ঢাকা, শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬
Sharenews24

ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পকে যে বার্তা দিলেন পুতিন

২০২৬ মার্চ ২১ ০৬:০৭:০৩
ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পকে যে বার্তা দিলেন পুতিন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে একটি পাল্টা প্রস্তাব দিয়েছিল রাশিয়া, যা শেষ পর্যন্ত প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। মস্কোর পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, যদি ওয়াশিংটন ইউক্রেনকে রাশিয়া সংক্রান্ত গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ বন্ধ করে, তবে ক্রেমলিনও মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক স্থাপনার নির্ভুল অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য ইরানকে দেওয়া থেকে বিরত থাকবে। তবে এই প্রস্তাবে সাড়া দেয়নি যুক্তরাষ্ট্র।

পলিটিকো জানায়, গত সপ্তাহে মিয়ামিতে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে রুশ দূত কিরিল দিমিত্রিয়েভ এই প্রস্তাব তুলে ধরেন। সেখানে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার উপস্থিত ছিলেন।

রাশিয়ার এই প্রস্তাব সামনে আসতেই ইউরোপীয় কূটনীতিকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়তে শুরু করেছে। তাদের ধারণা, ট্রান্সআটলান্টিক সম্পর্কের টানাপোড়েনের সুযোগ নিয়ে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বিভক্তি তৈরির কৌশল নিচ্ছে মস্কো।

একজন ইউরোপীয় ইউনিয়নের কূটনীতিক এই প্রস্তাবকে ‘ধৃষ্টতামূলক’ বলে মন্তব্য করেছেন। ইউরোপে আশঙ্কা বাড়ছে যে উইটকফ-দিমিত্রিয়েভের মতো বৈঠকগুলো ইউক্রেনে শান্তি প্রতিষ্ঠার পরিবর্তে রাশিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আলাদা সমঝোতার পথ তৈরি করতে পারে, যেখানে ইউরোপকে পাশ কাটিয়ে দেওয়া হবে।

এদিকে বৃহস্পতিবার ক্রেমলিন জানিয়েছে, মার্কিন মধ্যস্থতায় ইউক্রেন ইস্যুতে শান্তি আলোচনা আপাতত স্থগিত রয়েছে।

অন্য একটি সূত্রের দাবি, ইরানকে ঘিরে রাশিয়া অতীতেও একাধিক প্রস্তাব দিয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্র প্রত্যাখ্যান করেছে। এর মধ্যে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রাশিয়ায় স্থানান্তরের প্রস্তাবও ছিল, যা গৃহীত হয়নি।

ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে সামরিক ও গোয়েন্দা সহযোগিতা বেড়েছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল আগে জানিয়েছিল, মস্কো স্যাটেলাইট তথ্য ও ড্রোন প্রযুক্তি দিয়ে তেহরানকে মার্কিন বাহিনীকে লক্ষ্যবস্তু করতে সহায়তা করছে। যদিও এই অভিযোগকে ‘ভুয়া সংবাদ’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে ক্রেমলিন।

ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন, রাশিয়ার ইরানকে সহায়তা এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউক্রেনকে সহায়তার মধ্যে এক ধরনের পারস্পরিক সম্পর্ক থাকতে পারে। তার ভাষায়, “পুতিন হয়তো ইরানকে কিছুটা সহায়তা করছেন, কারণ তারা মনে করে আমরা ইউক্রেনকে সহায়তা করছি।”

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে গোয়েন্দা সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে, যদিও অন্যান্য সামরিক সহায়তা কিছুটা কমানো হয়েছে। এই তথ্য সহায়তাই এখন ইউক্রেনে মার্কিন সম্পৃক্ততার অন্যতম প্রধান ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাতের প্রভাব ইউক্রেনেও পড়ছে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ বিমান প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে।

অন্যদিকে, বৈশ্বিক তেলের বাজারে চাপ কমাতে ট্রাম্প প্রশাসন রুশ তেলের ওপর কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে। এ সিদ্ধান্তে ফ্রিডরিখ মার্জসহ ইউরোপের শীর্ষ নেতারা উদ্বেগ ও সমালোচনা জানিয়েছেন।

সিরাজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

আন্তর্জাতিক এর সর্বশেষ খবর

আন্তর্জাতিক - এর সব খবর



রে