ঢাকা, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬
Sharenews24

মায়ের শেষ ত্যাগে অলৌকিকভাবে বেঁচে গেল আলিফ

২০২৬ মার্চ ২৮ ১১:৩৩:৪২
মায়ের শেষ ত্যাগে অলৌকিকভাবে বেঁচে গেল আলিফ

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় পদ্মা নদীতে বাসডুবির মর্মান্তিক ঘটনায় অলৌকিকভাবে বেঁচে গেছে ১০ বছর বয়সী আলিফ মোল্লা। ঈদের ছুটি শেষে মায়ের সঙ্গে ঢাকায় ফেরার পথে এই দুর্ঘটনার শিকার হয় সে। বাসটি নদীতে পড়ে যাওয়ার মুহূর্তে মা জ্যোৎস্না বেগম ছেলেকে ধাক্কা দিয়ে বাইরে বের করে দেন। তবে বাসের ভেতরে যাত্রীদের চাপে তিনি নিজে আর বের হতে পারেননি।

দুর্ঘটনার সময় আলিফ পানিতে ভেসে ছিল। পরে এক পথচারী গামছা দিয়ে তাকে টেনে উদ্ধার করেন। কিন্তু এরপর আর তার মায়ের কোনো খোঁজ মেলেনি। বেঁচে ফেরা আলিফ কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানায়, বাসে তারা পাশাপাশি বসে ছিল। হঠাৎ বাস নদীতে পড়ে গেলে তার মা তাকে জোরে ধাক্কা দিয়ে বাইরে বের করে দেন, কিন্তু নিজে আর বের হতে পারেননি।

নিহত জ্যোৎস্না বেগম রাজবাড়ী সদর উপজেলার মিজানপুর ইউনিয়নের বড় চর বেনিনগর গ্রামের মান্নান মণ্ডলের স্ত্রী। প্রায় পাঁচ বছর আগে স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর তিনি একমাত্র ছেলে আলিফকে নিয়ে ঢাকার বাইপাইলে বসবাস করতেন। একটি তৈরি পোশাক কারখানায় কাজ করে সংসার চালাতেন এবং আলিফ স্থানীয় একটি মাদরাসায় পড়াশোনা করত।

জ্যোৎস্নার বাড়িতে গিয়ে দেখা গেছে, শোকে স্তব্ধ পুরো পরিবার। মেয়েকে হারিয়ে তার মা শাহেদা বেগম প্রায় বাকরুদ্ধ। কখনো কান্নায় ভেঙে পড়ছেন, আবার কখনো জ্ঞান হারাচ্ছেন। পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

শাহেদা বেগম জানান, ১৯ মার্চ ঈদের ছুটিতে মেয়ে ও নাতি বাড়িতে এসেছিল। ২৫ মার্চ ঢাকায় ফেরার সময় তিনি নিজেই তাদের বাসে তুলে দেন। দৌলতদিয়া ঘাটে পৌঁছে মেয়ে ফোন করে জানায় তারা ঘাটে রয়েছে। কথা বলার একপর্যায়ে হঠাৎ চিৎকার শুনতে পান তিনি। তখন জ্যোৎস্না বলেন, “আম্মা, বাস পদ্মায় পড়ে যাচ্ছে।” এরপরই সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ফোনেই শেষবারের মতো মেয়ের কণ্ঠ শুনেছিলেন তিনি।

পরিবারের স্বজনরা জানান, আলিফ বেঁচে ফিরলেও মাকে হারিয়ে সে এখন একেবারেই অসহায় হয়ে পড়েছে। তার মামি মিতা বেগম বলেন, “আমরা আছি ঠিকই, কিন্তু মায়ের জায়গা তো আর কেউ নিতে পারবে না।”

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে