×
ঢাকা, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে পোশাক রপ্তানিতে সুসংবাদ

২০২৬ অক্টোবর ২৮ ১৬:৪৭:৫৬
চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে পোশাক রপ্তানিতে সুসংবাদ

নিজস্ব প্রতিবেদক: চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর) দেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি আয়ে ৬ দশমিক ১০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। এই তিন মাসে মোট ১০ হাজার ৫৭৮ দশমিক ৫৬ মিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছে, যা গত অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৯ হাজার ৯৭০ দশমিক ৪২ মিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে এই খাতে অতিরিক্ত ৬০৮ দশমিক ১৪ মিলিয়ন ডলার আয় যুক্ত হয়েছে। তবে এই অর্জনের বড় অংশজুড়েই রয়েছে মাত্র তিনটি প্রচলিত পণ্য—ট্রাউজার, শর্টস ও স্কার্ট, সোয়েটার এবং টি-শার্ট। এর বিপরীতে উচ্চমূল্যের কিছু পোশাকের রপ্তানি কমে যাওয়ায় মোটের ওপর ওই পণ্যগুলোর হিস্যা সংকুচিত হয়েছে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, আলোচিত সময়ে মৌলিক বা বেসিক পোশাক রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৮ হাজার ২৫৭ দশমিক ৪২ মিলিয়ন ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ৭ হাজার ৬৮৪ দশমিক ৭৩ মিলিয়ন ডলার। এতে ৭ দশমিক ৪৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হওয়ায় অতিরিক্ত ৫৭২ দশমিক ৬৯ মিলিয়ন ডলার আয় বেড়েছে। ফলে মোট পোশাক রপ্তানিতে এই শ্রেণির অবদান ৭৭ দশমিক ০৮ শতাংশ থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৮ দশমিক ০৬ শতাংশে।

মৌলিক পোশাকগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বৈদেশিক মুদ্রা এসেছে ট্রাউজার, শর্টস ও স্কার্ট থেকে। জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে এই পণ্যগুলো রপ্তানি করে আয় হয়েছে ৩ হাজার ২৮৫ দশমিক ৫৫ মিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের ৩ হাজার ৮৪ দশমিক ৪৪ মিলিয়ন ডলারের তুলনায় ৬ দশমিক ৫২ শতাংশ বেশি। এ খাতে এক বছরে ২০১ দশমিক ১১ মিলিয়ন ডলার আয় বেড়েছে।

আয়ের দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে সোয়েটার ও কার্ডিগান। এই খাত থেকে রপ্তানি আয় ১ হাজার ৮৭০ দশমিক ১৮ মিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ২ হাজার ৪৮ দশমিক ২৯ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। এখানে ৯ দশমিক ৫২ শতাংশ প্রবৃদ্ধির ফলে অতিরিক্ত ১৭৮ দশমিক ১১ মিলিয়ন ডলার যুক্ত হয়েছে। একইভাবে টি-শার্ট ও ভেস্ট রপ্তানি থেকে এসেছে ১ হাজার ৫৮১ দশমিক ৮০ মিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের ১ হাজার ৪৭৭ দশমিক ৫৭ মিলিয়ন ডলারের তুলনায় ৭ দশমিক ০৫ শতাংশ বেশি। এই তিন ক্যাটাগরির পণ্য মিলিয়ে মোট রপ্তানি আয় বেড়েছে ৪৮৩ দশমিক ৪৫ মিলিয়ন ডলার, যা সামগ্রিক পোশাক রপ্তানি প্রবৃদ্ধির প্রায় ৮০ শতাংশ। ফলে সার্বিক আয় বৃদ্ধিতে প্রচলিত পণ্যগুলোর আধিপত্যই সবচেয়ে বেশি স্পষ্ট হয়েছে।

এ ছাড়া আন্ডারওয়্যার, স্লিপওয়্যার ও অন্যান্য অন্তর্বাসজাত পণ্য থেকে ৯৭২ দশমিক ১৬ মিলিয়ন ডলার আয় হয়েছে, যা আগের বছরের ৯১৪ দশমিক ৭৪ মিলিয়ন ডলারের তুলনায় ৬ দশমিক ২৮ শতাংশ বেশি। মৌলিক ক্যাটাগরির মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১০ দশমিক ১৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে শিশুদের পোশাকে। এই খাতে আয় ৩০০ দশমিক ৩৯ মিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ৩৩১ মিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে। তবে আনুষঙ্গিক ছোটখাটো পণ্য, গ্লাভস ও হোসিয়ারি রপ্তানি থেকে সামান্য ৩৮ দশমিক ৬৩ মিলিয়ন ডলার আয় এসেছে, যেখানে প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ২৩ শতাংশ।

