×
ঢাকা, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

আইন শিথিলের পর চেয়ারম্যান একাই কিনছেন সাড়ে ১১ কোটি শেয়ার

২০২৬ অক্টোবর ২৮ ১৬:৩৬:৫৯
আইন শিথিলের পর চেয়ারম্যান একাই কিনছেন সাড়ে ১১ কোটি শেয়ার

নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত বেসরকারি খাতের ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক পিএলসি (ইউসিবি)-এর সাড়ে ১১ কোটি (১১ কোটি ২০ লাখ) শেয়ার কেনার ঘোষণা দিয়েছে ব্যাংকটির চেয়ারম্যান শরীফ জহিরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুই প্রতিষ্ঠান। বাংলাদেশ ব্যাংক শেয়ার ধারণের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু আইনি বাধ্যবাধকতা শিথিল করার পর পরই এই সিদ্ধান্ত সামনে এলো।

স্টক এক্সচেঞ্জে জমা দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চেয়ারম্যান শরীফ জহিরের সঙ্গে যুক্ত জেড অ্যান্ড জেড ইনটিমেটস লিমিটেড ৩ কোটি এবং অনন্তা ডেনিম টেকনোলজি লিমিটেড ৮ কোটি ২০ লাখ শেয়ার কেনার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসইর) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) পাবলিক অথবা ব্লক মার্কেটের মাধ্যমে এই সাধারণ শেয়ারগুলো কেনা হবে।

উভয় প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাবিত এই শেয়ারের পরিমাণ ইউসিবি ব্যাংকের মোট পরিশোধিত মূলধনের প্রায় ৪.৮১ শতাংশ। বর্তমানে ব্যাংকটির স্পন্সর ও পরিচালকদের হাতে যৌথভাবে মাত্র ১০.২৭ শতাংশ শেয়ার রয়েছে, যা নিয়ম অনুযায়ী বাধ্যতামূলক ৩০ শতাংশ পরিচালক-শেয়ার ধারণের শর্তের চেয়ে অনেক কম।

এই বড় ঘোষণার পরদিনই শেয়ারবাজারে ইউসিবির শেয়ারের দর ৯.৫২ শতাংশ লাফিয়ে প্রতি শেয়ার ৯ টাকা ২০ পয়সায় উন্নীত হয়েছে। বাজারদর অনুযায়ী, ১১ কোটি ২০ লাখ শেয়ার কিনতে প্রতিষ্ঠান দুটির খরচ হবে প্রায় ১০৩ কোটি ৪ লাখ টাকা।

এর আগে গত ২৬ অক্টোবর ব্যাংক কোম্পানি আইনের মূল কিছু বাধ্যবাধকতা থেকে ইউসিবিকে বিশেষ ছাড় দিয়ে সার্কুলার জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই প্রজ্ঞাপনের ফলে পরিচালক-স্পন্সরদের যৌথভাবে ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণের বাধ্যবাধকতা থেকে ছাড় পায় ইউসিবি। পাশাপাশি কোনো একক ব্যক্তি, পরিবার বা প্রতিষ্ঠান সর্বোচ্চ ১০ শতাংশের বেশি শেয়ার ধারণ করতে পারবে না—ব্যাংক কোম্পানি আইনের ১৪এ(১) ধারার এই নিয়মটিতেও ইউসিবির জন্য শিথিলতা আনা হয়।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ব্যাংকটির সাবেক চেয়ারম্যান সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে বড় ধরনের আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ প্রকাশ পায়। পরবর্তীতে তাঁর পরিবার দেশ ছেড়ে পালালে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ইউসিবির পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেয় এবং সাবেক চেয়ারম্যান ও তাঁর স্বজনদের শেয়ার বাজেয়াপ্ত করা হয়। এতে স্পন্সর-পরিচালকদের শেয়ার ধারণের পরিমাণ আইনি সীমার (৩০%) নিচে নেমে যায়, যার ফলে নতুন শেয়ার ইস্যু বা কৌশলগত বিনিয়োগকারী যুক্ত করার ক্ষেত্রে আইনি জটিলতার মুখে পড়ে ইউসিবি।

এই সংকট কাটিয়ে উঠতে এবং ব্যাংকের আর্থিক ভিত্তি মজবুত করতে আইনগত ছাড় চেয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে আবেদন জানিয়েছিল ইউসিবি কর্তৃপক্ষ। বাংলাদেশ ব্যাংকের এই বিশেষ অনুমোদনের ফলে এখন ইউসিবি দেশি-বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বা কৌশলগত বিনিয়োগকারীদের কাছে ১০ শতাংশ সীমার ঊর্ধ্বে শেয়ার ইস্যু করার আইনগত সুযোগ পেল।

ইউসিবি পরিচালনা পর্ষদ জানিয়েছে, ব্যাংকটিকে একটি স্বচ্ছ ও সুসংগঠিত প্রতিষ্ঠানে রূপ দিতে ব্যাংকের মূলধন ভিত্তি শক্তিশালী করাই এখন তাঁদের মূল লক্ষ্য। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ইউসিবি ইতোমধ্যেই ৭৭৫ কোটি টাকার রাইটস শেয়ার এবং ৮০০ কোটি টাকার সাবঅর্ডিনেটেড বন্ড ইস্যুর উদ্যোগ নিয়েছে। ব্যাংক কর্তৃপক্ষের মতে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই ছাড়ের ফলে তাদের ব্যালেন্স শিট পুনর্গঠনে বড় অঙ্কের কৌশলগত বিনিয়োগ নিশ্চিত করার পথ আরও সহজ হলো।

মামুন/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর

উ
প
রে