ঢাকা, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারি ২০২৬
Sharenews24

নির্বাচনী ঝুঁকিতে বিএনপি-জামায়াতের শীর্ষ তিন নেতা

২০২৬ জানুয়ারি ৩০ ১৫:২৬:০৩
নির্বাচনী ঝুঁকিতে বিএনপি-জামায়াতের শীর্ষ তিন নেতা

নিজস্ব প্রতিবেদক: জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মাঠ পর্যায়ের রাজনৈতিক সমীকরণে প্রধান দুই দলের শীর্ষ চার নেতার ভাগ্য নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। এর মধ্যে তিন হেভিওয়েট নেতা নিজ নিজ আসনে প্রবল ঝুঁকির মুখে থাকলেও অপর এক নেতার জয় অনেকটাই নিশ্চিত বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে সেই নেতার জন্য একটি আসনে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

মাঠের তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে সবচেয়ে বেশি চ্যালেঞ্জের মুখে আছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান, সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। অন্যদিকে, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বগুড়া-৬ আসনে অনায়াস জয়ের পথে থাকলেও ঢাকা-১৭ আসনে জামায়াত প্রার্থীর কাছে বড় ধরনের প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্মুখীন হতে পারেন। ডা. শফিক এবারও রাজধানীর ঢাকা-১৫ আসনে লড়ছেন, যেখানে অতীতে জামায়াতের ভোট প্রাপ্তির হার ছিল বেশ কম। যদিও এবার চাঁদাবাজি-দখলবাজির বিরুদ্ধে প্রচারণায় কিছুটা সুবিধা পাওয়ার আশা করছে দলটি।

খুলনা-৫ আসনে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের অবস্থানও খুব একটা স্বস্তিদায়ক নয়। এই আসনে সংখ্যালঘু ভোটারদের প্রভাব এবং বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী আলী আসগার লবির শক্ত অবস্থানের কারণে তিনি বেশ চাপে আছেন। গোলাম পরওয়ার আগে এই আসনে একবার জয়ী হলেও এবারের একক নির্বাচনে বিএনপির ভোট ব্যাংক এবং হিন্দু ভোটারদের সমর্থন লবিকে অনেকটা এগিয়ে রেখেছে। আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে এখানে মূল লড়াই হবে দুই জোটসঙ্গীর মধ্যেই।

ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও নিজ দলের ভেতরের কোন্দলে কিছুটা বিড়ম্বনায় পড়েছেন। অভিযোগ উঠেছে, তিনি জেলা-উপজেলা কমিটিতে পরিবারের সদস্যদের প্রাধান্য দেওয়ায় তৃণমূলের অনেক নেতাকর্মী তাঁর ওপর রুষ্ট। এই নীরব বিদ্রোহের ফলে বিএনপির একাংশের ভোট দাঁড়িপাল্লায় চলে যেতে পারে বলে স্থানীয় বিশ্লেষকরা মনে করছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে মির্জা ফখরুল এখন সংখ্যালঘু ভোটার ও সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জনের চেষ্টা করছেন।

তারেক রহমান দুটি আসনে লড়ছেন—বগুড়া-৬ ও ঢাকা-১৭। বগুড়া-৬ আসনে তাঁর জয় নিয়ে কারো মনে কোনো সংশয় নেই। তবে ঢাকা-১৭ আসনের চিত্র কিছুটা ভিন্ন। গুলশান-বনানী এলাকার ভোটারদের কেন্দ্রে যাওয়ার প্রবণতা কম থাকা এবং কড়াইল-ভাষানটেকের বস্তি এলাকায় জামায়াত প্রার্থীর দীর্ঘদিনের তৎপরতা তারেক রহমানের জয়ের ব্যবধান কমিয়ে দিতে পারে। তবে দিনশেষে তারেক রহমানেরই বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।

রাজনৈতিক মহলের মতে, বর্তমান অর্থবছরের এই নির্বাচন দেশের অর্থনীতির স্থিতিশীলতার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সুষ্ঠুভাবে ভোট সম্পন্ন হলে এবং নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নিলে বাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরবে, যা শেয়ারবাজার ও আর্থিক খাতের গতিশীলতা বাড়াতে সহায়তা করবে। বিশেষ করে নির্বাচনে ক্যাশ প্রবাহের আধিক্য ও পরবর্তী রাজনৈতিক শান্তি দেশের সামগ্রিক প্রবৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখবে।

সিরাজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে