ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬

হাসনাত–বসুন্ধরা গ্রুপ নিয়ে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ

২০২৬ জুলাই ০২ ১১:১৪:৪৭
হাসনাত–বসুন্ধরা গ্রুপ নিয়ে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক: সংসদে কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহ বসুন্ধরা গ্রুপ এবং তাদের মালিকানাধীন মিডিয়া আউটলেটগুলোকে নিয়ে তীব্র অভিযোগ তোলার পর রাজনৈতিক অঙ্গন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

জাতীয় সংসদ অধিবেশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে হাসনাত আব্দুল্লাহ অভিযোগ করেন, দেশের একটি বড় ব্যবসায়ী গোষ্ঠী বিদেশে অর্থ পাচার করেছে এবং সাধারণ মানুষের সম্পদ দখলের সঙ্গে জড়িত।

তিনি আরও দাবি করেন, সেই ব্যবসায়িক গোষ্ঠী তাদের মালিকানাধীন গণমাধ্যম ব্যবহার করে অতীত সরকারের বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করেছে। তার ভাষায়, কিছু করপোরেট প্রতিষ্ঠান গণমাধ্যমকে প্রভাবিত করে জনমত নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে।

হাসনাত আব্দুল্লাহর বক্তব্যের পর বসুন্ধরা গ্রুপের মালিকানাধীন একাধিক সংবাদমাধ্যমে তার বিরুদ্ধে পাল্টা প্রতিবেদন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট প্রকাশ করা হয়।

সেখানে দাবি করা হয়, হাসনাত আব্দুল্লাহ বিভিন্ন সময় সরকারি বরাদ্দ, ই-টেন্ডার এবং প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে নির্দিষ্ট কোনো সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ্যে আসার কথা উল্লেখ করা হয়নি।এর জবাবে এক ভিডিও বার্তায় হাসনাত আব্দুল্লাহ তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন।

তিনি বলেন, জনগণই তার শক্তি এবং জনগণই তার রাজনৈতিক অবস্থানের মূল ভিত্তি। তার মতে, বড় বড় ব্যবসায়িক গোষ্ঠী বিপুল পরিমাণ ব্যাংক ঋণ খেলাপি ও আর্থিক অনিয়ম আড়াল করতে গণমাধ্যমকে ব্যবহার করে থাকে।

তিনি আরও বলেন, কিছু মিডিয়া প্রতিষ্ঠানকে তিনি “মিডিয়া মাফিয়া” হিসেবে আখ্যায়িত করেন এবং দাবি করেন, তাকে রাজনৈতিকভাবে চাপে ফেলতেই এসব প্রচার চালানো হচ্ছে।এছাড়া তিনি চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলেন, তার বিরুদ্ধে যদি এক টাকার দুর্নীতিরও প্রমাণ উপস্থাপন করা যায়, তবে তিনি পদত্যাগ করবেন।

ঘটনাটি এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছে। একদিকে অনেকেই এটিকে করপোরেট প্রভাব ও মিডিয়ার স্বাধীনতার প্রশ্ন হিসেবে দেখছেন, অন্যদিকে কেউ কেউ এটিকে রাজনৈতিক পাল্টাপাল্টি অবস্থান হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা বাংলাদেশের রাজনীতি, ব্যবসা ও গণমাধ্যমের মধ্যকার সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে, যেখানে ক্ষমতা, অর্থনীতি এবং তথ্য নিয়ন্ত্রণ—সবকিছুই একে অপরের সঙ্গে জটিলভাবে জড়িত।

সংসদে দেওয়া বক্তব্য এবং পরবর্তী পাল্টা প্রতিক্রিয়ার এই ঘটনা শুধু ব্যক্তিগত বা প্রতিষ্ঠানগত বিরোধ নয়, বরং এটি দেশের গণমাধ্যম কাঠামো ও করপোরেট প্রভাব নিয়ে বৃহত্তর প্রশ্ন তুলেছে।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে