ঢাকা, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬

খেলাপি বিনিয়োগে বিপাকে স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক, বড় ঘাটতির তথ্য প্রকাশ

২০২৬ মে ২৯ ১০:৪৮:৪৭
খেলাপি বিনিয়োগে বিপাকে স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক, বড় ঘাটতির তথ্য প্রকাশ

নিজস্ব প্রতিবেদক : শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক পিএলসির ২০২৫ সালের নিরীক্ষা প্রতিবেদনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক ঝুঁকি ও অনিয়মের বিষয় তুলে ধরেছেন নিরীক্ষক। ব্যাংকটির নিরীক্ষক “এমফ্যাসিস অব ম্যাটার” অনুচ্ছেদে এসব বিষয় উল্লেখ করেছেন, যা ব্যাংকটির আর্থিক অবস্থান নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংক, বহিঃনিরীক্ষক এবং ব্যাংকের মধ্যে গত ১২ এপ্রিল ২০২৬ অনুষ্ঠিত ত্রিপক্ষীয় বৈঠক এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দুটি নির্দেশনার আলোকে ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্যাংকটির বিনিয়োগ, অফ-ব্যালেন্স শিট এক্সপোজার, শেয়ার ও বন্ডে বিনিয়োগসহ অন্যান্য সম্পদের বিপরীতে মোট প্রয়োজনীয় প্রভিশনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৮৩১ কোটি ৬১ লাখ টাকা। তবে এর বিপরীতে ব্যাংকটি সংরক্ষণ করেছে মাত্র ৯২৭ কোটি ১৬ লাখ টাকা। ফলে মোট প্রভিশন ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৯০৪ কোটি ৪৫ লাখ টাকা, যা ব্যাংকের মোট বিনিয়োগের ২৯ দশমিক ৮৯ শতাংশ।

নিরীক্ষক আরও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী পূর্ণ প্রভিশন সংরক্ষণ করা হলে ব্যাংকটির কর-পরবর্তী লোকসান আরও বেড়ে যেত এবং মূলধন পর্যাপ্ততা অনুপাত (সিআরএআর), শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) ও অন্যান্য আর্থিক সূচকে নেতিবাচক প্রভাব পড়ত।

এছাড়া ২০২৫ সালে ব্যাংকটি মোট ১ হাজার ৬৯৬ কোটি ২৯ লাখ টাকার বিনিয়োগ আয় দেখিয়েছে। যদিও বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনার ভিত্তিতে ৯০ কোটি টাকা সমন্বয় করা হয়েছে। তবে নিরীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়, একই সময়ে শ্রেণীকৃত বিনিয়োগ থেকে ২৪৭ কোটি ৭৫ লাখ টাকার আয় হিসাবভুক্ত করা হয়েছে, যা প্রকৃতপক্ষে প্রফিট সাসপেন্স ও ক্ষতিপূরণ হিসাবের আওতায় স্থানান্তর করা প্রয়োজন ছিল। এ সমন্বয় করা হলে ব্যাংকের ঘোষিত মুনাফা আরও কমে যেত।

অন্যদিকে, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের সহযোগী প্রতিষ্ঠান এসবিএল ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড এবং স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক সিকিউরিটিজ লিমিটেডে যথাক্রমে ১৪৯ কোটি ৯৯ লাখ টাকা ও ৭৯ কোটি ৯৯ লাখ টাকার বিনিয়োগ রয়েছে। নিরীক্ষক জানিয়েছেন, বিএসইসির নির্দেশনায় বিলম্বিত প্রভিশনের কারণে কোম্পানিগুলোর নিট সম্পদ মূল্য (এনএভি) তুলনামূলক বেশি দেখানো হলেও, শেয়ারদর পতনের কারণে প্রতিষ্ঠান দুটির প্রকৃত আর্থিক অবস্থায় বড় ধরনের দুর্বলতা রয়েছে। এসএলবিএল ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্টে ২৫০ কোটি ৭৩ লাখ টাকা এবং স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক সিকিউরিটিজে ৪৭ কোটি ৩৭ লাখ টাকার প্রভিশন ঘাটতির তথ্যও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এসএ খান/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে