ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬

ফেসবুক-হোয়াটসঅ্যাপে হয়রানি; নতুন আইনের খসড়া প্রস্তুত

২০২৬ জুলাই ০২ ১২:০৭:০০
ফেসবুক-হোয়াটসঅ্যাপে হয়রানি; নতুন আইনের খসড়া প্রস্তুত

নিজস্ব প্রতিবেদক: সরকার কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নারীদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে একটি নতুন ও পূর্ণাঙ্গ আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে। প্রস্তাবিত এই আইনে শুধু বাস্তব জীবনের আচরণই নয়, বরং ফেসবুক, মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ, ইমেইলসহ সব ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ঘটে যাওয়া হয়রানিও অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে “কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ আইন, ২০২৬” নামের খসড়া চূড়ান্ত করেছে। এই আইনটি মূলত ২০০৮ সালের হাইকোর্টের নির্দেশনার ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছিল— যৌন হয়রানি প্রতিরোধে একটি পূর্ণাঙ্গ আইন থাকা জরুরি।

নতুন খসড়ায় যৌন হয়রানির সংজ্ঞা আরও বিস্তৃত করা হয়েছে। এতে শারীরিক, মৌখিক ও মানসিক আচরণের পাশাপাশি ডিজিটাল মাধ্যমে দেওয়া আপত্তিকর বার্তা, ছবি, মন্তব্য, ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট বা মেসেজকেও যৌন হয়রানি হিসেবে ধরা হবে।

অর্থাৎ কেউ যদি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অশালীন বার্তা পাঠায়, হুমকি দেয়, বা অশালীন ইঙ্গিতপূর্ণ আচরণ করে— সেটিও এখন আইনের আওতায় পড়বে।

আইনের খসড়া অনুযায়ী, প্রতিটি কর্মস্থল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একটি নারী নেতৃত্বাধীন অভিযোগ কমিটি গঠন করতে হবে। এই কমিটি অনলাইনে, লিখিতভাবে বা সরাসরি অভিযোগ গ্রহণ করবে।

তদন্ত প্রক্রিয়া সর্বোচ্চ ৯০ দিনের মধ্যে শেষ করতে হবে। অভিযোগকারীর নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক থাকবে। শিশু ও প্রতিবন্ধীদের জন্য বিশেষ সুরক্ষার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

নতুন আইনে বলা হয়েছে, কেউ যদি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা অভিযোগ করে, তাহলে তদন্তে প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধেও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর উদ্দেশ্য হলো আইনের অপব্যবহার রোধ করা।

স্থানীয় থেকে শুরু করে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত মনিটরিং কমিটি গঠন করা হবে। এসব কমিটি নিয়মিতভাবে অভিযোগ ও তদন্তের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করবে।

২০০৮ সালে হাইকোর্ট একটি নির্দেশনা দিলেও এত বছরেও সেটি পূর্ণাঙ্গ আইনে রূপ নেয়নি। ফলে অনেক প্রতিষ্ঠানেই নামমাত্র কমিটি থাকলেও কার্যকর ব্যবস্থা ছিল না। বিশেষ করে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে এই নির্দেশনা খুব একটা মানা হয়নি।

এবার সরকার চাইছে, এই ঘাটতি দূর করে একটি শক্তিশালী আইনি কাঠামো তৈরি করতে, যাতে বাস্তব ও ডিজিটাল— দুই ক্ষেত্রেই নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।

খসড়াটি এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এটি মন্ত্রিপরিষদে অনুমোদনের পর আইন হিসেবে পাস হবে। এরপর জনমত ও বিভিন্ন অংশীজনের মতামত নিয়ে প্রয়োজনে সংশোধন আনা হবে।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এর সর্বশেষ খবর

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি - এর সব খবর



রে