ঢাকা, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬

রামিসার মামলায় চার্জশিটে উঠে এলো যেসব চাঞ্চল্যকর তথ্য

২০২৬ মে ২৫ ১৮:১৬:০৬
রামিসার মামলায় চার্জশিটে উঠে এলো যেসব চাঞ্চল্যকর তথ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকার পল্লবীতে সাত বছরের শিশু রামিসাকে ধ*র্ষণের পর হত্যা মামলায় আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছে পুলিশ। চার্জশিট থেকে জানা গেছে, রামিসাকে ধ*র্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ গুম করার জন্য রুম থেকে ছুরি এনে তার মাথা কেটে গলা থেকে আলাদা করা হয়। দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ বাথরুম থেকে শোবার ঘরে এনে খাটের নিচে লুকিয়ে রাখে। ছুরি দিয়ে যৌ*নাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করে। রুমের ভেতরে একটি বড় বালতির মধ্যে বিচ্ছিন্ন মাথা রাখে।

রোববার (২৪ মে) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলার চার্জশিট জমা দেন তদন্ত কর্মকর্তা ও পল্লবী থানার উপপরিদর্শক মো. ওহিদুজ্জামান। পরে মামলাটি বিচারের জন্য ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়। চার্জশিটে প্রধান আসামি সোহেল রানার বিরুদ্ধে ধর্ষ*ণ ও হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। এছাড়া তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অপরাধে সহযোগিতার অভিযোগ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

তদন্তে জানা গেছে, স্বপ্না আক্তার ছিলেন সোহেল রানার দ্বিতীয় স্ত্রী। পরকীয়ার সম্পর্কের জের ধরে তাদের বিয়ে হয়। সোহেলের প্রথম সংসারে একটি মেয়ে সন্তান রয়েছে।

চার্জশিটে আরও উল্লেখ করা হয়, প্রায় আড়াই মাস আগে অটোরিকশা মেকানিক সোহেল পল্লবীর ১১ নম্বর সেকশনের বি-ব্লকের ২ নম্বর লেনের একটি বাসা ভাড়া নেন। তিন কক্ষবিশিষ্ট ওই ফ্ল্যাটের একটিতে সোহেল ও স্বপ্না থাকতেন। তাদের কক্ষের সঙ্গে সংযুক্ত বাথরুম ছিল। পাশের দুই কক্ষে থাকতেন মাসুদ পারভেজ ও জেসমিন আক্তার নামে এক দম্পতি। কক্ষ আলাদা হলেও রান্নাঘর ছিল সবার জন্য যৌথভাবে ব্যবহারের।

চার্জশিটে আরও বলা হয়, মাসুদ পারভেজ এবং জেসমিন আক্তার প্রতিদিন সকাল ৬টার মধ্যে বাসা থেকে বেরিয়ে যান। ঘটনার দিন (১৯ মে) তারা বাসা থেকে বেরিয়ে যান। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রামিসা ঘর থেকে বের হলে সোহেল রামিসাকে তার রুমের সামনে আসতে বলে। রুমের সামনে গেলে তাকে রুমের ভেতরে নিয়ে বাথরুমে ধ*র্ষণ করে সোহেল।

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ঘটনার সময় রামিসা চিৎকার শুরু করলে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। এরপর মরদেহ গোপন করার উদ্দেশ্যে সেটিকে বিকৃত করা হয় এবং খাটের নিচে লুকিয়ে রাখা হয়।

তদন্তে আরও উল্লেখ করা হয়, রামিসাকে খুঁজে না পেয়ে তার পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে সোহেলদের বাসার সামনে শিশুটির একটি জুতা দেখতে পেয়ে তার মা দরজার সামনে গিয়ে ডাকাডাকি ও চিৎকার শুরু করেন। পরে আশপাশের ফ্ল্যাটের লোকজন জড়ো হয়ে দরজা ভাঙার চেষ্টা করেন।

এসময় সোহেল বাথরুম থেকে রামিসার মরদেহ ঘরের ভেতরে নিয়ে আসে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। স্বপ্না মরদেহ দেখতে পান এবং বাইরে দরজা ভাঙার শব্দ শুনে ভেতর থেকে ছিটকিনি লাগিয়ে দেন। পরে এলাকাবাসী ঘরে ঢুকে রামিসার মরদেহ দেখতে পেয়ে সোহেলের অবস্থান সম্পর্কে জানতে চাইলে স্বপ্না জানান, সোহেল গ্রিল কেটে পালিয়ে গেছে।

ওমর আলী/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে