ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬
Sharenews24

সিরিয়ায় জঙ্গি অর্থায়ন: বিশাল জরিমানার মুখে লাফার্জ

২০২৬ এপ্রিল ১৪ ০৬:৫৩:৪১
সিরিয়ায় জঙ্গি অর্থায়ন: বিশাল জরিমানার মুখে লাফার্জ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: সিরিয়ার রক্তাক্ত গৃহযুদ্ধের সময় উগ্রপন্থী গোষ্ঠীগুলোকে বিপুল পরিমাণ অর্থ প্রদানের অভিযোগে ফরাসি সিমেন্ট উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান লাফার্জকে অপরাধী হিসেবে সাব্যস্ত করেছে প্যারিসের একটি আদালত। সোমবার (১৩ এপ্রিল) ঘোষিত এই যুগান্তকারী রায়ে প্রতিষ্ঠানটির আটজন সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তাকে সন্ত্রাসবাদে অর্থায়নের অভিযোগে দোষী ঘোষণা করা হয়েছে।

আদালতের দেওয়া দণ্ডাদেশ অনুযায়ী, লাফার্জের সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ব্রুনো লাফোঁকে ৬ বছরের কারাদণ্ড এবং সাবেক ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর ক্রিশ্চিয়ান হেরোকে ৫ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। ব্যক্তিগত সাজার পাশাপাশি করপোরেট প্রতিষ্ঠান হিসেবে লাফার্জকে ১৩ লাখ ২০ হাজার ডলার (১.১২৫ মিলিয়ন ইউরো) জরিমানা করা হয়েছে, যা ফ্রান্সে এ ধরনের অপরাধে কোনো প্রতিষ্ঠানের জন্য সর্বোচ্চ শাস্তি।

বিচারের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩ থেকে ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত লাফার্জ জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস) এবং আল-কায়েদা সংশ্লিষ্ট নুসরা ফ্রন্টকে সর্বমোট ৫৫ লাখ ৯০ হাজার ইউরো প্রদান করে। উল্লেখ্য যে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এই উভয় সংগঠনকেই আন্তর্জাতিকভাবে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে তালিকাভুক্ত করে রেখেছে।

রায়ের পর্যবেক্ষণে প্রধান বিচারক ইসাবেল প্রিভোস্ট-ডেসপ্রে কঠোর ভাষায় মন্তব্য করেন যে, লাফার্জের দেওয়া এই অর্থ সিরিয়া ও তার বাইরে প্রাণঘাতী হামলা পরিচালনাকারী জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর শক্তি বৃদ্ধিতে প্রত্যক্ষ ভূমিকা রেখেছে। মূলত সিরিয়ায় অবস্থিত সিমেন্ট কারখানার কার্যক্রম যেকোনো মূল্যে সচল রাখাই ছিল এই লেনদেনের নেপথ্যের প্রধান কারণ।

আদালত আরও জানায়, স্রেফ অর্থনৈতিক মুনাফা হাসিলের উদ্দেশ্যে লাফার্জ কার্যত ওই সন্ত্রাসবাদী সংগঠনগুলোর সঙ্গে একটি অঘোষিত বাণিজ্যিক অংশীদারিত্ব গড়ে তুলেছিল। ফ্রান্সে এই প্রথম কোনো বহুজাতিক কোম্পানি সন্ত্রাসবাদে অর্থায়নের অভিযোগে আনুষ্ঠানিকভাবে দোষী সাব্যস্ত হলো। তবে রায়ের বিষয়ে এখন পর্যন্ত লাফার্জ বা এর বর্তমান মূল প্রতিষ্ঠান হোলসিমের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

উত্তর সিরিয়ার জালাবিয়া সিমেন্ট কারখানাটি লাফার্জ ২০০৮ সালে ৬৮ কোটি ডলার ব্যয়ে অধিগ্রহণ করেছিল। ২০১০ সালে উৎপাদন শুরু হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই দেশটিতে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও গৃহযুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে। তদন্তকারীদের তথ্যমতে, ওই প্রতিকূল পরিবেশেও উৎপাদন সচল রাখতে জঙ্গিদের নিয়মিত মাসোহারা দেওয়া হতো।

পারিবারিক ও ব্যবসায়িক নিরাপত্তার অজুহাতেও বিশাল অংকের খরচ করা হয়েছে বলে তদন্তে উঠে আসে। বিশেষ করে মানবিজ শহর থেকে কারখানায় কর্মীদের যাতায়াত নিশ্চিত করতে ৮ লাখ ইউরোর বেশি ব্যয় করা হয়। এছাড়া আইএস নিয়ন্ত্রিত খনি থেকে কাঁচামাল সংগ্রহের জন্য কোম্পানিটি ১৬ লাখ ইউরো খরচ করেছিল।

পরবর্তীতে ২০১৫ সালে লাফার্জ সুইজারল্যান্ডভিত্তিক হোলসিম গ্রুপের সঙ্গে একীভূত হয়। এর আগে ২০২২ সালে যুক্তরাষ্ট্রে এক পৃথক মামলায় লাফার্জ স্বীকার করেছিল যে, সিরিয়ায় তাদের ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে তারা আইএস ও নুসরা ফ্রন্টকে প্রায় ৬০ লাখ ডলার দিয়েছিল। সেই মামলায় কোম্পানিটিকে ইতোমধ্যে ৭৭ কোটি ৮০ লাখ ডলার জরিমানা প্রদান করতে হয়েছে।

মিরাজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে