ঢাকা, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

বাজেটের আগে চমক, একাধিক প্রস্তাবে সংশোধনের ইঙ্গিত

২০২৬ জুন ২৯ ০৯:৩১:৫৩
বাজেটের আগে চমক, একাধিক প্রস্তাবে সংশোধনের ইঙ্গিত

নিজস্ব প্রতিবেদক: ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট আগামীকাল মঙ্গলবার (৩০ জুন) জাতীয় সংসদে পাস হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে আজ সোমবার অর্থ বিল পাসের সময় কর ও ভ্যাটসংক্রান্ত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবে সংশোধন আনা হতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে ব্যাংক হিসাব খুলতে কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত, সঞ্চয়পত্রের ওপর করারোপ, ব্যক্তিশ্রেণির করমুক্ত আয়সীমা, আয়কর স্ল্যাব এবং জমির মূলধনী মুনাফা কর।

অর্থ বিভাগ, অর্থ মন্ত্রণালয় ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর আপত্তি, অর্থনীতিবিদদের পরামর্শ এবং বাস্তবায়ন সক্ষমতার বিষয় বিবেচনায় নিয়ে কয়েকটি প্রস্তাব পুনর্বিবেচনা করছে সরকার।

ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের করমুক্ত আয়সীমা বর্তমান ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪ লাখ টাকা করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

সূত্র জানায়, নতুন এ সীমা ২০২৭-২৮ অর্থবছরেও বহাল রাখা হতে পারে।ব্যাংক হিসাব খুলতে টিআইএন বাধ্যতামূলক নাও হতে পারে, প্রস্তাবিত অর্থ বিলে নতুন ব্যাংক হিসাব খোলার ক্ষেত্রে টিআইএন বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাবও পুনর্বিবেচনা করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, দেশের বিপুলসংখ্যক মানুষের করযোগ্য আয় না থাকলেও তাদের ব্যাংকিং সেবা প্রয়োজন। তাই টিআইএন বাধ্যতামূলক করা হলে সাধারণ গ্রাহকদের ওপর অপ্রয়োজনীয় প্রশাসনিক চাপ সৃষ্টি হতে পারে।

প্রস্তাবিত বাজেটে বছরে ৫০ লাখ টাকার কম টার্নওভার রয়েছে—এমন খুচরা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের জন্য নির্দিষ্ট বা স্পেসিফিক ভ্যাট ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা ছিল। ব্যবসার ধরন ও অবস্থান অনুযায়ী মাসে এক হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ভ্যাট নির্ধারণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল।

তবে বাস্তবায়ন প্রস্তুতির ঘাটতি, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের হয়রানির আশঙ্কা এবং বাজারে পণ্যমূল্য বাড়ার সম্ভাবনা বিবেচনায় সরকার আপাতত এ সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে পারে বলে জানা গেছে।

করমুক্ত আয়সীমা বৃদ্ধির পাশাপাশি আয়করের বিভিন্ন স্ল্যাবেও পরিবর্তনের আলোচনা চলছে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের করদাতাদের করের চাপ কমাতে কিছু সমন্বয় আনা হতে পারে।

জমি উন্নয়ন প্রকল্পে ভূমির মালিকদের জন্য প্রস্তাবিত ১৫ শতাংশ মূলধনী মুনাফা কর কমিয়ে ৫ শতাংশ করার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। ব্যবসায়ী ও আবাসন খাতের প্রতিনিধিদের দাবি, উচ্চ করহার বহাল থাকলে এ খাতে বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত হতে পারে।

ব্যবসায়ী নেতারা বলছেন, নতুন কর ও ভ্যাট ব্যবস্থা হঠাৎ কার্যকর হলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। অন্যদিকে অর্থনীতিবিদরা কর ও ভ্যাটের আওতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা বললেও বাস্তবায়নের আগে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ও গবেষণার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন।

বিতর্কিত কয়েকটি প্রস্তাব পুনর্বিবেচনার কারণে ব্যবসায়ী ও করদাতাদের মধ্যে স্বস্তি তৈরি হলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানা যাবে আজ অর্থ বিল এবং আগামীকাল বাজেট পাসের পর।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে