ঢাকা, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারি ২০২৬
Sharenews24

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্থান

২০২৬ জানুয়ারি ২৩ ১৮:৩৫:১২
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্থান

ডেস্ক রিপোর্ট: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের প্রত্যাহার করে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর মাধ্যমে জাতিসংঘের এই স্বাস্থ্য বিষয়ক সংস্থাটি তাদের ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ অর্থদাতাকে হারাল।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই একটি নির্বাহী আদেশে সই করার মাধ্যমে এই সদস্যপদ বাতিলের বিষয়টি চূড়ান্ত করেন। ট্রাম্পের অভিযোগ, কোভিড-১৯ মহামারির সময় ডব্লিউএইচও নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছে এবং অতিরিক্ত ‘চীন-কেন্দ্রিক’ আচরণ করেছে।

ডব্লিউএইচও এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করার জন্য ওয়াশিংটনকে বারবার অনুরোধ জানিয়ে আসছিল। সংস্থাটির শীর্ষ কর্মকর্তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ডব্লিউএইচও দীর্ঘকাল ধরে যৌথভাবে বিশ্বজুড়ে অসংখ্য প্রাণ বাঁচিয়েছে। তবে মার্কিন স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগ সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, মহামারি মোকাবিলায় ডব্লিউএইচও-এর অব্যবস্থাপনা এবং প্রয়োজনীয় সংস্কারে অনীহার কারণেই তারা সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সংস্থাটির মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রেয়েসুস এই পদক্ষেপকে যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্ব উভয়ের জন্যই একটি বড় ক্ষতি হিসেবে অভিহিত করেছেন।

গত বছর যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া বাকি সব দেশের সম্মতিতে একটি ‘আন্তর্জাতিক মহামারি চুক্তি’ চূড়ান্ত করা হয়েছিল, যার মূল লক্ষ্য ছিল ভবিষ্যতে ভ্যাকসিন ও ওষুধ সব দেশে ন্যায্যভাবে বণ্টন করা। এই চুক্তিতে ওয়াশিংটন সায় দেয়নি। ঐতিহাসিকভাবে ডব্লিউএইচও-এর বড় দাতা হলেও ২০২৪ ও ২০২৫ সালের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ পরিশোধ করেনি যুক্তরাষ্ট্র। সংস্থাটির আইনজীবীদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে প্রায় ২৬০ মিলিয়ন ডলার বকেয়া রয়েছে। তবে ওয়াশিংটন স্পষ্ট জানিয়েছে, সংস্থায় না থাকায় এই বিপুল পরিমাণ অর্থ দেওয়ার কোনো যৌক্তিকতা তারা দেখছে না।

হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ডব্লিউএইচও-কে দেওয়া সব ধরণের সরকারি অর্থায়ন বন্ধের পাশাপাশি জেনেভাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দপ্তরে কর্মরত মার্কিন কর্মী ও ঠিকাদারদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে সংস্থাটির সাথে থাকা শতাধিক চুক্তি ও প্রকল্প বাতিল করা হয়েছে।

ট্রাম্প প্রশাসনের স্বাস্থ্য সচিব রবার্ট এফ কেনেডি এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এক যৌথ বিবৃতিতে অভিযোগ করেছেন যে, ডব্লিউএইচও মার্কিন স্বার্থের বিরুদ্ধে কাজ করেছে এবং এমনকি জেনেভায় তাদের সদর দপ্তরে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা পর্যন্ত ফেরত দিতে ব্যর্থ হয়েছে।

ডব্লিউএইচও-এর বিকল্প হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র এখন বিভিন্ন দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক ভিত্তিতে রোগ গবেষণা ও তথ্য আদান-প্রদান করবে। পোলিও বা এইচআইভি-এর মতো ব্যাধি মোকাবিলায় ওয়াশিংটন এখন থেকে সরাসরি বিভিন্ন এনজিও ও ধর্মীয় সংগঠনের সঙ্গে কাজ করার পরিকল্পনা করছে। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রস্থান আগামী অর্থবছরগুলোতে বৈশ্বিক স্বাস্থ্য খাতের অর্থায়নে বড় ধরণের অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বৈশ্বিক এই স্বাস্থ্য সংকটের প্রভাব পরোক্ষভাবে আন্তর্জাতিক বাজারেও পড়তে পারে। বিশেষ করে ওষুধ শিল্প ও গবেষণা খাতের সাথে জড়িত কোম্পানিগুলোর শেয়ারবাজারে এর প্রতিফলন দেখা যেতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রে সরাসরি বিনিয়োগ করা অনেক বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের ক্যাশ প্রবাহ বা তহবিল বণ্টন ব্যবস্থায় পরিবর্তন আসতে পারে, কারণ ওয়াশিংটন এখন স্বাস্থ্য খাতে তাদের নিজস্ব কৌশল ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ওপর বেশি জোর দিচ্ছে।

মিরাজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

আন্তর্জাতিক এর সর্বশেষ খবর

আন্তর্জাতিক - এর সব খবর



রে