×
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

এলপিজি ব্যবহারকারীদের জন্য দুঃসংবাদ

২০২৬ অক্টোবর ২৯ ২০:৫৫:০৯
এলপিজি ব্যবহারকারীদের জন্য দুঃসংবাদ

নিজস্ব প্রতিবেদক: আবারও বেসরকারি তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম বাড়ানোর সুপারিশ করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি। নতুন সুপারিশ অনুযায়ী, ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বর্তমান ১ হাজার ৮৩৭ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ৯৭৬ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে এটি এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়। কমিশনের ঘোষণার পরই নতুন দাম সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকাল ১০টায় রাজধানীর বিয়াম ফাউন্ডেশনে অনুষ্ঠিত এলপিজির দাম নির্ধারণসংক্রান্ত গণশুনানিতে এ সুপারিশ করা হয়। শুনানিতে এলপিজির আমদানি মূল্য, মজুতকরণ ও বোতলজাতকরণ, পরিবহন এবং বিতরণ পর্যায়ের বিভিন্ন চার্জ পর্যালোচনা করে কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি।

শুনানির ৯০ দিনের মধ্যে সুপারিশ ও মতামতের ভিত্তিতে নতুন দাম নির্ধারণের কথা রয়েছে বিইআরসির। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী সপ্তাহেই নতুন দাম ঘোষণা করতে পারে কমিশন।

কারিগরি মূল্যায়ন কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী, ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৮৩৭ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ৯৭৬ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। সে হিসাবে দাম বাড়তে পারে ১৩৯ টাকা।তবে গ্রাহক পর্যায়ে শেষ পর্যন্ত কত টাকা নির্ধারণ করা হবে, তা বিইআরসির চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।

গণশুনানিতে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, এলপিজির ইমপোর্ট প্যারিটি প্রাইস বর্তমানে প্রতি কেজিতে ১২৮ টাকা ৪০ পয়সা। নতুন প্রস্তাবে এ মূল্য প্রতি কেজিতে ১১৭ টাকা ১২ পয়সা থেকে ১২৯ টাকা ৫০ পয়সার মধ্যে নির্ধারণের কথা বলা হয়। এর মধ্যে কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি প্রতি কেজিতে ১২৮ টাকা ৭০ পয়সা নির্ধারণের সুপারিশ করেছে।

এলপিজির আমদানি মূল্য ছাড়াও মজুতকরণ, বোতলজাতকরণ, পরিবহন ও বিতরণ পর্যায়ের খরচ নতুন করে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

মজুতকরণ ও বোতলজাতকরণ চার্জের মধ্যে অপারেটরের প্লান্ট থেকে ডিস্ট্রিবিউটর পর্যন্ত পরিবহন খরচও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বর্তমানে এ চার্জ প্রতি কেজিতে ১৬ টাকা ৭৪ পয়সা।

নতুন প্রস্তাবে এ চার্জ ২৭ টাকা ৬২ পয়সা থেকে ৩৬ টাকা ৯২ পয়সা করার কথা বলা হয়েছিল। তবে কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি প্রতি কেজিতে ২৩ টাকা ৪৮ পয়সা নির্ধারণের সুপারিশ করেছে।

ডিস্ট্রিবিউটর পর্যায়ে রিটেইলারের আঙিনা পর্যন্ত পরিবহন ব্যয়সহ বর্তমান চার্জ প্রতি কেজিতে ৪ টাকা ১৭ পয়সা। নতুন প্রস্তাবে তা বাড়িয়ে ৮ টাকা ৩৪ পয়সা থেকে ১২ টাকা ৫০ পয়সা করার কথা বলা হয়। তবে কারিগরি কমিটি প্রতি কেজিতে ৬ টাকা ৬৭ পয়সা নির্ধারণের সুপারিশ করেছে।

অন্যদিকে, হোম ডেলিভারি চার্জ ছাড়া রিটেইলার চার্জ বর্তমানে প্রতি কেজিতে ৩ টাকা ৭৫ পয়সা। এ চার্জ ৫ টাকা ৮৩ পয়সা থেকে ৭ টাকা ৫০ পয়সা করার প্রস্তাব করা হয়েছিল। কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি প্রতি কেজিতে ৫ টাকা ৮৩ পয়সা নির্ধারণের সুপারিশ করেছে।

সব পর্যায়ের খরচ বিবেচনায় রিটেইলার পয়েন্টে এলপিজির বর্তমান মূল্য প্রতি কেজিতে ১৫৩ টাকা ৬০ পয়সা। নতুন প্রস্তাবে এ মূল্য ১৫৮ টাকা ৯১ পয়সা থেকে ১৮৫ টাকা ৯৭ পয়সার মধ্যে নির্ধারণের কথা বলা হয়। তবে কারিগরি কমিটি প্রতি কেজিতে ১৬৪ টাকা ৬৮ পয়সা নির্ধারণের সুপারিশ করেছে।

গণশুনানিতে এলপিজির দাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে গ্রাহকদের স্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভোক্তা অধিকারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) উপদেষ্টা খলিলুর রহমান বলেন, এলপিজির দাম বাড়ানোর ক্ষেত্রে গ্রাহকদের সুবিধা-অসুবিধা বিবেচনা করা বিইআরসির দায়িত্ব। তা না হলে এ ধরনের গণশুনানির যথার্থতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে।

সিনিয়র সাংবাদিক সিরাজুল ইসলামও বারবার ব্যবসায়ীদের প্রস্তাবের ভিত্তিতে দাম বাড়ানোর বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁর মতে, এভাবে দাম বাড়তে থাকলে বিইআরসির ওপর গ্রাহকদের আস্থা কমে যেতে পারে।

তিনি বলেন, গ্রাহকেরা কেন ন্যায্য দামে এলপিজি পাচ্ছেন না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। পাশাপাশি বেশি দামে বিক্রি ও কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগের বিষয়েও বিইআরসির কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া উচিত।

গণশুনানিতে কারিগরি মূল্যায়ন কমিটির সুপারিশের পাশাপাশি ভোক্তা ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মতামত উঠে এসেছে। এসব পর্যালোচনা করে কমিশন নতুন দাম নির্ধারণ করবে।

তবে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৯৭৬ টাকা করার সুপারিশকে এখনই চূড়ান্ত মূল্য হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই। বিইআরসির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত বর্তমান নির্ধারিত দামই প্রযোজ্য থাকবে।

সাদ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর

উ
প
রে