ঢাকা, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

হাদি মরেনি, এবার ফিরেছে ভারতে

২০২৬ জুন ১৪ ১২:০২:৩৬
হাদি মরেনি, এবার ফিরেছে ভারতে

নিজস্ব প্রতিবেদক: দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এক অভূতপূর্ব পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দীর্ঘ সাত দশকেরও বেশি সময় ধরে চলে আসা গতানুগতিক রাজনৈতিক কাঠামো এখন এক নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে। আর এই পরিবর্তনের মূল কারিগর হলো একদল তরুণ, যাদের বিশ্ব চেনে ‘জেন-জি’ (Gen Z) বা ‘জেনারেশন জেড’ নামে।

২০২৪ সালের জুলাই মাসে বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া ছাত্র-জনতার বিপ্লব দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে এক নতুন মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে জেন-জি প্রজন্মের নির্ভীক লড়াই বিশ্বকে অবাক করেছে। একটি ভাইরাল হওয়া ওয়্যারলেস কথোপকথন, যেখানে এক পুলিশ কর্মকর্তাকে বলতে শোনা যায়— "একটা গেলে আরেকটা আসে... যায় না স্যার! কঠিন সমস্যা!"

এই একটি বাক্যই এই প্রজন্মের অদম্য সাহসের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের দমানোর জন্য বুলেট, টিয়ার শেল বা রাবার বুলেট কোনো কিছুই যথেষ্ট ছিল না। রাষ্ট্রযন্ত্রের চোখে তারা ছিল ‘ককরোচ’ বা ‘আরশোলা’র মতো। বিজ্ঞানীদের মতে, পারমাণবিক যুদ্ধেও আরশোলা টিকে থাকতে পারে; ঠিক তেমনি এই প্রজন্মও সব ধরণের নির্যাতনের মুখে টিকে থাকার অবিশ্বাস্য ক্ষমতা প্রদর্শন করেছে।

দীর্ঘদিন ধরে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে (ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ) শাসকগোষ্ঠী ব্রিটিশদের শিখিয়ে যাওয়া ‘ভাগ করো এবং শাসন করো’ (Divide and Rule) নীতি ব্যবহার করে ক্ষমতায় টিকে ছিল। ভারত-পাকিস্তান দ্বন্দ্ব, হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা বা সীমান্ত উত্তেজনাকে পুঁজি করে গড়া হয়েছিল একেকটি রাজনৈতিক সাম্রাজ্য। কিন্তু বর্তমান জেন-জি প্রজন্ম ইন্টারনেটের মাধ্যমে একে অপরের সাথে যুক্ত হয়ে এই বিভাজনের রাজনীতিকে প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা বুঝতে পেরেছে যে সীমান্তের ওপারে থাকা আরেকজন বেকার তরুণের জীবনযুদ্ধ তাদের মতোই এক।

বাংলাদেশের এই বিপ্লবের ঢেউ দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশেও ছড়িয়ে পড়েছে:

ভারত: ভারতের রাজপথে এখন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র উত্থান ঘটছে। তরুণরা দুর্নীতির বিরুদ্ধে এবং বিভাজনের রাজনীতির মুখে সংবিধান হাতে দাঁড়িয়েছে।

শ্রীলঙ্কা: যখন রাজাপাকসে পরিবারের অত্যাচারে শ্রীলঙ্কার অর্থনীতি ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল, তখন এই জেন-জি প্রজন্মই রাষ্ট্রপতির প্রাসাদে ঢুকে পরিবর্তনের ডাক দিয়েছিল।

পাকিস্তান: সেখানেও সামরিক এস্টাবলিশমেন্টের বিরুদ্ধে সাধারণ তরুণরা রাজপথে নেমে রাজনৈতিক সচেতনতার পরিচয় দিচ্ছে।

জেন-জি-কে কেবল একটি প্রজন্ম নয়, বরং একটি ‘অদম্য আইডিয়া’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। তাদের কোনো নির্দিষ্ট হেডকোয়ার্টার নেই যা পুলিশ সিলগালা করে দিতে পারবে। তাদের আন্দোলনগুলো অর্গানিক এবং প্রযুক্তি-নির্ভর। একজনের ইন্টারনেট বন্ধ করলে দশজন ভিপিএন ব্যবহার করে প্রক্সি সার্ভার খুলে বসছে।

দক্ষিণ এশিয়ার মানচিত্র এখন আর শুধু কাঁটাতারের বেড়া বা বাঙ্কারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। সাইবার স্পেস এবং তরুণদের চিন্তাধারায় সেই বেড়া অনেক আগেই ভেঙে গেছে। শাসকরা এখন তাদের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে বসে ঘামছেন, কারণ তারা বুঝতে পারছেন যে এই জাগ্রত প্রজন্মের আদর্শকে বুলেট দিয়ে থামানো সম্ভব নয়। ইতিহাসের এক নতুন সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে দক্ষিণ এশিয়া, যেখানে জেন-জি প্রজন্ম এক ঐক্যবদ্ধ ও বৈষম্যহীন আগামীর স্বপ্ন দেখাচ্ছে।

কুশল/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে