ঢাকা, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
Sharenews24

যেসব আত্মীয়কে জাকাত দেওয়া যাবে না

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৮ ১০:৫১:৪০
যেসব আত্মীয়কে জাকাত দেওয়া যাবে না

নিজস্ব প্রতিবেদক : পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা জাকাত গ্রহণের উপযুক্ত আট শ্রেণির মানুষের কথা উল্লেখ করেছেন। Quran–এর সুরা তওবার ৬০ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, সদকা (জাকাত) নির্ধারিত দরিদ্র, অভাবী, জাকাত আদায়ে নিয়োজিত কর্মচারী, অন্তর অনুকূল করার উদ্দেশ্যে সাহায্যপ্রার্থী ব্যক্তি, দাসমুক্তি, ঋণগ্রস্ত, আল্লাহর পথে সংগ্রামরত ব্যক্তি এবং মুসাফিরদের জন্য। এটি আল্লাহর নির্ধারিত বিধান; তিনি সর্বজ্ঞ ও প্রজ্ঞাময়।

জাকাত গ্রহণের উপযুক্ত আট শ্রেণি

১. ফকির — যার কোনো সম্পদ নেই।

২. মিসকিন — যার নেসাব পরিমাণ সম্পদ নেই।

৩. জাকাত আদায়ে নিয়োজিত কর্মচারী।

৪. আর্থিক সংকটে থাকা নওমুসলিম।

৫. ক্রীতদাস — মুক্তির উদ্দেশ্যে।

৬. ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি।

৭. আল্লাহর পথে সংগ্রামরত ব্যক্তি।

৮. মুসাফির — স্বদেশে সচ্ছল হলেও ভ্রমণকালে অভাবগ্রস্ত।

যেসব আত্মীয়কে জাকাত দেওয়া যাবে না

আত্মীয়স্বজনদের মধ্যে কেউ উপরের শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত হলেও তিন ধরনের আত্মীয়কে জাকাত দেওয়া জায়েজ নয়—

১. ঊর্ধ্বতন সরাসরি আত্মীয়

বাবা-মা, দাদা-দাদি, নানা-নানি, পরদাদা-পরদাদি, পরনানা-পরনানিসহ ওপরের দিকে সরাসরি যাঁরা আছেন।

২. অধস্তন সরাসরি বংশধর

পুত্র-কন্যা, নাতি-নাতনি, দৌহিত্র-দৌহিত্রী—অর্থাৎ নিজের বংশধরদের কাউকে জাকাত দেওয়া যাবে না।

৩. স্বামী-স্ত্রী

স্বামী স্ত্রীকে বা স্ত্রী স্বামীকে জাকাত দিতে পারবেন না।

তবে এই আত্মীয়রা যদি অভাবগ্রস্ত হন, তাহলে নিজের সাধারণ সম্পদ থেকে তাঁদের সহায়তা করা কর্তব্য।

যাঁদের দেওয়া যাবে

ভাই-বোন, চাচা-চাচি, মামা-মামি, খালা-খালু, ফুফু-ফুফা, শ্বশুর-শাশুড়ি—তাঁরা জাকাত গ্রহণের উপযুক্ত হলে তাঁদের জাকাত দেওয়া যাবে। আত্মীয়দের মধ্যে অভাবী কাউকে জাকাত দেওয়া উত্তম। এতে জাকাত আদায়ের পাশাপাশি আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষার সওয়াবও পাওয়া যায়।

হাদিসে বর্ণিত আছে, সাধারণ অভাবীকে সদকা করলে শুধু সদকার সওয়াব পাওয়া যায়; আর আত্মীয়কে দিলে সদকার পাশাপাশি আত্মীয়তার হক আদায়ের সওয়াবও মেলে। (মুসনাদে আহমাদ: ১৫৭৯৪; সুনানে নাসাঈ: ২৫৮২)

জাকাত ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের একটি ফরজ বিধান। প্রত্যেক স্বাধীন, প্রাপ্তবয়স্ক ও সম্পদশালী মুসলমান নারী-পুরুষের ওপর বছরে একবার জাকাত আদায় করা ফরজ।

কেউ যদি পূর্ণ এক হিজরি বছর নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক থাকেন, তাহলে তাঁর ওপর জাকাত ওয়াজিব হবে। নেসাবের পরিমাণ হলো—৭ তোলা বা ৮৭.৪৫ গ্রাম স্বর্ণ, অথবা সাড়ে ৫২ তোলা বা ৬১২.৩৫ গ্রাম রৌপ্য, অথবা এর সমপরিমাণ নগদ অর্থ বা বাণিজ্যিক সম্পদ।

নেসাব পরিমাণ সম্পদ অর্জনের দিন থেকে এক বছর পূর্ণ হলে, ওই সময়ে মালিকানাধীন মোট বর্ধনশীল সম্পদের ৪০ ভাগের ১ ভাগ (অর্থাৎ ২.৫ শতাংশ) জাকাত হিসেবে প্রদান করতে হবে।

হিজরি সনের হিসাব অনুযায়ী বছরে একবার জাকাত নির্ধারণ করা হয়। অনেকে রমজান মাসে হিসাব করে থাকেন। হিসাব করার পর পুরো অর্থ একসঙ্গে দেওয়া বাধ্যতামূলক নয়; বছরের মধ্যে ধাপে ধাপে আদায় করা যায়।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

ধর্ম ও জীবন এর সর্বশেষ খবর

ধর্ম ও জীবন - এর সব খবর



রে