×
ঢাকা, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬

রাজস্থানের ইউটিউবারকে কেন্দ্র করে ট্রোলের মুখে পিনাকী

২০২৬ নভেম্বর ০১ ১০:৫৬:২৩
রাজস্থানের ইউটিউবারকে কেন্দ্র করে ট্রোলের মুখে পিনাকী

নিজস্ব প্রতিবেদক: সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লাখ লাখ ফলোয়ার আর ডিজিটাল জনপ্রিয়তা থাকলেই কি ভোটের মাঠে বিজয় নিশ্চিত? ভারতের রাজস্থানের এক সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সারের চরম ভরাডুবি এই পুরোনো প্রশ্নটিকে আবারও সামনে এনেছে। আর সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গন, বিশেষ করে সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা ও ট্রল। এই ঘটনার সূত্রে অনলাইন ইনফ্লুয়েন্সার পিনাকী ভট্টাচার্য এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর অনলাইন উপস্থিতির সঙ্গে মাঠের ভোটের পার্থক্যের প্রসঙ্গ টেনে আনছেন নেটিজেনরা।

সম্প্রতি ভারতের রাজস্থানের যোধপুর জেলার ওসিয়ান তহসিলের একটি গ্রাম পঞ্চায়েত নির্বাচনে সরপঞ্চ পদে প্রার্থী হয়েছিলেন ওম প্রকাশ বিষ্ণোই। নিজেকে একজন জ্যোতিষী ও ইউটিউবার হিসেবে পরিচয় দেওয়া এই ব্যক্তির ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও ইউটিউব মিলিয়ে ২১ লাখেরও বেশি অনুসারী রয়েছে।তবে বাস্তব ভোটের ফলাফল দেখে হতবাক সবাই। ওই গ্রামের ১ হাজার ৬০০টি ভোটের মধ্যে ওম প্রকাশ পেয়েছেন মাত্র ৩৩টি ভোট! আকাশচুম্বী ভার্চুয়াল জনপ্রিয়তার বিপরীতে মাঠের এমন চরম ব্যর্থতা প্রকাশ্যে আসতেই বিষয়টি বিশ্বজুড়ে সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়। নিজের পরাজয় মেনে নিয়ে ওম প্রকাশ নিজেও স্বীকার করেছেন যে, ভার্চুয়াল দুনিয়া আর মাঠের বাস্তব পরিস্থিতি সম্পূর্ণ আলাদা; তার পাওয়া ৩৩টি ভোটের বড় অংশই এসেছে নিজের পরিবার ও ঘনিষ্ঠজনদের কাছ থেকে।

রাজস্থানের এই খবরটি ছড়িয়ে পড়ার পর বাংলাদেশি নেটিজেনরা এটিকে দেশের বর্তমান ভার্চুয়াল রাজনীতির সাথে তুলনা করতে শুরু করেছেন। অনেকেই সামাজিক মাধ্যমে এই খবর শেয়ার করে প্রবাসী রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও আলোচিত ইনফ্লুয়েন্সার পিনাকী ভট্টাচার্যকে ইঙ্গিত করে টিপ্পনী কাটছেন। অনেকে মন্তব্য করেছেন, "দাদা (পিনাকী) ঠিক এই কারণেই বোধহয় দেশে আসেন না!"নেটিজেনদের একাংশের মতে, ইউটিউব বা ফেসবুকে লাখ লাখ ভিউ আর মিলিয়ন ফলোয়ার থাকলেই মাঠের রাজনীতি বা জনসমর্থনে তার প্রতিফলন ঘটবে—এমন ভাবা চরম ভুল। রাজস্থানের ঘটনাটি সেটাই প্রমাণ করেছে।

একই সাথে সংবাদটির মন্তব্যের ঘরে অনেকেই বিষয়টিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর অনলাইন অ্যাক্টিভিটি ও প্রচারণার সাথে তুলনা করেছেন। নেটিজেনদের একাংশের দাবি, অনলাইনে যেকোনো জনমত জরিপ বা সোশ্যাল মিডিয়া ভোটিংয়ে জামায়াত বা তাদের সমর্থকরা প্রায় ৯০ শতাংশ ভোট পেয়ে সবসময় এগিয়ে থাকে। কিন্তু সাধারণ নির্বাচনের ময়দানে ব্যালট বাক্সে এর সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র দেখা যায়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কম্পিউটার বা মুঠোফোনের স্ক্রিনে ‘লাইক-কমেন্ট’ করা আর লাইনে দাঁড়িয়ে ব্যালট বাক্সে সিল মারা এক বিষয় নয়। রাজস্থানের এই ঘটনাটি শুধু একজন ব্যক্তির ব্যর্থতা নয়, বরং এটি ডিজিটাল প্রোপাগান্ডা ও ভার্চুয়াল পপুলিজমের এক নির্মম বাস্তবতা। সোশ্যাল মিডিয়ার কৃত্রিম হাইপ মাঠের বাস্তব রাজনীতিতে এসে প্রায়শই যে মুখ থুবড়ে পড়ে, এটি তারই এক বড় উদাহরণ।

জাহিদ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর

উ
প
রে