করার নির্দেশের উল্লেখযোগ্য অংশ এখনো পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। যদিও ইতোমধ্যে কয়েকটি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ, কিছু সম্পদ জব্দ এবং নির্দিষ্ট সম্পত্তির ওপর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তবু একাধিক বাড়ি, ফ্ল্যাট, জমি ও বাগানবাড়ির ক্ষেত্রে আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

আদালতের নথি ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই সময়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পর বিভিন্ন আদালত সজীব ওয়াজেদ জয়, সায়মা ওয়াজেদ, শেখ রেহানা, রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক (ববি), টিউলিপ সিদ্দিকসহ পরিবারের কয়েকজন সদস্যের সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশ দেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজধানীর ধানমন্ডির 'সুধা সদন'সহ কয়েকটি সম্পত্তি ক্রোকের আদেশ থাকলেও বাস্তবে সেগুলোর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রাষ্ট্রের হাতে যায়নি। অন্যদিকে, গাজীপুরের আলোচিত 'টিউলিপ টেরিটরি' ও কয়েকটি বাগানবাড়ি এখনও আগের ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে।

তবে কিছু ক্ষেত্রে আদালতের নির্দেশ কার্যকর হয়েছে। দুদকের তথ্য অনুযায়ী, শেখ হাসিনা ও তার স্বার্থসংশ্লিষ্টদের একাধিক ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করা হয়েছে এবং কয়েকটি সম্পদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এছাড়া আদালতের নির্দেশ অনুসারে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে বরাদ্দ পাওয়া কয়েকটি প্লট বাতিল করে রাজউকের অনুকূলে নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

দুদকের অনুসন্ধান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, শেখ হাসিনা ও পরিবারের সদস্যদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ রয়েছে। পাশাপাশি অগ্রণী ব্যাংকের লকার থেকে উদ্ধার হওয়া বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকারও জব্দ করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। দুদক জানিয়েছে, সম্পদের উৎস ও ঘোষণার বিষয়গুলোও তদন্তের আওতায় রয়েছে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেছেন, আদালতের রায় কার্যকর করার দায়িত্ব নির্বাহী বিভাগের। ট্রাইব্যুনাল রায় প্রদান ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আদেশ পাঠানোর পর বাস্তবায়নের বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর ওপর নির্ভর করে।

আইনজীবীদের একটি অংশের মতে, আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা থাকলে বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে জনমনে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে। তাদের মতে, আদালতের আদেশ বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে আরও সমন্বয় প্রয়োজন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাও মনে করেন, উচ্চপ্রোফাইল মামলার ক্ষেত্রে আদালতের নির্দেশ দ্রুত বাস্তবায়ন হলে বিচার ব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থা আরও বাড়বে।

জুলাইয়ের ঘটনায় নিহত ব্যক্তিদের কয়েকটি পরিবারের সদস্যরা আদালতের নির্দেশ দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন। তাদের বক্তব্য, আদালতের রায় কার্যকর হওয়া ন্যায়বিচারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।তবে প্রতিবেদনে উল্লিখিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে শেখ হাসিনা বা তার পরিবারের কোনো প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করা হয়নি।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে