ঢাকা, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

শিশুদের নিয়ে গবেষণায় চাঞ্চল্যকর তথ্য

২০২৬ জুন ২০ ১১:২৫:৩৮
শিশুদের নিয়ে গবেষণায় চাঞ্চল্যকর তথ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক: দক্ষিণ এশিয়ায় গত কয়েক দশকে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মৃত্যুহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তবে এই ইতিবাচক অগ্রগতির পাশাপাশি প্রতিবন্ধী শিশুর সংখ্যা বাড়ার একটি উদ্বেগজনক প্রবণতা সামনে এসেছে বলে নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে।

‘ডেভেলপমেন্টাল মেডিসিন অ্যান্ড চাইল্ড নিউরোলজি’ জার্নালে প্রকাশিত গবেষণাটি পরিচালনা করেছেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পপুলেশন সায়েন্স বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. নুরুজ্জামান খাঁনসহ দেশি-বিদেশি গবেষকদের একটি দল। গবেষণায় বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও আফগানিস্তানের ১৯৮৫ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, ১৯৯০ সালে প্রতি হাজার জীবিত জন্মে যেখানে ১২৬ শিশুর মৃত্যু হতো, ২০২২ সালে তা কমে ৩৭ জনে নেমে এসেছে। অর্থাৎ, তিন দশকে শিশুমৃত্যুর হার প্রায় ৭০ শতাংশ কমেছে।

গবেষকদের মতে, টিকাদান কর্মসূচির সম্প্রসারণ, মাতৃ ও নবজাতক স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন, পুষ্টির উন্নতি, বিশুদ্ধ পানির সহজলভ্যতা এবং আর্থসামাজিক অগ্রগতি এ সাফল্যের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

তবে একই সময়ে প্রতিবন্ধী শিশুর সংখ্যা বেড়েছে। গবেষণায় দেখা যায়, ২০১০ সালের পর থেকে প্রতিবন্ধী শিশুর সংখ্যা শিশু মৃত্যুহারের তুলনায় দ্রুত বাড়তে শুরু করে। দক্ষিণ এশিয়ার প্রায় সব দেশেই এ প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে।

বিশ্লেষণে আরও দেখা গেছে, শিশু মৃত্যুহার কমার সঙ্গে প্রতিবন্ধী শিশুর সংখ্যা বৃদ্ধির একটি উল্লেখযোগ্য সম্পর্ক রয়েছে। উন্নত চিকিৎসাসেবার কারণে আগে যেসব শিশু অকাল জন্ম, জন্মগত জটিলতা বা গুরুতর অসুস্থতায় মারা যেত, তাদের অনেকেই এখন বেঁচে যাচ্ছে। তবে এসব শিশুর একটি অংশ দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক, মানসিক ও বিকাশজনিত জটিলতার ঝুঁকিতে থাকে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বে প্রায় ২৪ কোটি শিশু কোনো না কোনো ধরনের প্রতিবন্ধিতা নিয়ে জীবনযাপন করছে। দক্ষিণ এশিয়ায় ১৮ বছরের কম বয়সী প্রায় ১৪ শতাংশ শিশু প্রতিবন্ধিতার সঙ্গে বসবাস করছে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।

গবেষকরা জানিয়েছেন, অপুষ্টি, অকাল জন্ম, সংক্রমণ, মাতৃস্বাস্থ্যসেবার সীমিত ব্যবহার, নিকটাত্মীয়ের মধ্যে বিয়ে এবং স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার বৈষম্য শিশুদের প্রতিবন্ধী হওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়।

তারা মনে করেন, শিশুমৃত্যু কমে যাওয়া অবশ্যই বড় অর্জন। তবে একই সঙ্গে প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য দ্রুত শনাক্তকরণ, প্রাথমিক হস্তক্ষেপ, পুনর্বাসন এবং দীর্ঘমেয়াদি সহায়তামূলক সেবার ব্যবস্থা জোরদার না করলে নতুন জনস্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জ আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।

গবেষকরা এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সমন্বিত নীতি গ্রহণ এবং প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য বিশেষায়িত স্বাস্থ্য ও পুনর্বাসন সেবা সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে