ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬

গ্রাহকের টাকা আত্মসাতে শাস্তির মুখে আইল্যান্ড সিকিউরিটিজ

২০২৬ মে ২৮ ২০:১০:২১
গ্রাহকের টাকা আত্মসাতে শাস্তির মুখে আইল্যান্ড সিকিউরিটিজ

নিজস্ব প্রতিবেদক: গ্রাহকের বিও (বেনিফিশিয়ারি ওনার্স) অ্যাকাউন্ট থেকে অনুমতি ছাড়াই অর্থ উত্তোলন এবং তা জিএমজি এয়ারলাইন্সের প্লেসমেন্ট শেয়ার কেনার কাজে ব্যবহারের দায়ে বড় ধরনের আইনি পদক্ষেপের মুখোমুখি হয়েছে ব্রোকারেজ হাউস আইল্যান্ড সিকিউরিটিজ লিমিটেড। দীর্ঘ তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা পেয়ে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) সম্প্রতি সংশ্লিষ্ট ব্রোকারেজ হাউসটিকে গ্রাহকের সম্পূর্ণ টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে; অন্যথায় ২০ লাখ টাকা জরিমানা গুনতে হবে প্রতিষ্ঠানটিকে।

বিএসইসি’র এনফোর্সমেন্ট বিভাগের তদন্ত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, আইল্যান্ড সিকিউরিটিজের গ্রাহক মো. গোলাম রহমান গত ২৯ জুলাই ২০২৫ তারিখে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তার অভিযোগ ছিল, ২০১০ সালের ১৫ এপ্রিল তার অজান্তেই বিও অ্যাকাউন্ট থেকে ১২ লাখ ২০ হাজার টাকা তুলে নেওয়া হয়, যা মূলত সেকেন্ডারি শেয়ারবাজার থেকে শেয়ার কেনার জন্য তিনি জমা রেখেছিলেন।

অভিযোগকারী আরও জানান, বিগত বছরগুলোতে তিনি বারবার মৌখিক ও লিখিতভাবে যোগাযোগ করলেও ব্রোকারেজ হাউসটি কোনো সমাধান দেয়নি। তিনি ২০১৬ সালের ১৭ জানুয়ারি, ২৯ ফেব্রুয়ারি এবং ১০ এপ্রিল আইল্যান্ড সিকিউরিটিজে লিখিত অভিযোগ জমা দিলেও বিষয়টি সুরাহা না করে ঝুলিয়ে রাখা হয়।

অবশ্য আইল্যান্ড সিকিউরিটিজ শুরু থেকেই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। তাদের দাবি, গ্রাহকের মৌখিক নির্দেশনার ওপর ভিত্তি করেই জিএমজি এয়ারলাইন্সের প্লেসমেন্ট শেয়ার কিনতে ওই ফান্ড ব্যবহার করা হয়েছিল। কোম্পানিটির পক্ষ থেকে যুক্তি দেওয়া হয়, ২০১০ সালে জিএমজি এয়ারলাইন্সের প্লেসমেন্ট শেয়ারের ব্যাপক চাহিদা ছিল এবং অন্যান্য সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মতো এই গ্রাহকও তা কিনতে আগ্রহ দেখিয়েছিলেন।

তবে বিএসইসি’র তদন্তে দেখা গেছে, গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তোলার সপক্ষে কোনো লিখিত অনুমোদন, রিকুইজিশন স্লিপ বা কোনো ধরনের সহায়ক নথিপত্র দেখাতে পারেনি ব্রোকারেজ হাউসটি। এমনকি গত ১৭ আগস্ট ২০২৫ তারিখে ডিএসইতে অনুষ্ঠিত একটি ত্রিপক্ষীয় বৈঠকেও আইল্যান্ড সিকিউরিটিজ স্বীকার করেছে যে, টাকা তোলার পেছনে গ্রাহকের কোনো লিখিত অনুমতি তাদের কাছে ছিল না।

বিএসইসি তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, ব্রোকারেজ হাউসটি গ্রাহকের অভিযোগের দ্রুত নিষ্পত্তি করতে ব্যর্থ হয়েছে। একই সাথে গ্রাহকের ফান্ডের ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতার অভাব, সঠিক নথিপত্র সংরক্ষণে ব্যর্থতা এবং অসংলগ্ন ও প্রমাণহীন তথ্য সরবরাহের বিষয়টিও তদন্তে স্পষ্ট হয়েছে।

তদন্তকারীদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আইল্যান্ড সিকিউরিটিজ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অর্ডিন্যান্স, ১৯৬৯ (ধারা ১৮) সহ স্টক-ডিলার, স্টক-ব্রোকার এবং অনুমোদিত প্রতিনিধি বিধিমালার একাধিক ধারা লঙ্ঘন করেছে। এর মধ্যে গ্রাহকের ফান্ড অননুমোদিতভাবে স্থানান্তর এবং বিনিয়োগকারীদের অভিযোগের সঠিক সমাধান না করার বিষয়টি অন্যতম।

এসব অনিয়মের ওপর ভিত্তি করে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি গত ১২ মে আইল্যান্ড সিকিউরিটিজকে নির্দেশ দিয়েছে, আগামী ৩০ দিনের মধ্যে মো. গোলাম রহমানকে তার ১২ লাখ ২০ হাজার টাকা ফেরত দিতে হবে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এই অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে ব্রোকারেজ হাউসটিকে কমিশন বরাবর ২০ লাখ টাকা জরিমানা দিতে হবে। ব্যাংক ড্রাফট বা পে-অর্ডারের মাধ্যমে বিএসইসি-র অনুকূলে এই অর্থ জমা না দিলে তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী সময়ে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মামুন/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে