ঢাকা, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬

গোল্ডেন পাসপোর্ট থেকে সম্পত্তি জব্দ—বিপাকে এস আলম

২০২৬ মে ২৯ ১০:৩২:১৮
গোল্ডেন পাসপোর্ট থেকে সম্পত্তি জব্দ—বিপাকে এস আলম

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশের আলোচিত শিল্পগোষ্ঠী এস আলম গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলম ও তার স্ত্রীর মালিকানাধীন একটি সম্পত্তি জব্দ করেছে সাইপ্রাস কর্তৃপক্ষ। ব্যাংক জালিয়াতি ও অর্থপাচারের অভিযোগে চলমান তদন্তের অংশ হিসেবে দেশটির নিকোসিয়া জেলা আদালত এ আদেশ দেন।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সাইপ্রাস মেইল জানিয়েছে, সাইপ্রাসের মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ ইউনিটের (মোকাস) আবেদনের পর গত ১৯ মে সম্পত্তি জব্দের নির্দেশ দেওয়া হয়। বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধের ভিত্তিতে দুই দেশের পারস্পরিক আইনি সহযোগিতার আওতায় এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, সাইপ্রাসের পারেক্লিশা এলাকায় অবস্থিত সাইফুল আলমের একটি বিলাসবহুল দোতলা বাড়ি ক্রোক করা হয়েছে।

বাংলাদেশি তদন্ত সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে বিভিন্ন কোম্পানির মাধ্যমে সংঘটিত আর্থিক লেনদেন, জালিয়াতির মাধ্যমে ঋণ গ্রহণ, অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং অর্থপাচারের অভিযোগ তদন্ত করা হচ্ছে।

তদন্তে উঠে এসেছে, সাইফুল আলমের মালিকানাধীন সাইপ্রাসভিত্তিক কোম্পানি ‘এসিএলএআরই ইন্টারন্যাশনাল’সহ ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডস, জার্সি ও অন্যান্য অঞ্চলের বিভিন্ন ট্রাস্ট ও কোম্পানির আর্থিক নেটওয়ার্কও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সম্পত্তি জব্দের আদেশের একদিন পর বাংলাদেশে একটি আদালত সাইফুল আলম এবং তার ১০ জন আত্মীয় ও সহযোগীকে পাঁচ মাসের কারাদণ্ড দেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ থেকে এস আলম গ্রুপের একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠানের জন্য নেওয়া প্রায় ৬০ লাখ ইউরোর ঋণে ১৩৪টি বাস কেনার কথা থাকলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি।

তবে তদন্ত শুধু এই মামলাতেই সীমাবদ্ধ নয়। বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের দাবি, ইসলামী ব্যাংক ও ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকসহ কয়েকটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে নেওয়া বিপুল পরিমাণ ঋণের অর্থ বিদেশে পাচার করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর সম্প্রতি জানিয়েছেন, এই প্রক্রিয়ায় দেশ থেকে প্রায় ৮ বিলিয়ন ইউরো বা ৮০০ কোটি ইউরোর বেশি অর্থ পাচার হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর একটি অংশ সাইপ্রাস, সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশে সম্পত্তিতে বিনিয়োগ করা হয়েছে বলেও সন্দেহ করা হচ্ছে।

তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সাইফুল আলম। তার পক্ষে আন্তর্জাতিক আইন সংস্থা কুইন ইমানুয়েল এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, তার সব আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ বৈধ উৎস থেকে করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

ইতোমধ্যে তিনি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ বিরোধ নিষ্পত্তি সংস্থা (আইসিএসআইডি)-তে আইনি লড়াই শুরু করেছেন বলেও জানা গেছে। উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে সাইপ্রাসের ‘গোল্ডেন পাসপোর্ট’ কর্মসূচির মাধ্যমে দেশটির নাগরিকত্ব পান সাইফুল আলম।

ওমর আলী/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে