ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

বিশ্বজুড়ে উত্তেজনা, ট্রাম্পের পরবর্তী নিশানা কে?

২০২৬ এপ্রিল ২০ ২৩:৪২:৪৪
বিশ্বজুড়ে উত্তেজনা, ট্রাম্পের পরবর্তী নিশানা কে?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে— পরবর্তী টার্গেট কার দিকে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নজর। ভেনেজুয়েলায় অভিযান চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক এবং পরে ইরানে হামলায় শীর্ষ নেতৃত্বকে হত্যা করার পর এ নিয়ে আলোচনা আরও তীব্র হয়েছে। এসব ঘটনার মধ্যেও আন্তর্জাতিক আইনের প্রশ্নকে তেমন গুরুত্ব দেননি ডোনাল্ড ট্রাম্প।

গত ৩ ফেব্রুয়ারি ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলার সময় আটক হন নিকোলাস মাদুরো। পরে তাকে নিউইয়র্কে আদালতে হাজির করা হয়, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বড় ধরনের বিতর্ক সৃষ্টি করে।

এরপর ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথ হামলা চালালে নিহত হন দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ শীর্ষ নেতারা। এ ঘটনাও ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিলেও ট্রাম্প প্রশাসন তাদের অবস্থানে অনড় থাকে।

এই প্রেক্ষাপটে বিশ্লেষকদের প্রশ্ন— ভেনেজুয়েলা ও ইরানের পর পরবর্তী লক্ষ্য কি কিউবা? মাদুরোকে আটক করার পর থেকেই ট্রাম্প দাবি করে আসছেন, কিউবার বর্তমান শাসনব্যবস্থা টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে এবং দেশটিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতায় আসতেই হবে।

সাম্প্রতিক এক বক্তব্যে ট্রাম্প কিউবাকে ‘ব্যর্থ রাষ্ট্র’ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক দমন-পীড়নের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। এতে বোঝা যাচ্ছে, হাভানার প্রতি ওয়াশিংটনের নীতি আরও কঠোর হতে পারে। তার বক্তব্যে ইঙ্গিত মিলেছে, ইরান ইস্যু শেষ হলেই কিউবা পরবর্তী ফোকাসে আসতে পারে।

কিউবার কমিউনিস্ট শাসনের অবসান ঘটানো ট্রাম্প ও মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও-এর দীর্ঘদিনের লক্ষ্য বলে মনে করা হয়। বিশেষ করে কিউবান অভিবাসী পটভূমি থাকা রুবিওর জন্য বিষয়টি ব্যক্তিগত গুরুত্বও বহন করে।

ট্রাম্পের দাবি, ভেনেজুয়েলার সহায়তা কমে যাওয়ায় কিউবা এখন অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল অবস্থায় রয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় যেতে আগ্রহী। জানা গেছে, কিউবার পক্ষে আলোচনায় যুক্ত আছেন রাউল রদ্রিগেজ কাস্ত্রো, যিনি রাউল কাস্ত্রোর নাতি।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যম জানিয়েছে, ট্রাম্পকে উদ্দেশ্য করে একটি চিঠি পাঠানোর চেষ্টা করেছিলেন রদ্রিগেজ, যেখানে অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও নিষেধাজ্ঞা শিথিলের প্রস্তাব ছিল। যদিও সেই চিঠি শেষ পর্যন্ত তার হাতে পৌঁছায়নি।

বিশ্লেষকরা বলছেন, কিউবার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি সামরিক পদক্ষেপের পরিবর্তে অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের কৌশল নিচ্ছে। ইতোমধ্যে দেশটির বেসরকারি খাতে জ্বালানি সরবরাহের অনুমতি দেওয়া হয়েছে, যা দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিক নির্দেশ করে।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ কিউবার সরকারি কর্মকর্তা ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য অভিযোগ খতিয়ে দেখতে একটি টাস্কফোর্স গঠন করেছে। এটি ভবিষ্যতে আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ভেনেজুয়েলার ক্ষেত্রেও একই ধরনের কৌশল অনুসরণ করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। মাদুরো ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে মাদক পাচারের অভিযোগ এনে তাদের ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

এদিকে, ট্রাম্পের লাতিন আমেরিকান মিত্ররাও কিউবার ওপর চাপ বাড়াচ্ছে। ইকুয়েডর ইতোমধ্যে কূটনৈতিক মিশন বহিষ্কার করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথভাবে ‘মাদক-সন্ত্রাসবাদ’ মোকাবিলায় উদ্যোগ নিয়েছে।

যদিও এখনো কিউবায় হামলার কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি, তবুও ট্রাম্পের বক্তব্যে আক্রমণাত্মক মনোভাব স্পষ্ট। এমনকি তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, কিউবাকে দখল করা তার জন্য ‘সম্মানের’ বিষয় হতে পারে।

সূত্র মতে, সম্ভাব্য সামরিক প্রস্তুতির জন্য পেন্টাগনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সময়ে কিউবা সরাসরি আলোচনার পথ খুঁজছে, যদিও তারা রুবিওকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে এড়িয়ে যেতে চায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কিউবার পক্ষ থেকে সরাসরি ট্রাম্পের কাছে বার্তা পৌঁছানোর চেষ্টা ইঙ্গিত দেয় যে তারা বর্তমান পরিস্থিতিতে দ্রুত সমাধান খুঁজছে।

অন্যদিকে, কিউবার চলমান সংকট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে মেক্সিকো, স্পেন ও ব্রাজিল। তারা আন্তর্জাতিক আইন মেনে সংলাপের মাধ্যমে সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে।

মিরাজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

আন্তর্জাতিক এর সর্বশেষ খবর

আন্তর্জাতিক - এর সব খবর



রে