ঢাকা, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারি ২০২৬
Sharenews24

উপদেষ্টার সঙ্গে ‘গ্যাপ’ তৈরি হতেই বিদায় আফসানার

২০২৬ জানুয়ারি ২৩ ১৫:৫৩:২৮
উপদেষ্টার সঙ্গে ‘গ্যাপ’ তৈরি হতেই বিদায় আফসানার

নিজস্ব প্রতিবেদক : জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের পরিচালক পদ থেকে লেখক আফসানা বেগমের আকস্মিক অব্যাহতির ঘটনায় বই নির্বাচন নীতিমালার ‘কোটা’ ব্যবস্থা নিয়ে তার সঙ্গে সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর মতভিন্নতা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। দায়িত্ব গ্রহণের পর আফসানা বেগম গ্রন্থকেন্দ্রে দীর্ঘদিন ধরে চালু থাকা মন্ত্রী ও সচিব কোটাকে সংস্কার করে শতভাগ বই নির্বাচন কমিটির মাধ্যমে বই কেনার প্রস্তাব দেন। তার দাবি, এই কোটা ব্যবস্থার কারণে যাচাই ছাড়াই নিম্নমানের, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও অপাঠ্য বই গ্রন্থকেন্দ্রের মাধ্যমে লাইব্রেরিতে পাঠানো হতো, যা পাঠাগার ব্যবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

আফসানা বেগম তার ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, তৎকালীন সংস্কৃতি উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের অনুরোধেই তিনি বই নির্বাচন নীতিমালা সংশোধনের উদ্যোগ নেন। সংশোধিত নীতিমালার উদ্দেশ্য ছিল—যোগ্য বই নির্বাচন, অযোগ্য বই প্রত্যাহার এবং লাইব্রেরিগুলোর জন্য বরাদ্দ অর্থের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা। নীতিমালার কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে থাকলেও সংস্কৃতি উপদেষ্টা পরিবর্তনের পর বিষয়টি থমকে যায়। নতুন উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর সঙ্গে কোটা বাতিল প্রসঙ্গে তার একাধিকবার মতবিরোধ হয় বলে দাবি করেন আফসানা।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, এক বৈঠকে উপদেষ্টা তাকে বলেন, “কোটা থাকুক। পরবর্তী সরকার এসে ব্যবহার করবে। এটা ওদের লাগবে।” আফসানা বেগম এই বক্তব্যে বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, কোটা থাকার কারণেই লাইব্রেরিগুলো অপ্রয়োজনীয় বইয়ের বোঝা বহন করতে বাধ্য হয় এবং প্রকৃত পাঠাগারগুলো ন্যায্য অনুদান থেকে বঞ্চিত হয়। তিনি আরও বলেন, কোটা ব্যবস্থায় কোনো ক্যাটালগ যাচাই, পরিদর্শন প্রতিবেদন বা মান নির্ধারণের বাধ্যবাধকতা না থাকায় যাদের রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক যোগাযোগ আছে তারাই সুবিধা পায়।

আফসানা বেগম আরও দাবি করেন, দীর্ঘ সময় ধরে উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকের চেষ্টা করেও সময় পাওয়া যায়নি এবং একাধিকবার নির্ধারিত মিটিং বাতিল করা হয়। অবশেষে একটি বৈঠকে কোটা নিয়ে আলোচনা হলে উপদেষ্টা ‘কোটা’ শব্দটি বাদ দিয়ে অন্য নামে ব্যবস্থাটি রাখার প্রস্তাব দেন বলে জানান তিনি। এই প্রস্তাবকে তিনি কোটা সংস্কারের মূল চেতনার পরিপন্থী বলে উল্লেখ করেন।

দায়িত্ব পালনকালে গ্রন্থকেন্দ্রে অতীতে বই কেনার নানা অনিয়মের কথাও তুলে ধরেছেন আফসানা বেগম। তার অভিযোগ, সরকারি কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত লেখা বই, এমনকি অল্প মানের কবিতার বইও বিপুল সংখ্যায় কেনা হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, “আমার স্ত্রীর জন্মদিনে লেখা ৫০ কবিতা” নামের একটি বইয়ের এক হাজার কপি কেনার ঘটনা। এছাড়া আগের সরকার আমলে বিশেষ কোটায় হাজার হাজার টাকা দামের বই কেনা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

চার পর্বের লেখায় আফসানা বেগম জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের প্রতি সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের দীর্ঘদিনের অবহেলার চিত্রও তুলে ধরেন। তার অভিযোগ, একেকটি ফাইল মন্ত্রণালয়ে দুই থেকে আড়াই মাস পড়ে থাকত, সংস্কার প্রস্তাব একাধিকবার জমা দেওয়া হলেও তা গুরুত্ব পায়নি এবং উপদেষ্টা বা সচিব কেউই গ্রন্থকেন্দ্রের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন নিয়ে সরাসরি আলোচনা করেননি। তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানটিকে কেবল “বই কেনার দপ্তর” হিসেবে দেখা হয়, এর বৃহত্তর দায়িত্ব ও সম্ভাবনাকে উপেক্ষা করা হয়েছে।

আফসানা বেগম আরও জানান, জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র থেকে তাজউদ্দীন আহমদের জন্মবার্ষিকী পালন করায় সংস্কৃতি সচিব অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন। অনুষ্ঠান আয়োজনের পরদিন তাকে মন্ত্রণালয়ে ডেকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় বলেও তিনি দাবি করেন। তার মতে, এসব ঘটনাও উপদেষ্টার সঙ্গে তার দূরত্ব বাড়িয়েছে।

গত মঙ্গলবার অন্তর্বর্তী সরকার হঠাৎ করেই আফসানা বেগমকে পরিচালক পদ থেকে অব্যাহতি দেয়। তার স্থলাভিষিক্ত হন কবি সাখাওয়াত টিপু নামে পরিচিত এ এইচ এম সাখাওয়াত উল্লাহ। অব্যাহতির সময় ও প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে আফসানা বেগম বলেন, তিনি জ্ঞানত এমন কোনো কাজ করেননি যাতে জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র বা সরকারের ক্ষতি হয়। বরং গ্রন্থকেন্দ্রের সংস্কার ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই ছিল তার লক্ষ্য।

আফসানা বেগমের অভিযোগের বিষয়ে সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও সংস্কৃতি সচিব মফিদুর রহমানের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে