ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬
Sharenews24

ইসরাইলের আকাশে দুশ্চিন্তার কালোমেঘ, বিতর্কের মুখে গোয়েন্দা প্রধান

২০২৬ মার্চ ২৪ ১৪:২৮:৩৮
ইসরাইলের আকাশে দুশ্চিন্তার কালোমেঘ, বিতর্কের মুখে গোয়েন্দা প্রধান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানে শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের লক্ষ্য নিয়ে ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের আগাম মূল্যায়ন এবং এর পরিচালক ডেভিড বার্নিয়ার ভূমিকা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। যুদ্ধের আগে বার্নিয়া ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, তেহরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থার পতন ঘটাতে অন্তত এক বছর সময় লাগতে পারে। তবে সম্প্রতি কিছু বেনামী সূত্র এই গোয়েন্দা প্রধানের বিরুদ্ধে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র সরকারকে বিভ্রান্ত করার অভিযোগ তুলেছে।

দ্য জেরুজালেম পোস্টের এক বিশ্লেষণে বলা হয়, ইরানে শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের প্রক্রিয়া আশানুরূপ দ্রুত না হওয়ায় এখন এর দায়ভার মোসাদ ও তার পরিচালক ডেভিড বার্নিয়ার ওপর চাপানোর চেষ্টা চলছে। কিছু অভ্যন্তরীণ সূত্র দাবি করছে, বার্নিয়া ইরানি সরকারের পতনের সম্ভাবনা নিয়ে অতি-আশাবাদী পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। তবে বার্নিয়ার ঘনিষ্ঠ মহলের মতে, তিনি সবসময়ই তার পূর্বাভাসের সঙ্গে কঠিন সব শর্ত জুড়ে দিতেন এবং কখনোই আমূল পরিবর্তনকে অনিবার্য বলে দাবি করেননি। মূলত প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ কোনো পক্ষ থেকে নিজেদের ব্যর্থতা আড়াল করতে মোসাদ প্রধানকে বলির পাঁঠা বানানো হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনেও উঠে এসেছে, বার্নিয়া সম্ভবত যুদ্ধ শুরুর কয়েক দিনের মধ্যেই ইরানি বিরোধী দলকে চাঙ্গা করে দাঙ্গা বা বিদ্রোহ উসকে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। এমনকি গত জানুয়ারিতে ট্রাম্প প্রশাসনের কাছেও তিনি এমন প্রস্তাব দিয়েছিলেন বলে শোনা যায়। তবে বাস্তব পরিস্থিতি ভিন্ন হওয়ায় এখন নেতানিয়াহু ও ট্রাম্প উভয়েই ধৈর্য হারাচ্ছেন বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। বিপরীতে ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) শুরু থেকেই বলে আসছিল যে, সামরিক শক্তি বড়জোর শাসন পরিবর্তনের একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে পারে, কিন্তু সরাসরি পতন ঘটাতে সক্ষম নাও হতে পারে।

বার্নিয়ার দীর্ঘদিনের রণকৌশল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেটের আমল থেকেই ‘ডেথ বাই অ্যা থাউজেন্ড কাটস’ বা সহস্র ক্ষত দিয়ে পতন ঘটানোর কৌশলে বিশ্বাসী ছিলেন। এই পরিকল্পনার অংশ ছিল ইরানের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক সংকট, পানি সমস্যা এবং গণবিক্ষোভকে কাজে লাগানো। বার্নিয়া এমনকি বেনেটকে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন সংক্রান্ত একটি বই উপহার দিয়েছিলেন, যেখানে একটি স্বৈরাচারী শাসনকে ভেতর থেকে দুর্বল করার ডজনখানেক অ-সামরিক কৌশলের বর্ণনা ছিল।

বর্তমান উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে বার্নিয়া এবং মোসাদের অবস্থান বেশ জটিল হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে গত জানুয়ারিতে ইরানি বিক্ষোভকারীদের দমনে হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি এবং ট্রাম্পের যুদ্ধ শুরু না করার বিষয়ে নেতানিয়াহুর কথিত ফোনালাপের বিষয়গুলো এই সমীকরণে বড় প্রভাব ফেলেছে। সব মিলিয়ে ইরানের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের যে লক্ষ্য নিয়ে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র এগোচ্ছিল, তা এখন গোয়েন্দা ব্যর্থতা নাকি রাজনৈতিক ভুল সিদ্ধান্তের ফল—সেটিই বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় বা মোসাদ আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

মিরাজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

আন্তর্জাতিক এর সর্বশেষ খবর

আন্তর্জাতিক - এর সব খবর



রে