ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬

বন্ধ কোম্পানিতে অন্ধ বিনিয়োগের ফাঁদ, শেয়ারবাজারে বাড়ছে ঝুঁকি

২০২৬ জুলাই ০২ ১০:৪০:২৫
বন্ধ কোম্পানিতে অন্ধ বিনিয়োগের ফাঁদ, শেয়ারবাজারে বাড়ছে ঝুঁকি

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের শেয়ারবাজারে দীর্ঘদিন ধরে একটি উদ্বেগজনক প্রবণতা দেখা যাচ্ছে—বন্ধ ও ঝুঁকিপূর্ণ কোম্পানির শেয়ারে অস্বাভাবিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তথ্য না জেনে, গুজব ও কারসাজির ওপর ভিত্তি করে বিনিয়োগ করায় অনেক সাধারণ বিনিয়োগকারী বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সম্প্রতি বাজারে তালিকাভুক্ত ৬২টি উৎপাদন বন্ধ ও ঝুঁকিপূর্ণ কোম্পানির তালিকা প্রকাশ করেছে। এর মধ্যে বড় অংশই দীর্ঘদিন ধরে লোকসান, উৎপাদন বন্ধ বা দুর্বল আর্থিক অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তবুও এসব শেয়ারে অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধি ও পতনের ঘটনা ঘটছে।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত কয়েক মাসে কিছু বন্ধ ও দুর্বল কোম্পানির শেয়ারের দাম হঠাৎ করে ৮০ শতাংশ থেকে ২৪৬ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। এরপর আবার দ্রুত পতন ঘটেছে।

এর ফলে অনেক বিনিয়োগকারী উচ্চ দামে শেয়ার কিনে অল্প সময়ের মধ্যে বড় ক্ষতির মুখে পড়েছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি একটি সুপরিকল্পিত “সাইকেল”, যেখানে কিছু চক্র গুজব ছড়িয়ে দাম বাড়িয়ে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে শেয়ার বিক্রি করে দেয়।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শেয়ারবাজারে দীর্ঘদিন ধরে একটি অসাধু চক্র সক্রিয় রয়েছে। তারা দুর্বল কোম্পানির শেয়ারকে কেন্দ্র করে গুজব তৈরি করে এবং অস্বাভাবিক চাহিদা সৃষ্টি করে দাম বাড়ায়। পরে উচ্চ দামে শেয়ার বিক্রি করে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকিতে ফেলে দেয়।

এ ধরনের প্রবণতা নিয়ন্ত্রণে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ও ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে সতর্কবার্তা, লেনদেন সাময়িক স্থগিত এবং সার্কিট ব্রেকার পরিবর্তনের উদ্যোগ।

ডিএসইর প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, অনেক কোম্পানি দীর্ঘদিন ধরে উৎপাদন বন্ধ রেখেছে বা আর্থিকভাবে টিকে থাকার সংকটে রয়েছে। এসব কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগকে বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, একাধিক দুর্বল কোম্পানির শেয়ার স্বল্প সময়ে দ্রুত বেড়ে আবার পতনের মুখে পড়েছে। এতে বাজারে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক বলেন, বাজারে ভালো শেয়ারের ঘাটতি ও বিনিয়োগ শিক্ষার অভাবে অনেকেই ঝুঁকিপূর্ণ শেয়ারে বিনিয়োগ করছেন। এতে তারা বড় ক্ষতির শিকার হচ্ছেন।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ক্যাপিটাল মার্কেটের (বিআইসিএম) নির্বাহী প্রেসিডেন্ট ওয়াজিদ হাসান শাহ বলেন, অনেক বিনিয়োগকারী স্বল্প সময়ে দ্বিগুণ বা তিনগুণ মুনাফার আশা করেন, যা বাস্তবসম্মত নয়। এই সুযোগে কিছু চক্র সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ক্ষতির দিকে ঠেলে দেয়।

ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ডিবিএ) সভাপতি বলেন, দীর্ঘদিন উৎপাদন বন্ধ থাকা কোম্পানির শেয়ার লেনদেন স্থায়ীভাবে স্থগিত বা তালিকাচ্যুত করা উচিত। এতে বাজারে স্বচ্ছতা ফিরবে।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, শুধু সার্কিট ব্রেকার কমানো বা লেনদেন নিয়ন্ত্রণ যথেষ্ট নয়। বরং কোম্পানির মৌলভিত্তি যাচাই, দুর্বল ব্যবস্থাপনা পুনর্গঠন এবং কারসাজিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

এছাড়া বিনিয়োগ শিক্ষা বৃদ্ধি না হলে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকি কমবে না বলেও মনে করছেন তারা।

শেয়ারবাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, তথ্য ছাড়া বিনিয়োগই সবচেয়ে বড় ঝুঁকি। দ্রুত লাভের আশায় বন্ধ বা দুর্বল কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ করলে ক্ষতির সম্ভাবনা বহুগুণ বেড়ে যায়। তাই বিনিয়োগের আগে কোম্পানির আর্থিক অবস্থা ও মৌলভিত্তি যাচাই করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে