×
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

সব সম্পত্তির বিনিময়ে হলেও মুক্তি চান মাদ্রাসাশিক্ষক

২০২৬ অক্টোবর ২৯ ১৯:৪০:৩২
সব সম্পত্তির বিনিময়ে হলেও মুক্তি চান মাদ্রাসাশিক্ষক

নিজস্ব প্রতিবেদক: নেত্রকোনার মদনে ১১ বছরের শিশুকে ধর্ষণের মামলায় মাদ্রাসাশিক্ষক আমান উল্লাহ মাহমুদী ওরফে সাগরের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার রায় আগামী ১১ নভেম্বর ঘোষণা করা হবে। বুধবার (২৮ অক্টোবর) যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে নেত্রকোনা জেলা ও দায়রা জজ এবং শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. আব্দুছ সালাম এ তারিখ নির্ধারণ করেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, শুনানির একপর্যায়ে বিচারকের অনুমতি নিয়ে নিজের সব সম্পদের বিনিময়ে হলেও মামলা থেকে মুক্তি চান প্রধান আসামি সাগর। এ সময় তিনি স্ত্রী ও সন্তানের কথা উল্লেখ করে বলেন, দীর্ঘদিন কারাগারে থাকলে তাদের দেখাশোনা ও ভরণপোষণ কঠিন হয়ে পড়বে।

শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবী আনিসুর রহমান আপসের প্রসঙ্গ তুললে বিচারক তা নাকচ করেন। বিচারক জানান, তারা কখনো আপসের বিষয়ে কথা বলেননি। এ সময় ঘটনাস্থলের আশপাশে সিসিটিভি ক্যামেরা ছিল কি না, তা-ও জানতে চান আদালত।

রাষ্ট্রপক্ষের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মো. নূরুল কবীর রুবেল যুক্তিতর্কে বলেন, ওই শিক্ষক একাধিকবার শিশুটিকে ধর্ষণ করেছেন। রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষ্য, নথিপত্র ও বৈজ্ঞানিক প্রমাণের ভিত্তিতে আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। রাষ্ট্রপক্ষ আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি চেয়েছে।

পুলিশ ও মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, মদনের কাইটাইল ইউনিয়নের একটি মহিলা কওমি মাদ্রাসায় পড়ত শিশুটি। ওই প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ও শিক্ষক ছিলেন আমান উল্লাহ সাগর। অভিযোগ অনুযায়ী, মাদ্রাসায় থাকা অবস্থায় বিভিন্ন সময়ে শিশুটিকে ধর্ষণ করেন তিনি।

পরে শিশুটির শারীরিক পরিবর্তন পরিবারের নজরে এলে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে জানা যায়, সে অন্তঃসত্ত্বা। এরপর গত ২৩ এপ্রিল শিশুটির মা বাদী হয়ে মদন থানায় মামলা করেন। মামলায় সাগরের পাশাপাশি তার ভাই মামুন মিয়াকেও আসামি করা হয়।

মামলার পর আত্মগোপনে চলে যান সাগর। পরে ৬ মে ময়মনসিংহের গৌরীপুর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। আদালত তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ড শেষে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। একই সঙ্গে ডিএনএ নমুনা সংরক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়।

মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসে শিশুটির সন্তান জন্মের পর। আদালতের নির্দেশে শিশুটির নবজাতক এবং মামলার আসামি সাগরের নমুনা সংগ্রহ করে ডিএনএ পরীক্ষা করা হয়।

আগস্টে প্রকাশিত সিআইডির চূড়ান্ত প্রতিবেদনে নবজাতকের সঙ্গে সাগরের ডিএনএর ৯৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ মিল পাওয়ার কথা জানানো হয়। তদন্তে এটি গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

এরপর ২৮ আগস্ট মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মদন থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আক্তারুজ্জামান আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এতে আমান উল্লাহ মাহমুদী ওরফে সাগর এবং তার ভাই মাইমুন ওরফে মামুন মিয়াকে অভিযুক্ত করা হয়।

যুক্তিতর্ক শেষে রাষ্ট্রপক্ষের পিপি নূরুল কবীর রুবেল বলেন, মামলার প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও যুক্তি আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, অভিযোগ প্রমাণে তারা সক্ষম হয়েছেন এবং আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি হবে বলে তারা আশা করছেন।

আগামী ১১ নভেম্বর আদালতের রায়ের মাধ্যমে মামলাটির বিচারিক কার্যক্রমের পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানা যাবে।

সাদ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর

উ
প
রে