ঢাকা, রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬
Sharenews24

গ্যাসের অভাবে শহর ছাড়ছে ভারতের পোশাকশ্রমিরা

২০২৬ মার্চ ২২ ১৪:৪৯:৫৬
গ্যাসের অভাবে শহর ছাড়ছে ভারতের পোশাকশ্রমিরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ ও জ্বালানি সংকটের প্রভাবে ভারতের অন্যতম শিল্পনগরী সুরাট এখন বড় ধরনের বিপদের মুখে পড়েছে। ‘বস্ত্র নগরী’ হিসেবে পরিচিত এই শহরের টেক্সটাইল শিল্প এলপিজি সংকটে কার্যত থমকে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। রান্নার গ্যাসের অভাবে বিপাকে পড়া হাজার হাজার শ্রমিক কাজ ছেড়ে শহর ছাড়তে শুরু করায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।

সুরাটের টেক্সটাইল শিল্পের মূল চালিকাশক্তি উত্তর প্রদেশ, বিহার ও ওডিশা থেকে আসা বিপুলসংখ্যক শ্রমিক। কিন্তু কয়েকদিন ধরে এলপিজি সিলিন্ডারের তীব্র সংকটে তারা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। খাদ্য সংকটে পড়া এসব শ্রমিক দলে দলে উধনা রেলস্টেশনে ভিড় করছেন নিজ নিজ গ্রামে ফেরার জন্য।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শ্রমিক সংকটের কারণে অনেক কারখানা সপ্তাহে এক বা দুই দিন উৎপাদন বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছে। ছোট ও মাঝারি শিল্প ইউনিটগুলোর অনেকগুলো ইতোমধ্যে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। ব্যবসায়ীরা আশঙ্কা করছেন, এভাবে শ্রমিক চলে গেলে বিশ্ববাজারে ভারতের কাপড় সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

শ্রমিক কলোনিগুলোতে রান্নার গ্যাসের জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়েও মিলছে না সিলিন্ডার। প্রায় ১৫ দিন ধরে অনেকেই গ্যাস পাচ্ছেন না। এ সুযোগে কালোবাজারে প্রতি কেজি এলপিজি ৫০০ রুপিতে বিক্রি হচ্ছে। সাধারণত ৫০০ রুপির পাঁচ কেজির সিলিন্ডার এখন বিক্রি হচ্ছে আড়াই হাজার রুপিতে।

সীমা দেবী নামের এক নারী শ্রমিক জানান, সাত দিন আগে তাদের গ্যাস শেষ হয়ে গেছে। কাঠের চুলায় রান্না করার অনুমতি নেই, আর সঞ্চিত অর্থও শেষের পথে। তাই সন্তানদের নিয়ে গ্রামে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। অনেক শ্রমিকই বলছেন, কাজ থাকলেও কেবল খাবারের অভাবে তারা শহর ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন।

ভারতের এলপিজি আমদানির বড় অংশই আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে। কিন্তু হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এবং পারস্য উপসাগরের অস্থিরতায় সরবরাহ প্রায় ৩০ শতাংশ কমে গেছে। সরকার বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করলেও সমুদ্রপথে সরবরাহে বিলম্ব হওয়ায় সংকট আরও তীব্র হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, শ্রমিকদের এই ব্যাপক প্রস্থান দীর্ঘস্থায়ী হলে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজার ও রপ্তানি খাত উভয়ই বড় ধরনের ধাক্কা খাবে। সামনে উৎসব মৌসুমে কাপড়ের চাহিদা বাড়লেও উৎপাদন কমে গেলে দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যেতে পারে।

এদিকে শিল্প মালিকরা দ্রুত এলপিজি সরবরাহ নিশ্চিত করতে এবং বিশেষ ভর্তুকি দিতে সরকারের কাছে আহ্বান জানিয়েছেন। তবে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা ও হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই সংকট কাটার সম্ভাবনা কম বলেই মনে করা হচ্ছে।

শিহাব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

আন্তর্জাতিক এর সর্বশেষ খবর

আন্তর্জাতিক - এর সব খবর



রে