×
ঢাকা, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬

রিকশাচালকদের জন্য বড় খবর, নিবন্ধন ছাড়া চলবে না গাড়ি!

২০২৬ নভেম্বর ০১ ১৬:৫১:১৮
রিকশাচালকদের জন্য বড় খবর, নিবন্ধন ছাড়া চলবে না গাড়ি!

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানী ঢাকাসহ দেশের ১৩টি সিটি করপোরেশন এলাকায় ব্যাটারিচালিত রিকশা বা ই-রিকশা চলাচলে শৃঙ্খলা ফেরাতে নতুন বিধিমালা কার্যকর করতে যাচ্ছে সরকার। এর আওতায় ই-রিকশার নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। পাশাপাশি পর্যায়ক্রমে চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্সের আওতায় আনা হবে। তবে আপাতত লাইসেন্স কার্যক্রম শুরু হচ্ছে না। প্রথম ধাপে যানবাহন নিবন্ধনের কাজ এগিয়ে নেওয়া হবে।

আগামী সোমবার (২ নভেম্বর) থেকে ই-রিকশার নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। রোববার (১ নভেম্বর) সচিবালয়ে সিটি করপোরেশন এলাকায় তিন চাকার স্বল্পগতির ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল বিধিমালা নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

প্রতিমন্ত্রী জানান, ‘সিটি করপোরেশন আইন, ২০০৯’-এর ২০২৬ সালের সংশোধিত আইনের ১২০ ধারায় ই-রিকশা নিবন্ধনের বিধান যুক্ত করা হয়েছে। সংসদে আইন পাসের পর এ-সংক্রান্ত বিধিমালা তৈরি করা হয়। আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং শেষে তা সরকারি গেজেটে প্রকাশিত হয়েছে। ফলে ই-রিকশা নিবন্ধনে এখন আর আইনগত বাধা নেই।

নতুন বিধিমালা অনুযায়ী, দুই যাত্রী ধারণক্ষমতার ই-রিকশার নিবন্ধন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ৮ হাজার টাকা। এক বছর পর ফিটনেস যাচাই করে নবায়নের জন্য দিতে হবে ৪ হাজার টাকা।

অন্যদিকে, চার যাত্রী ধারণক্ষমতার ই-রিকশার নিবন্ধন ফি ১০ হাজার টাকা। এক বছর পর ফিটনেস পরীক্ষা শেষে নবায়ন করতে লাগবে ৫ হাজার টাকা। বিধিমালা অনুযায়ী, নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে এসব ই-রিকশা সর্বোচ্চ ১২ বছর পর্যন্ত চলাচল করতে পারবে।

ই-রিকশার ফিটনেস সনদ হিসেবে কিউআর কোডযুক্ত সার্টিফিকেট দেওয়া হবে। এ জন্য ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার টাকা। কিউআর কোডে নিবন্ধন নম্বর, মালিকের তথ্য, সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশন এবং চলাচলের নির্ধারিত জোনের পরিচয় থাকবে।

নতুন বিধিমালায় ই-রিকশাচালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স নেওয়ার বিধান রাখা হলেও তা এখনই কার্যকর হচ্ছে না। প্রথমে যানবাহন নিবন্ধন করা হবে। পরে আলাদা প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে চালকদের লাইসেন্সের আওতায় আনা হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক চালক লাইসেন্সের জন্য আবেদন করলে সিটি করপোরেশনগুলোর পক্ষে তা সামাল দেওয়া কঠিন হবে। তাই পর্যায়ক্রমে এ কার্যক্রম শুরু করা হবে। আপাতত চালকদের পরিচয়পত্র থাকবে, যা মালিকপক্ষ সরবরাহ করবে।

ই-রিকশার উৎপাদন নিয়ন্ত্রণ এবং প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান অনুমোদনের সুপারিশ করতে সাত সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে স্থানীয় সরকার বিভাগ, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), সিটি করপোরেশন, পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ ও জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধিরা রয়েছেন।

প্রতিমন্ত্রী জানান, ই-রিকশা উৎপাদনের ক্ষেত্রে বুয়েট অনুমোদিত নকশা অনুসরণ করতে হবে। বর্তমানে যেসব ই-রিকশা চলাচল করছে, সেগুলোকেও নির্ধারিত নকশা অনুযায়ী পরিবর্তন করতে হবে। উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সিটি করপোরেশনের অনুমতি নিয়ে এ কাজ করবে।

