×
ঢাকা, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬

গ্রেড ও ভাতায় অসংগতি, বিপাকে সরকারি কর্মচারীরা

২০২৬ নভেম্বর ০১ ১৪:৪০:১৩
গ্রেড ও ভাতায় অসংগতি, বিপাকে সরকারি কর্মচারীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক: নতুন বেতনকাঠামো অনুযায়ী রোববার (১ নভেম্বর) থেকে তিন মাসের বকেয়াসহ বর্ধিত বেতন পাওয়ার কথা সরকারি চাকরিজীবীদের। এ লক্ষ্যে বেতন পরিশোধের প্রস্তুতিও নিয়েছে সরকার। তবে নতুন কাঠামোয় বেতন নির্ধারণের কাজ শেষ না হওয়ায় অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী আপাতত আগের বেতনকাঠামো অনুযায়ী বেতন পাচ্ছেন। পরবর্তী সময়ে তাদের বর্ধিত বেতন ও বকেয়া অর্থ সমন্বয় করার কথা রয়েছে।

অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, দেশে বর্তমানে প্রায় ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী, আট লাখ পেনশনভোগী এবং ছয় লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষক রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে অনেকেরই এখনো নতুন কাঠামো অনুযায়ী বেতন নির্ধারণ সম্পন্ন হয়নি। ফলে নির্ধারিত সময়ে বর্ধিত বেতন পাওয়ার ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

নতুন বেতনকাঠামো অনুযায়ী বেতন নির্ধারণ করতে গিয়ে গ্রেডের ক্রম, উচ্চতর গ্রেড, বাড়িভাড়া ভাতা এবং পদোন্নতির পর আর্থিক সুবিধাসহ বিভিন্ন বিষয়ে অসংগতি দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি সরকারের সমন্বিত আর্থিক ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি আইবাস++-এও জটিলতা তৈরি হয়েছে।

এসব সমস্যা সমাধানের জন্য বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অর্থসচিব মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদারের কাছে আবেদন করেছেন। তবে প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত এসব আবেদনের নিষ্পত্তি হয়নি।

অর্থ বিভাগের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নতুন বেতনকাঠামোর প্রজ্ঞাপন তৈরি ও বাস্তবায়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অভিজ্ঞতার ঘাটতির কারণে কিছু সমস্যা তৈরি হয়েছে। এসব জটিলতা সমাধানে কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।

নতুন কাঠামোয় বেতন নির্ধারণের ক্ষেত্রে গ্রেডের ক্রম নিয়ে অসন্তোষ জানিয়েছেন কর্মচারীরা। তাঁদের অভিযোগ, কোনো কোনো ক্ষেত্রে নিচের গ্রেডের কর্মচারীর মূল বেতন ওপরের গ্রেডের কর্মচারীর চেয়ে বেশি নির্ধারিত হচ্ছে।

কর্মচারীদের দেওয়া উদাহরণ অনুযায়ী, ১১তম গ্রেডের একজন কর্মচারীর মূল বেতন নির্ধারণ করা হচ্ছে ৩৭ হাজার টাকা। অন্যদিকে ১২তম গ্রেডের একজন কর্মচারীর মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৭ হাজার ৭০০ টাকা। এতে গ্রেডের ক্রম ও বেতন নির্ধারণের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

নতুন কাঠামোয় বাড়িভাড়া ভাতার হিসাব নিয়েও অসংগতি দেখা দিয়েছে। কর্মচারীদের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, দশম গ্রেডের একজন কর্মকর্তা পদোন্নতি পেয়ে নবম গ্রেডে গেলে অথবা প্রথম উচ্চতর গ্রেড পেলে তাঁর মূল বেতন ৪৯ হাজার ৭০০ টাকা থেকে বেড়ে ৫১ হাজার টাকা হতে পারে। অর্থাৎ মূল বেতন বাড়বে ১ হাজার ৩০০ টাকা।

কিন্তু গ্রেড পরিবর্তনের সঙ্গে বাড়িভাড়া ভাতার হার কমে যাওয়ায় তাঁর মোট আয় কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। দশম গ্রেডে ৫০ শতাংশ হারে বাড়িভাড়া ভাতা ২৪ হাজার ৮৫০ টাকা হলেও নবম গ্রেডে ৪৫ শতাংশ হারে তা দাঁড়াবে ২২ হাজার ৯৫০ টাকা। অর্থাৎ বাড়িভাড়া ভাতা কমবে ১ হাজার ৯০০ টাকা।

ফলে মূল বেতন বাড়লেও বাড়িভাড়া ভাতা কমে যাওয়ায় মূল বেতন ও বাড়িভাড়া মিলিয়ে মাসিক আয় ৬০০ টাকা কমে যেতে পারে বলে কর্মচারীদের হিসাব।

বেতন নির্ধারণের পাশাপাশি উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার যোগ্যতা ও সময় নির্ধারণ নিয়েও আপত্তি জানিয়েছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। আইবাস++ ব্যবস্থায় নতুন কাঠামো অনুযায়ী বেতন নির্ধারণের প্রক্রিয়া নিয়েও নানা জটিলতার কথা জানিয়েছেন তাঁরা।

সব মিলিয়ে নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের শুরুতেই গ্রেড, বেতন ও ভাতা নির্ধারণে নানা অসংগতি দেখা দিয়েছে। ফলে অনেক সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ১ নভেম্বর থেকে বর্ধিত বেতন পাওয়ার পরিবর্তে আপাতত পুরোনো কাঠামো অনুযায়ী বেতন পেতে পারেন। তাঁদের বর্ধিত বেতন ও তিন মাসের বকেয়া অর্থ কখন সমন্বয় করা হবে, সে বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট সময়সীমা জানা যায়নি।

জাহিদ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর

উ
প
রে