অন্যদিকে সেমি-বেসিক বা আধা-মৌলিক ক্যাটাগরির শার্ট ও ব্লাউজ রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৮৪১ দশমিক ৭৩ মিলিয়ন ডলার। আগের বছরের ৮২৭ দশমিক ০৬ মিলিয়ন ডলারের তুলনায় এই খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে মাত্র ১ দশমিক ৭৭ শতাংশ। এর ফলে মোট রপ্তানিতে এই শ্রেণির অংশ ৮ দশমিক ৩০ শতাংশ থেকে কমে ৭ দশমিক ৯৬ শতাংশে নেমে এসেছে।

বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের (বিএভি) প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মহিউদ্দিন রুবেল জানান, দেশের পোশাক রপ্তানির অংক বাড়লেও মূল চালিকাশক্তি এখনো সেই প্রচলিত পণ্যগুলোই রয়ে গেছে। মৌলিক পোশাকের হিস্যা বাড়ার পাশাপাশি উন্নত শ্রেণির পণ্যের অংশ কমে যাওয়ায় পণ্য বৈচিত্র্যকরণ এবং উচ্চমূল্যের বাজারে নিজেদের অবস্থান পোক্ত করার চ্যালেঞ্জটি আরও স্পষ্ট রূপ নিয়েছে। দীর্ঘ মেয়াদে দেশের রপ্তানি আয় স্থায়ীভাবে বাড়াতে হলে কেবল প্রচলিত পণ্যের ওপর নির্ভর না করে উচ্চমূল্য সংযোজনকারী পোশাকের উৎপাদন ও বাজার সম্প্রসারণে জোরালো নজর দিতে হবে।

এদিকে উচ্চমূল্য সংযোজনের সম্ভাবনা জাগানো অ্যাডভান্সড বা উন্নত শ্রেণির পোশাক রপ্তানির প্রবৃদ্ধি বেশ ধীরগতির। জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে এই খাত থেকে ১ হাজার ৪৭৯ দশমিক ৪১ মিলিয়ন ডলার আয় হয়েছে, যা আগের বছরের ১ হাজার ৪৫৮ দশমিক ৬৪ মিলিয়ন ডলারের তুলনায় মাত্র ১ দশমিক ৪২ শতাংশ বেশি। অর্থাৎ এই খাতে অতিরিক্ত আয় এসেছে মাত্র ২০ দশমিক ৭৭ মিলিয়ন ডলার। ফলস্বরূপ, মোট পোশাক রপ্তানিতে এই শ্রেণির হিস্যা ১৪ দশমিক ৬৩ শতাংশ থেকে কমে ১৩ দশমিক ৯৮ শতাংশে নেমে গেছে।

উন্নত ক্যাটাগরির পণ্যের মধ্যে জ্যাকেট ও কোটসহ আউটারওয়্যার রপ্তানি করে আয় হয়েছে ৯৯১ দশমিক ৬৯ মিলিয়ন ডলার, যেখানে প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৪৯ শতাংশ। পাশাপাশি টেকনিক্যাল ওয়্যার রপ্তানি ৮ দশমিক ০৭ শতাংশ বেড়ে ২৪৬ দশমিক ৮৬ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। তবে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পোশাকের শ্রেণিতে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে ড্রেস রপ্তানি ১০ দশমিক ৬৬ শতাংশ কমে ১২৪ দশমিক ১৯৬৫ মিলিয়ন ডলারে নেমেছে। এছাড়া স্পোর্টসওয়্যার ও অ্যাকটিভওয়্যার থেকে আয় ১১ দশমিক ২৪ শতাংশ কমে ৮০ দশমিক ৪৪ মিলিয়ন ডলারে এবং স্যুট ও এনসেম্বল রপ্তানি ১৪ দশমিক ৪৮ শতাংশ কমে ৩৫ দশমিক ৭৮ মিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে।

মিজান/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর

উ
প
রে