নতুন বিধিমালায় ই-রিকশা চলাচলের ক্ষেত্রে বেশ কয়েকটি অপরাধ নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—

নিবন্ধন ছাড়া ই-রিকশা চালানো;

অনুমোদিত গতিসীমার বেশি গতিতে চলাচল;

অতিরিক্ত যাত্রী বহন;

অননুমোদিত ব্যাটারি ব্যবহার;

মোটর বা গাড়ির কাঠামো পরিবর্তন;

নিষিদ্ধ এলাকায় চলাচল;

বিপজ্জনকভাবে গাড়ি চালানো;

যাত্রী ছাড়া মালামাল পরিবহন;

ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্য করা;

দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়া।

এসব অপরাধের ক্ষেত্রে বিধিমালা অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।

ঢাকা মহানগরে ই-রিকশা চলাচল নিয়ন্ত্রণে আটটি জোন করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে চারটি এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে চারটি জোন থাকবে।

প্রতিটি জোনের ই-রিকশার রং হবে আলাদা। অর্থাৎ মোট আটটি রঙের ই-রিকশা চলাচল করবে। এর ফলে এক জোনের ই-রিকশা অন্য জোনে প্রবেশ করতে পারবে না।

কোন জোনে কতসংখ্যক ই-রিকশা চলাচল করলে যানজট তৈরি হবে না, তা ট্রাফিক বিভাগ ও সিটি করপোরেশন আলোচনা করে নির্ধারণ করবে। তবে আপাতত ই-রিকশার সংখ্যার ওপর কোনো সীমা নির্ধারণ করা হয়নি।

নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর পর্যায়ক্রমে অবৈধ ই-রিকশা চলাচল নিরুৎসাহিত করা হবে। পাশাপাশি সেগুলো অপসারণের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।

তবে নতুন বিধিমালা প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই চালকদের আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, নিয়ম মেনে পর্যায়ক্রমে নিবন্ধন দেওয়া হবে এবং অবৈধ ব্যাটারিচালিত ই-রিকশা অপসারণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিবন্ধন কার্যক্রম শুরুর এক মাস পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আবার বৈঠক করে অগ্রগতি জানানো হবে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। ওই সময় কতগুলো ই-রিকশা নিবন্ধন পেয়েছে, কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং অবৈধ যানবাহন অপসারণের বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত হয়েছে, তা তুলে ধরা হবে।

ই-রিকশার চার্জিং পয়েন্টগুলোও নিয়ন্ত্রণের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। নির্দিষ্ট স্থানে চার্জিং পয়েন্ট স্থাপনের অনুমোদন দেওয়া হবে। সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে চার্জ দেওয়ার ব্যবস্থা করতে পারবে—এমন প্রতিষ্ঠানকে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে অনুমোদন বা ট্রেড লাইসেন্স দেওয়া হবে।

অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার করে ই-রিকশা চার্জ দিলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ছাড়া সিটি করপোরেশনের ম্যাজিস্ট্রেটরা নিয়মিত চার্জিং পয়েন্ট তদারকি করবেন।

ই-রিকশার ভাড়াও কিলোমিটারভিত্তিক নির্ধারণের পরিকল্পনা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে ই-রিকশার মালিকপক্ষ, ট্রাফিক বিভাগ ও সিটি করপোরেশন যৌথভাবে আলোচনা করে ভাড়া ঠিক করবে। প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, ভাড়া সাধারণ মানুষের সামর্থ্যের মধ্যে রাখার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হবে।

নতুন বিধিমালা আপাতত দেশের ১৩টি সিটি করপোরেশন এলাকায় কার্যকর হবে। পৌরসভা এলাকায় ই-রিকশা নিয়ন্ত্রণে নিতে হলে সংশ্লিষ্ট পৌরসভার আইন সংশোধন করতে হবে। এরপর সেসব এলাকার জন্যও প্রয়োজনীয় বিধিমালা তৈরি করা হবে।

সরকারের আশা, নিবন্ধন, ফিটনেস পরীক্ষা, চালকের লাইসেন্স, নির্দিষ্ট জোন এবং ভাড়া নির্ধারণের মাধ্যমে ই-রিকশা চলাচলে শৃঙ্খলা ফিরবে। তবে নতুন নিয়ম বাস্তবায়নের অগ্রগতি ও চালকদের জন্য লাইসেন্স কার্যক্রম শুরুর সময়সূচি এখনো পর্যায়ক্রমে নির্ধারণ করা হবে।

জাহিদ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর

উ
প
রে