×
ঢাকা, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

রপ্তানি ও কর্মসংস্থান—দুই দিকেই ধাক্কা

২০২৬ জুলাই ১১ ১০:২২:৩৪
রপ্তানি ও কর্মসংস্থান—দুই দিকেই ধাক্কা

নিজস্ব প্রতিবেদক: বৈশ্বিক বাজারে পোশাকের চাহিদা কমে যাওয়া, জ্বালানি সংকট, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং অভ্যন্তরীণ নানা চ্যালেঞ্জের কারণে দেশের তৈরি পোশাক (আরএমজি) খাত কঠিন সময় পার করছে। এর প্রভাবে কমছে রপ্তানি, বন্ধ হচ্ছে কারখানা এবং কর্মসংস্থানেও দেখা দিয়েছে নেতিবাচক প্রভাব।

বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) সভাপতি হাসান মাহমুদ খান জানিয়েছেন, গড়ে প্রতি মাসে ৩ থেকে ৪টি কারখানা বন্ধ হচ্ছে। গত ছয় মাসে এ খাতে ১৯ হাজারের বেশি শ্রমিক চাকরি হারিয়েছেন।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তৈরি পোশাক খাতের রপ্তানি আগের অর্থবছরের তুলনায় ১ দশমিক ৬৪ শতাংশ কমে ৩৮ দশমিক ৭০ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।

বিশেষ করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও কানাডার বাজারে সামান্য প্রবৃদ্ধি হলেও তা সামগ্রিক রপ্তানি হ্রাস পুষিয়ে দিতে পারেনি।

বিজিএমইএর তথ্য অনুযায়ী, গত তিন বছরে সংগঠনটির সদস্যভুক্ত ২৫৬টি পোশাক কারখানা বন্ধ হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে চালু হয়েছে ৩২৩টি কারখানা।

কারখানা বন্ধের হার সবচেয়ে বেশি ছিল ২০২৫ সালে, যখন ১৪১টি কারখানা কার্যক্রম গুটিয়ে নেয়। চলতি বছরের প্রথম দুই মাসেও আরও তিনটি কারখানা বন্ধ হয়েছে।

খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, বৈশ্বিক ক্রয়াদেশ কমে যাওয়া, জ্বালানি সংকট, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, অর্থায়নের সংকট এবং কিছু প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতার কারণে অনেক কারখানা টিকে থাকতে পারছে না।

সম্প্রতি কয়েকটি পরিচিত পোশাক কারখানা উৎপাদন বন্ধ করেছে। অনেক প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন লোকসান বহনের পর কার্যক্রম গুটিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পরিস্থিতির পরিবর্তনের পাশাপাশি দেশে ব্যবসা পরিচালনার ব্যয়ও বেড়েছে। ফলে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা আগের তুলনায় দুর্বল হচ্ছে।

তার মতে, জ্বালানি সংকট নিরসন, ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় কমানো এবং রপ্তানিকারকদের জন্য ঘোষিত নীতিগত সুবিধাগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করা গেলে খাতটি কিছুটা স্বস্তি পেতে পারে।

কারখানা বন্ধের প্রকৃত কারণ ও এর প্রভাব নিরূপণে সমীক্ষা চালাচ্ছে বিজিএমইএ। সংগঠনটির পরিচালক ফয়সাল সামাদ জানিয়েছেন, চলতি জুলাই মাসের মধ্যেই সমীক্ষা শেষ হতে পারে এবং এর ফলাফল সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে ভাগাভাগি করা হবে।

খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, দীর্ঘমেয়াদে তৈরি পোশাক শিল্পকে টেকসই রাখতে জ্বালানি নিরাপত্তা, সহজ অর্থায়ন, প্রযুক্তিগত আধুনিকায়ন এবং ছোট ও মাঝারি কারখানার জন্য কার্যকর সহায়তা নিশ্চিত করতে একটি সমন্বিত রোডম্যাপ প্রয়োজন।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

অর্থনীতি এর সর্বশেষ খবর

অর্থনীতি - এর সব খবর

উ
প
রে