ঢাকা, শনিবার, ২ মে ২০২৬

একীভূত করেও মিলল না সমাধান—ব্যাংক খাতে নতুন শঙ্কা

২০২৬ মে ০২ ০৮:০৮:০৮
একীভূত করেও মিলল না সমাধান—ব্যাংক খাতে নতুন শঙ্কা

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের ব্যাংকিং খাতে আলোচিত একীভূত উদ্যোগ ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ বর্তমানে নতুন করে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। পাঁচটি দুর্বল শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংককে একত্র করে গঠিত এই প্রতিষ্ঠানটি শুরু থেকেই পুনর্গঠন, তারল্য সংকট কাটানো এবং গ্রাহকদের আস্থা পুনরুদ্ধারের লক্ষ্য নিয়ে যাত্রা শুরু করলেও বাস্তবে সেই অগ্রগতি এখনও দৃশ্যমান নয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী একীভূতকরণ প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করার কথা থাকলেও কার্যক্রমের গতি, আইটি সমন্বয় এবং ব্যবস্থাপনার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই গেছে।

সবচেয়ে বড় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে গ্রাহকদের অর্থ উত্তোলন প্রক্রিয়া নিয়ে। বাংলাদেশ ব্যাংক ধাপে ধাপে আমানত ফেরতের একটি স্কিম চালু করলেও, যেখানে প্রথমে সীমিত পরিমাণ টাকা উত্তোলনের সুযোগ রাখা হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে তা বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে , বাস্তবে অনেক গ্রাহক এখনও ভোগান্তির অভিযোগ করছেন। এমনকি জরুরি চিকিৎসার জন্য বিশেষ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা উত্তোলনের অনুমতি দিতে হয়েছে —যা পরিস্থিতির সংবেদনশীলতা স্পষ্ট করে।

এদিকে, ব্যাংকটির ভেতরে ও বাইরে আস্থার সংকট আরও গভীর হয়েছে অংশীদার ব্যাংকগুলোর সরে দাঁড়ানোর প্রবণতায়। ইতোমধ্যে একটি ব্যাংকের বেরিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ এবং অন্যগুলোর একই চিন্তা পুরো কাঠামোর স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। বিশ্লেষকদের মতে, শুরু থেকেই এই একীভূতকরণ ছিল ঝুঁকিপূর্ণ, কারণ সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর আর্থিক ভিত্তি ছিল দুর্বল এবং উচ্চ খেলাপি ঋণে জর্জরিত। শুধুমাত্র প্রশাসনিকভাবে একীভূত করলেই সমস্যার মূল সমাধান হয় না—এটি এখন স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে বিপুল তারল্য সহায়তা দেওয়া হলেও কাঙ্ক্ষিত স্থিতিশীলতা না আসায় নীতিনির্ধারণ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন সূত্র বলছে, এই ব্যাংকটিকে ঘিরে সরকারের ভেতরেও দোটানা রয়েছে—একদিকে এটি টিকিয়ে রাখার চেষ্টা, অন্যদিকে বাস্তবতা নিয়ে সংশয় ।

বর্তমানে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো গ্রাহক আস্থা ফিরিয়ে আনা। ইতোমধ্যে গ্রাহকদের প্রতিবাদ, মানববন্ধন এবং অসন্তোষের ঘটনাও সামনে এসেছে । নতুন আমানত কমে যাওয়া, উত্তোলনে সীমাবদ্ধতা এবং নীতিগত অনিশ্চয়তা—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য জরুরি ভিত্তিতে তিনটি বিষয় নিশ্চিত করতে হবে—নীতিগত স্থিতিশীলতা, শক্তিশালী সুশাসন এবং খেলাপি ঋণ পুনরুদ্ধার। অন্যথায়, এই বৃহৎ একীভূত উদ্যোগটি টেকসই হওয়া কঠিন হবে। এখন চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে রয়েছে পুরো ব্যাংকিং খাত, কারণ সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপই নির্ধারণ করবে—সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পুনরুজ্জীবিত হবে, নাকি এটি আরেকটি ব্যর্থ আর্থিক পরীক্ষায় পরিণত হবে।

ওমর আলী/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

অর্থনীতি এর সর্বশেষ খবর

অর্থনীতি - এর সব খবর



রে