ঢাকা, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬

অ্যাসোসিয়েটেড অক্সিজেনের আইপিওর অর্থে নতুন অবকাঠামো ও যন্ত্রপাতি 

২০২৬ জুন ০৩ ২১:৪১:১৮
অ্যাসোসিয়েটেড অক্সিজেনের আইপিওর অর্থে নতুন অবকাঠামো ও যন্ত্রপাতি 

নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত অ্যাসোসিয়েটেড অক্সিজেন লিমিটেড (এওএল) প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) থেকে উত্তোলিত অর্থের বড় অংশ নির্ধারিত খাতে ব্যবহার সম্পন্ন করেছে। তবে ২০২৬ সালের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত কোম্পানিটির আইপিও তহবিল থেকে ২৪ লাখ ১১ হাজার ৬৬৬ টাকা অব্যবহৃত রয়েছে। এ সময়ে আইপিও তহবিলের অর্থ থেকে কোনো নতুন ব্যয়ও করা হয়নি। সম্প্রতি প্রকাশিত নিরীক্ষকের সনদপত্রে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

নিরীক্ষা প্রতিবেদন অনুযায়ী, অ্যাসোসিয়েটেড অক্সিজেন লিমিটেড ২০২০ সালের ১০ সেপ্টেম্বর থেকে ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আইপিওর মাধ্যমে ১৫ কোটি টাকা সংগ্রহ করে। কোম্পানিটি এই অর্থ ব্র্যাক ব্যাংকের একটি পৃথক হিসাবে সংরক্ষণ করে এবং বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) অনুমোদনপত্র অনুযায়ী বিভিন্ন খাতে ব্যয় করে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, আইপিওর মাধ্যমে উত্তোলিত ১৫ কোটি টাকার মধ্যে ২০২৬ সালের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত মোট ১৪ কোটি ৭৫ লাখ ৮৮ হাজার ৩৩৪ টাকা ব্যবহার করা হয়েছে। এর মধ্যে নতুন প্ল্যান্ট শেড ও স্টোর শেড নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৬ কোটি ৮১ লাখ ৭২ হাজার ৪১ টাকা, যা অনুমোদিত বরাদ্দের তুলনায় ১৫ হাজার ৭৯১ টাকা বেশি। নতুন প্ল্যান্ট ও যন্ত্রপাতি ক্রয়ে ব্যয় হয়েছে ৪ কোটি ২৪ লাখ ২৫০ টাকা এবং ব্যাংক ঋণ পরিশোধে ব্যবহার করা হয়েছে ২ কোটি টাকা।

এ ছাড়া আইপিও-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যয়ে ব্যয় হয়েছে ১ কোটি ৭০ লাখ ১৬ হাজার ৪৩ টাকা। ফলে আইপিও তহবিল থেকে মোট অব্যবহৃত অর্থ দাঁড়িয়েছে ২৪ লাখ ১১ হাজার ৬৬৬ টাকা।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আইপিও তহবিল ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কোম্পানিটি সুদ আয়, ব্যাংক চার্জ ও বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময়জনিত সমন্বয় থেকে মোট ৩৩ লাখ ৭৮ হাজার ৭৭৫ টাকা আয় করেছে। এ আয়সহ মোট তহবিলের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৫ কোটি ৩৩ লাখ ৭৮ হাজার ৭৭৫ টাকা। এর মধ্যে ১৫ কোটি ৯ লাখ ৬৭ হাজার ১০৯ টাকা ব্যবহার করা হয়েছে এবং অবশিষ্ট রয়েছে একই ২৪ লাখ ১১ হাজার ৬৬৬ টাকা।

নিরীক্ষক জানিয়েছেন, অব্যবহৃত এই অর্থের মধ্যে ২৩ লাখ ২১ হাজার ৭০৭ টাকা ব্র্যাক ব্যাংকের গুলশান শাখার আইপিও হিসাবে এবং বাকি ২ লাখ ৪০ হাজার ৮৫৯ টাকা কোম্পানির নিজস্ব ব্যাংক হিসাবে সংরক্ষিত রয়েছে, যা ভবিষ্যতে সমন্বয় করা হবে।

প্রতিবেদনে কোম্পানির আইপিও তহবিল ব্যবহারের বিস্তারিত ইতিহাসও তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে ২০২০ সালের নভেম্বর মাসে কোম্পানি ৯ কোটি ৭০ লাখ টাকা এফডিআর হিসেবে এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকে জমা রাখে। পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে এফডিআর ভাঙিয়ে প্রকল্প ব্যয় ও ঋণ পরিশোধ করা হয়।

নতুন প্ল্যান্ট শেড ও স্টোর শেড নির্মাণে মোট ৬ কোটি ৮১ লাখ ৭২ হাজার ৪১ টাকা ব্যয় করা হয়েছে। এর একটি অংশ কোম্পানির নিজস্ব তহবিল থেকে অগ্রিম ব্যয় করা হয়েছিল, যা পরে আইপিও তহবিল থেকে সমন্বয় করা হয়।

ব্যাংক ঋণ পরিশোধ খাতে মোট ২ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে। এর মধ্যে কিছু অর্থ কোম্পানির নিজস্ব তহবিল থেকে পরিশোধের পর পরবর্তীতে আইপিও তহবিল থেকে সমন্বয় করা হয়েছে।

অন্যদিকে, নতুন প্ল্যান্ট ও যন্ত্রপাতি স্থাপনে মোট ৪ কোটি ২৪ লাখ ২৫০ টাকা ব্যয় করা হয়েছে। এ প্রকল্পে সরঞ্জাম সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রগ্রেসিভ ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশনকে অর্থ প্রদান করা হয়। তবে ২০২৩ সালের নভেম্বর পর্যন্ত সরবরাহকারীর কাছে ৬৩ লাখ ২৯ হাজার ৯৬৭ টাকা বকেয়া ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আইপিও ব্যয় বাবদ মোট ১ কোটি ৭০ লাখ ১৬ হাজার ৪৩ টাকা ব্যবহার করা হয়েছে। এর মধ্যে ইস্যু ম্যানেজমেন্ট ফি, আন্ডাররাইটিং ফি, প্রসপেক্টাস প্রকাশ ও মুদ্রণ ব্যয়সহ বিভিন্ন খাত অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

নিরীক্ষক প্রতিষ্ঠান ফেমস অ্যান্ড আর চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে আইপিও তহবিল থেকে কোনো অর্থ ব্যয় করা হয়নি। একই সঙ্গে আইপিওর শর্ত অনুযায়ী তহবিল ব্যবহার করা হয়েছে এবং ব্যবহৃত অর্থের যথাযথ দলিলপত্র, ভাউচার ও ব্যাংক হিসাবের সঙ্গে মিল পাওয়া গেছে।

তবে প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, প্রসপেক্টাস অনুযায়ী আইপিও তহবিল ব্যবহারের নির্ধারিত সময়সীমা ২০২২ সালের ২৩ অক্টোবর শেষ হয়ে যায়। পরে কোম্পানি বিএসইসির কাছে সময় বৃদ্ধির আবেদন করে। প্রথম দফায় ২০২৩ সালের মার্চ পর্যন্ত এবং পরবর্তীতে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় বাড়ানোর আবেদন করা হলেও দ্বিতীয় আবেদনটি বিএসইসি অনুমোদন করেনি।

নিরীক্ষকরা শেষ পর্যন্ত মত দিয়েছেন যে, কোম্পানির আইপিও তহবিল নির্ধারিত উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়েছে এবং ক্রয়, আমদানি ও নির্মাণ কার্যক্রম যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই সম্পন্ন হয়েছে। ফলে আইপিও তহবিল ব্যবহারের ক্ষেত্রে উপস্থাপিত তথ্য যথাযথ ও গ্রহণযোগ্য বলে তারা প্রত্যয়ন করেছেন।

এসএ খান/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে